সাবেক সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ ও তার স্ত্রী দিলশাদ নাহার কাকলীর দাখিল করা সম্পদ বিবরণীর হিসাব যাচাইয়ে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
তাদের দাখিল করা সম্পদ বিবরণীর তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে বাস্তব সম্পদের সঙ্গে হিসাবের মিল এবং কোনো অসঙ্গতি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করেছে কমিশন।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে এ বিষয়র সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জনসংযোগ দপ্তর সূত্র থেকে জানা গেছে।
দুদকের উপপরিচালক মো. জাকারিয়ার স্বাক্ষর করা চিঠিতে দাখিল করা সম্পদ বিবরণী ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা করে দ্রুত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে অনুসন্ধান কর্মকর্তা সহকারী পরিচালক মো. সাজ্জাদ হোসেনকে।
আজিজ আহমেদের দাখিল করা মূল সম্পদ বিবরণীসহ মোট ৩১ পাতার নথিপত্র চিঠির সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে।
একই অনুসন্ধান টিমকে আজিজ আহমেদের স্ত্রী দিলশাদ নাহার কাকলীর সম্পদ বিবরণী যাচাইয়ের দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে। তার চার পাতার মূল সম্পদ বিবরণীসহ মোট ১৪ পাতার নথিপত্র সংযুক্ত করা হয়েছে।
২০২৪ সালের মে মাসে দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগে আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য নিষেধাজ্ঞামূলক পদক্ষেপ নেয় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের অভিযোগ ছিল, তিনি সরকারি প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করে তার এক ভাইকে অপরাধের দায় থেকে বাঁচাতে সহায়তা করেছেন, সামরিক চুক্তি পাইয়ে দিতে প্রভাব খাটিয়েছেন এবং সরকারি নিয়োগের বিনিময়ে ঘুষ গ্রহণ করেছেন।
এরপর ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে আজিজ আহমেদ এবং তার দুই ভাই হারিস আহমেদ ও তোফায়েল আহমেদ জোসেফের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ, অর্থ পাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক।
সাবেক সেনাপ্রধান আজিজের বিরুদ্ধে ক্ষমতা অপব্যবহারের মাধ্যমে বিভিন্ন দুর্নীতি ও অনৈতিক কার্যক্রমসহ নানাবিধ অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে রাজধানীসহ বিভিন্ন জায়গায় বাড়ি, ফ্ল্যাট ক্রয়সহ ১০০ কোটি বিনিয়োগ করে আলিশান বাংলো নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে সাবেক এ সেনাপ্রধান মিরপুর ডিওএইচএস মিরপুরে বাড়ি ও ঢাকার নিকুঞ্জ-১ এর ৬ নম্বর রোডে আজিজ রেসিডেন্স নামীয় বাড়ি কিনেছেন। অন্যদিকে তার ছোট ভাই তোফায়েল আহমেদ ও জোসেফের নামে ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় বাড়ি ও কয়েকশ বিঘা জমি ক্রয় করার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও দেশে-বিদেশে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ থাকার অভিযোগ রয়েছে। অনুসন্ধানের ধারাবাহিকতায় তাদের বিদেশ নিষেধাজ্ঞা দেয় দুদক।
এর আগে ২০২১ সালে আল জাজিরার অনুসন্ধানী প্রতিবেদন All the Prime Minister’s Men-এ আজিজ আহমেদের ভাই হারিস আহমেদের ভুয়া পরিচয় ও পাসপোর্ট ব্যবহার, বিদেশে ব্যবসা ও সম্পদ অর্জন এবং আজিজ আহমেদের সঙ্গে তার যোগাযোগসহ বিভিন্ন অভিযোগ ও তথ্য তুলে ধরা হয়।
আরএম/আরএফ
