চট্টগ্রাম নগরীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার জন্য মশক নিয়ন্ত্রণে নিয়োজিত কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী।
তিনি বলেছেন, আপনারা যেখানে কাজ করবেন, মনে রাখবেন আপনাদের একটি সঠিক স্প্রে একজন নাগরিকের জীবনের নিরাপত্তা দিতে পারে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) চসিকের লাইব্রেরি ভবনের কনফারেন্স রুমে মেডিসিন্স সান্স ফ্রন্টিয়ার্সের (এমএসএফ) সহযোগিতায় মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মীদের তিন দিনব্যাপী বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন। প্রশিক্ষণ চলবে ৬ থেকে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এতে চসিকের মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে নিয়োজিত ২৩৪ জন মশক ও ফগার কর্মী অংশ নিচ্ছেন।
ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী বলেন, আমরা এখন ডেঙ্গু নিয়ে বেশি কাজ করছি। মশক নিয়ন্ত্রণের কাজে নিয়োজিত কর্মীদের নিজেদের নিরাপত্তার বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমএসএফ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) দিয়েছে। এসব সরঞ্জাম প্রশিক্ষণের পাশাপাশি কর্মীদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।
তিনি বলেন, মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মীদের দায়িত্ব শুধু নির্ধারিত এলাকায় স্প্রে করা নয়। এর সঙ্গে নগরবাসীর জীবন ও নিরাপত্তা সরাসরি জড়িত। তাই দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের অবহেলা করা যাবে না।
প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা বলেন, যদি মনে করেন, আমাকে ডিউটি দিয়েছে— মশা মেরে চলে গেলাম, তাহলে ভুল হবে। আপনাদের ওপর অনেক বড় দায়িত্ব রয়েছে। নাগরিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখেই দায়িত্ব পালন করতে হবে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে চসিক মেয়রের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন মশক নিধন ও ডেঙ্গু প্রতিরোধের বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক ও আন্তরিক। তিনি এ বিষয়ে সবসময় আমাদের উৎসাহিত করছেন এবং কার্যক্রম জোরদারে গুরুত্ব দিচ্ছেন। নগরবাসীকে ডেঙ্গুর ঝুঁকি থেকে নিরাপদ রাখতে তার আন্তরিক প্রচেষ্টা প্রশংসনীয়।
তিনি আরও বলেন, মেয়রের নেতৃত্বে মশক নিয়ন্ত্রণে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমে যে অগ্রগতি হয়েছে, আমরা তা ধরে রাখতে চাই। তার দিকনির্দেশনায় আরও আন্তরিকভাবে কাজ করতে চাই, যাতে চট্টগ্রাম নগরবাসী নিরাপদে থাকতে পারেন।
নাগরিকদের প্রতি দায়বদ্ধতার কথা তুলে ধরে ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী বলেন, নাগরিকদের ট্যাক্সের টাকায় আমাদের বেতন হয়। তাই তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্বও আমাদের। একটি সঠিক স্প্রে একজন নাগরিককে ডেঙ্গুর ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে পারে এই বিষয়টি প্রতিটি কর্মীকে মাথায় রাখতে হবে। তিনি প্রশিক্ষণে মনোযোগ দিয়ে অংশ নেওয়া এবং প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান মাঠপর্যায়ে যথাযথভাবে প্রয়োগের আহ্বান জানান।
এমএসএফের দুই বিশেষজ্ঞ কীটতত্ত্ববিদ প্রশিক্ষণটি পরিচালনা করছেন। এতে মশার বিভিন্ন প্রজাতি শনাক্তকরণ, জীবনচক্র ও আচরণ, সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত ও নিয়ন্ত্রণ, সমন্বিত মশক নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি এবং কীটনাশক নিরাপদে সংরক্ষণ, মিশ্রণ ও প্রয়োগের কৌশল শেখানো হচ্ছে। পাশাপাশি মাঠকর্মীদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এমএসএফের পক্ষ থেকে চসিককে ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) প্রদানের ধারাবাহিকতায় এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এর মাধ্যমে মশক নিয়ন্ত্রণে নিয়োজিত সম্মুখসারির কর্মীদের দক্ষতা ও নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে।
জেআই
