চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির কাঞ্চননগরে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদারের ঘোষণা দিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাসুদ আলম। তিনি বলেছেন, ডেভিড ইমন ও কালা মোবারকের সঙ্গে থাকা কেউ অপরাধের পথ ছেড়ে ভালো হতে চাইলে তাকে কিছু সময় দেওয়া হবে। তবে এরপরও অপরাধে জড়ালে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) কাঞ্চননগর-মানিকপুর আহমদিয়া কেরামতিয়া মহিলা দাখিল মাদরাসা প্রাঙ্গণে আয়োজিত মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী র্যালি ও সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ফটিকছড়ি থানা এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
এসপি মাসুদ আলম বলেন, কাঞ্চননগরকে সন্ত্রাসীদের অভয়াশ্রম বা সন্ত্রাসী তৈরির ‘আঁতুড়ঘর’ হিসেবে যে দুর্নাম দেওয়া হয়েছে, তা দূর করতে হবে। কয়েকজন অপরাধীর কারণে পুরো এলাকার মানুষ বদনামের শিকার হতে পারেন না।
তিনি বলেন, আমি বেশি করে কাঞ্চননগরে যেতে চাচ্ছিলাম। কারণ জানতে পেরেছি, কয়েকজনের বাড়ি এখানে। এখানে নাকি সন্ত্রাসী তৈরি হচ্ছিল। এই প্রোডাকশন হাউসটা ধ্বংস করতে হবে।
পুলিশ সুপার বলেন, মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ, বঞ্চনা ও হতাশা জমে ছিল। এলাকায় এসে সাধারণ মানুষের চোখেমুখে যে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের মনোভাব তিনি দেখেছেন, সেটিকে অপরাধীদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
ডেভিড ইমন ও কালা মোবারকের প্রসঙ্গ তুলে এসপি বলেন, সারা বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্বে আলোচিত ডেভিড ইমনের নাম আপনারা জানেন। কিছুদিন আগে আমাদের পুলিশ যাকে গ্রেপ্তার করেছে। সেই কালা মোবারকের আস্তানাও নাকি এই কাঞ্চননগরে, এমন কথা শুনেছি।
তবে কাঞ্চননগরের সবাই অপরাধী নন উল্লেখ করে তিনি বলেন, হাতেগোনা কয়েকজন পুরো এলাকাকে অস্থিতিশীল করে রেখেছেন।
তিনি আরও বলেন, ডেভিড ইমন ও কালা মোবারকের পর তাদের সঙ্গে থাকা কেউ যদি ভালো হয়ে যেতে চায়, তাহলে তাদের কিছু সময় দেওয়া হবে। কিন্তু এরপরও তারা অপরাধের সঙ্গে যুক্ত থাকলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধীরা পাহাড়ে, মাটিতে, সাগরে কিংবা রাবার বাগানে— যেখানেই থাকুক, পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করবে।
এসপি মাসুদ আলম বলেন, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে পুলিশ ও প্রশাসন একসঙ্গে কাজ করছে। স্থানীয় লোকজন সহযোগিতা করলে কোনো সন্ত্রাসীর পক্ষে এলাকায় আবার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা সম্ভব হবে না। কাঞ্চননগরের বদনাম দূর করে এলাকাটিকে শান্তির জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে ফটিকছড়ি থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই সুমন দাশের সঞ্চালনায় চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী তারেক আজিজ, ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল আলম খানসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতারা বক্তব্য দেন।
এ সময় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হান্নান চৌধুরী, ইউনিয়ন কৃষকদলের সভাপতি মোজাম্মেল তালুকদার, ইউনিয়ন জামায়াতের আমির সাইরান কাদের চৌধুরী, ইকবাল হোসেন, নিহত সাদ্দামের মা ও মাওলানা আনিছুর রহমান চৌধুরী বক্তব্য দেন। এর আগে মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী একটি র্যালি এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সভাস্থলে এসে শেষ হয়।
এএইচ/এসএএস
