বিজ্ঞাপন

চট্টগ্রামের ডিসি

সমাজ পরিবর্তনে ইমাম ও ধর্মীয় নেতাদের অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে

সমাজ পরিবর্তনে ইমাম ও ধর্মীয় নেতাদের অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে

সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে ইমাম ও ধর্মীয় নেতাদের অগ্রণী ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, শিক্ষক ও ইমামদের মানুষ অত্যন্ত সম্মানের চোখে দেখেন এবং সমাজে তাদের যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে। এই গ্রহণযোগ্যতাকে কাজে লাগিয়ে মাদক, সুদ, ঘুষ ও দুর্নীতির মতো সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে মানুষকে সচেতন করতে হবে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের সম্মেলনকক্ষে ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও সুরক্ষা এবং ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের ভূমিকা’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক এ কথা বলেন।

একই কর্মশালায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে জেলার প্রায় দুই হাজার মসজিদ ও এর আশপাশে একযোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার ঘোষণা দেন তিনি। আগামী শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় এ কার্যক্রম শুরু হবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয় ও ইউনিসেফের আয়োজনে এবং চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক (গ্রেড-১) মুফতি মুহাম্মদ মুহিববুল্লাহিল বাকী নদভী। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমি, ঢাকার পরিচালক সরকার সারোয়ার আলম। সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব তুলে ধরে জেলা প্রশাসক বলেন, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। গত ২৫ জুলাই থেকে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রতি শনিবার জেলার বিভিন্ন স্থানে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। সরকারি কার্যালয়ের প্রাঙ্গণ ও ছাদ, পুকুর এবং জলাশয়সহ ডেঙ্গুর উচ্চঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো এ কার্যক্রমের আওতায় রয়েছে।

এর ধারাবাহিকতায় আগামী শনিবার জেলার প্রায় দুই হাজার মসজিদ ও মসজিদ প্রাঙ্গণে একযোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানান তিনি।

মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এই উদ্যোগ শুধু ডেঙ্গু প্রতিরোধের জন্য নয়; পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও নান্দনিক চট্টগ্রাম গড়ে তোলার একটি সামাজিক আন্দোলন। পরিচ্ছন্নতা শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয়, এটি প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব।’

তিনি বলেন, ‘পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ। মসজিদ ও মসজিদ প্রাঙ্গণ যেন মানুষের জন্য পরিচ্ছন্ন ও নির্মল প্রার্থনার স্থান হয়। সবার সামর্থ্য এক নয়, কিন্তু এ কাজে আন্তরিকতার ঘাটতি থাকা উচিত নয়।’

জেলা প্রশাসক বলেন, ধর্মীয় আলোচনায় সমাজের বাস্তব সমস্যাগুলো তুলে ধরতে হবে। মাদক, সুদ, ঘুষ ও দুর্নীতির মতো অপরাধের বিরুদ্ধে মানুষকে সচেতন করতে হবে। ধর্মীয় নেতাদের আচরণ ও বক্তব্য এমন হওয়া উচিত, যাতে সাধারণ মানুষ তাদের রোল মডেল হিসেবে গ্রহণ করেন।

তিনি বলেন, বর্তমান প্রজন্মের জন্য কেমন সমাজ রেখে যাওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে সবাইকে ভাবতে হবে। সন্তানদের মূল্যবোধসম্পন্ন এবং বাবা-মা ও গুরুজনদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল করে তোলার দায়িত্ব পরিবার ও সমাজের।

তিনি আরও বলেন, ‘শুধু অন্যকে দোষ দিয়ে সমাজের পরিবর্তন হবে না। আমি নিজে সমাজের জন্য কী করছি, সেটিও ভাবতে হবে। নিজের দায়িত্ব উপলব্ধি না করলে বড় বড় কথা বলেও বাস্তব পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়।’

সময়ের যথাযথ ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, অর্থ দিয়ে অনেক কিছু কেনা গেলেও সময় কেনা যায় না। তাই প্রত্যেকের উচিত নিজের সময় ও সামর্থ্য সমাজের কল্যাণে ব্যয় করা।

দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ জনগণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষকে মূল্যবোধসম্পন্ন, মানবিক ও দেশপ্রেমিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। ‘এই দেশটা আমাদের, আমাদেরকেই এটি সাজাতে হবে।’

কর্মশালায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, ইউনিসেফের প্রতিনিধি এবং চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ইমাম, খতিব, আলেম-ওলামা ও ধর্মীয় নেতারা অংশ নেন।

এএইচ/জেডএস