সরকারি চাকরিতে ১১ থেকে ২০ গ্রেডের নিয়োগ পরীক্ষার মৌখিক পরীক্ষায় (ভাইভা) বেশি নম্বর রাখার সিদ্ধান্তকে নিয়োগের মানোন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন।
সরকারি চাকরিতে ১১ থেকে ২০ গ্রেডের কর্মচারী নিয়োগে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর ৪০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর পাশাপাশি লিখিত পরীক্ষায় পাস নম্বর কমিয়ে বিধিমালা পরিবর্তন করা হচ্ছে। ভাইভায় নম্বর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না? একজন সাংবাদিক এমন প্রশ্ন করলে জাহেদ উর রহমান বলেন, প্রশ্নটির মধ্যে একটি ‘পারসেপশন’ রয়েছে। তিনি জানতে চান, ভাইভা বাড়ানোর সিদ্ধান্তের পেছনে দুর্নীতি বা বিশেষ কাউকে সুবিধা দেওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে কি না।
তিনি বলেন, আপনারা সরাসরি প্রশ্ন করতে পারেন সরকার দুর্নীতি করার জন্য এটা করছে কি না, কিংবা সরকার তাদের নির্বাচিত মানুষদের নিয়োগ দেওয়ার জন্য এটা করছে কি না। সাংবাদিকের কাজ চাঁচাছোলা প্রশ্ন করা। আমি সেই প্রশ্নেরও জবাব দিতে প্রস্তুত রয়েছি।
ভাইভায় বেশি নম্বর রাখার ফলে লিখিত পরীক্ষায় বেশি নম্বর পাওয়া প্রার্থীকে পিছিয়ে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়, সাংবাদিকের এমন যুক্তির পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেন, ভাইভা যেহেতু সাবজেক্টিভ, তাই সেখানে কারসাজি বা পছন্দের কাউকে সুবিধা দেওয়ার সুযোগ তুলনামূলকভাবে বেশি এ বিষয়ে তিনি দ্বিমত করছেন না।
তবে একই সঙ্গে তিনি বলেন, চাকরির জন্য শুধু বইয়ের জ্ঞান যথেষ্ট নয়। একজন প্রার্থীর অন্যান্য যোগ্যতা ও অ্যাপটিটিউডও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জাহেদ উর রহমান বলেন, তিনি বেশ কয়েকটি বিসিএসের ভাইভা নিয়েছেন। লিখিত পরীক্ষায় কোনো প্রার্থী কেমন করেছেন, তা না জেনেও ভাইভায় এমন কিছু প্রার্থীকে পেয়েছেন, যাদের লিখিত পরীক্ষার ফল যথেষ্ট ভালো না হলেও তার মনে হয়েছে তাদের নিয়োগ দেওয়া উচিত।
তিনি বলেন, একজন প্রশাসক চাচ্ছি আমরা। আমাদের অনেকের রিটেনে ভালো করার পাশাপাশি চাকরিতে ভালো করার জন্য আরও কিছু অ্যাপটিটিউড রয়েছে, যেটা আমার বিবেচনায় ভাইভা দিয়ে ভালো অ্যাসেসমেন্ট হতে পারে।
ভাইভা পদ্ধতিতে অনিয়মের আশঙ্কা থাকলে সেটি নিয়োগ প্রক্রিয়ার পর্যালোচনার মাধ্যমে মোকাবিলা করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকার বিশ্বাস করেছে যে এ ধরনের মার্কিংয়ের মাধ্যমে আরও ভালো নিয়োগ সম্ভব এবং আইনগতভাবেই সরকার এ সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
সরকার বেআইনি কিছু করেনি, আইনগতভাবে করতে পারে। সরকারের মনে হয়েছে, এর মাধ্যমেই বেটার রিক্রুটমেন্ট সম্ভব- বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা।
তবে কোনো নিয়োগের পর সুনির্দিষ্ট অনিয়ম বা অভিযোগ পাওয়া গেলে তা গণমাধ্যমকে তুলে ধরার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা। তিনি বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হলে তা অবশ্যই ঠেকানোর চেষ্টা করতে হবে।
এ সময় লিখিত ও ভাইভায় একজন প্রার্থী কত নম্বর পেয়েছেন, তা প্রকাশের বিধান করা যায় কি না, সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের উত্তরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার আশ্বাস দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, আমি এই ব্যাপারে আলাপ করতে পারি।
সারের মজুত চাহিদার চেয়ে বেশি
দেশে সারের মজুত নিয়ে কোনো সংকট নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেন, বর্তমানে ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি মিলিয়ে মোট সারের মজুত ১২ লাখ ২৯ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন। গত বছরের একই সময়ে মজুত ছিল প্রায় সাড়ে ১১ লাখ মেট্রিক টন।
তিনি বলেন, আমাদের বেশি মজুত রয়েছে। এখন পর্যন্ত আগামী পুরো অর্থবছরে যে মোট চাহিদা রয়েছে, তার তুলনায় বেশি পরিমাণ জোগান আমাদের হাতে এবং আমদানির পাইপলাইনে রয়েছে।
তবে দেশের কিছু এলাকায় বিতরণগত সমস্যা হয়েছে বলে স্বীকার করেন তিনি। তার দাবি, মজুদের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা নেই।
খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতা বাড়ছে
খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতা বাড়ানোর তথ্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, আগের সরকারের সময়ে এ কর্মসূচি পাঁচ মাস বিতরণ করা হতো। ২০২১-২২ অর্থবছরে উপকারভোগীর সংখ্যা ছিল ৫০ লাখ এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরে তা ৪৫ লাখে নামানো হয়।
চলতি অর্থবছরে কর্মসূচির মেয়াদ এক মাস বাড়িয়ে ছয় মাস করা হয়েছে। পাশাপাশি উপকারভোগীর সংখ্যা ৫৫ লাখে উন্নীত করা হয়েছে। ফলে বছরের অর্ধেক সময় উপকারভোগীরা এ কর্মসূচির সুবিধা পাবেন।
ইস্টার্ন রিফাইনারির সক্ষমতা ৪৫ লাখ টনে উন্নীত হবে
জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে ইস্টার্ন রিফাইনারির আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের গুরুত্ব তুলে ধরেন জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (আইডিবি) মধ্যে এ প্রকল্পে ১০০৪ দশমিক ২৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থায়ন চুক্তি হয়েছে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বর্তমানে ইস্টার্ন রিফাইনারির বার্ষিক পরিশোধন ক্ষমতা ১৫ লাখ মেট্রিক টন থেকে বেড়ে ৪৫ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত হবে। এতে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর শুরুতেই গ্যাসের পাশাপাশি ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনের সংকটের মুখোমুখি হয়েছিল। এ কারণে ইস্টার্ন রিফাইনারির সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
প্রকল্পটি কবে নাগাদ শেষ হবে এ বিষয়ে নির্দিষ্ট সময় জানাতে পারেননি তিনি। তবে প্রকল্পটি দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার আশা প্রকাশ করেন তিনি।
৬১ শুল্কবহির্ভূত বাধার ৪৮টি সমাধান
বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে শুল্কবহির্ভূত বাণিজ্য বাধা দূর করার ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, ইইউর চিহ্নিত ৬১টি শুল্কবহির্ভূত বাণিজ্য বাধার মধ্যে ৪৮টি সমাধান করেছে বাংলাদেশ। বাকি বাধাগুলোও দ্রুত নিষ্পত্তির প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এগুলো সমাধান হলে দেশের রপ্তানি আরও বাড়বে।
এসএইচআর/আরএফ
