ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়াসহ মশাবাহিত রোগের বিস্তার রোধে চট্টগ্রাম নগরের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ মশক নিধন ক্রাশ প্রোগ্রাম ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) মেয়রের নির্দেশনায় নগরের ২৯, ৩০ ও ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে বিশেষ মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এ সময় বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনের মাধ্য মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত ও ধ্বংস করা হয়। পাশাপাশি মশার লার্ভা নিধনে প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রয়োগ এবং নগরবাসীকে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে সচেতন করা হয়।
অভিযানের অংশ হিসেবে মশার প্রজননস্থল সৃষ্টির জন্য দায়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে ভ্রাম্যমাণ আদালতও পরিচালনা করা হয়।
কার্যক্রমে চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, মশক ও ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা শরফুল ইসলাম মাহিসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী বলেন, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়াসহ মশাবাহিত রোগের বিস্তার রোধে সিটি করপোরেশন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে বিশেষ মশক নিধন ক্রাশ প্রোগ্রাম ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, শুধু সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমের মাধ্যমে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে নগরবাসীকেও সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বাড়ি, ছাদ, নির্মাণাধীন ভবন ও আশপাশে কোথাও যেন পানি জমে না থাকে, সেদিকে সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ডেঙ্গু ও মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি কমিয়ে একটি নিরাপদ নগর গড়ে তুলতে চায় চসিক। এ ক্ষেত্রে নগরবাসীর সচেতনতা ও সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
চসিক জানিয়েছে, নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রমের পাশাপাশি নগরের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ ক্রাশ প্রোগ্রাম অব্যাহত থাকবে। পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন ওয়ার্ডে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
এদিকে, নগরবাসীকে বাড়ির আঙিনা, ছাদ, নির্মাণাধীন ভবন ও আশপাশের এলাকায় পানি জমতে না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে চসিক। বিশেষ করে ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, পুরোনো টায়ার, ডাবের খোসাসহ যেসব স্থানে পানি জমে থাকতে পারে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার ও জমে থাকা পানি অপসারণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এমআর/বিআরইউ
