বিজ্ঞাপন

স্ত্রীকে হত্যা করে শ্বশুরবাড়িতে ফোন করে জানান স্বামী

স্ত্রীকে হত্যা করে শ্বশুরবাড়িতে ফোন করে জানান স্বামী

রাজধানীর শেওড়াপাড়ায় পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রী সানজিদা আক্তারকে (২০) মারধর করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী শুকরান এস এম শান্তর বিরুদ্ধে। স্ত্রীকে হত্যার পর শান্ত নিজেই কুমিল্লায় শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে ফোন করে তার মৃত্যুর খবর দেন। 

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পরে পরিবারের সদস্যরা ঢাকার বাসায় এসে দেখতে পান, স্বামী নিজেই স্ত্রীর মরদেহ গোসল করাচ্ছেন। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেপ্তার করে।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাতে পূর্ব শেওড়াপাড়ার অরবিট গলি ৯৫১/১ নম্বর বাসায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে কাফরুল থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন।

পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে পারিবারিকভাবে সানজিদার সঙ্গে শুকরান এস এম শান্তর বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য চলছিল। তারা পূর্ব শেওড়াপাড়া এলাকায় ওই বাসায় ভাড়া থাকতেন। তাদের কোনো সন্তান ছিল না। রোববার রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে শান্ত সানজিদাকে মারধরের স্ত্রী মারা যান। পরে শান্ত নিজেই কুমিল্লায় থাকা শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে ফোন করে সানজিদার মৃত্যুর খবর জানান।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে নিহতের পরিবারের সদস্যরা ঢাকায় এসে ওই বাসায় দেখতে পান, সানজিদার মরদেহ স্বামী শান্ত নিজেই গোসল করাচ্ছেন। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে কাফরুল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। একই সময় অভিযুক্ত স্বামী শুকরান এস এম শান্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

বিষয়টি নিশ্চিত করে কাফরুল থানার অফিসার ইনচার্জ ( ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, স্বামীর শারীরিক নির্যাতনে স্ত্রীর মৃত্যুর বিষয়টি স্বামী নিজেই পরিবারের সদস্যদের জানান। নিহতের পরিবারের লোকজন ঢাকায় এসে দেখতে পান, ফ্ল্যাটের ভেতরে স্বামীই স্ত্রীর মরদেহ গোসল করাচ্ছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার এবং অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা করেছেন।

ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর সানজিদার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা যাবে বলেও জানান তিনি।

এমএসি/জেআই