চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জাহাজভাঙা শ্রমিক ও যুব ট্রেড ইউনিয়ন নেটওয়ার্কের ফলোআপ সেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে জাহাজভাঙা শিল্পে কর্মরত শ্রমিকদের পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মালিক, শ্রমিক ও রাষ্ট্রকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সীতাকুণ্ডের পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) হলে এ সেশন অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফখরুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মেরি ক্লিনিকের পরিচালক ইমাম হোসেন স্বপন, জাহাজভাঙা শ্রমিক সেফটি কমিটির সদস্য সচিব মো. আলী ও যুগ্ম সদস্য সচিব মো. ইদ্রিস। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জাহাজভাঙা শ্রমিকদের পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাবিষয়ক তথ্যকেন্দ্রের সমন্বয়ক ফজলুল কবির মিন্টু।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফখরুল ইসলাম বলেন, জাহাজভাঙা শিল্প একটি বিশেষায়িত ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ খাত। এ খাতের ঝুঁকি জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত। শিল্পকে ঝুঁকিমুক্ত করতে হলে মালিক, শ্রমিক ও রাষ্ট্রকে একযোগে কাজ করতে হবে। প্রত্যেকে নিজ নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করলে জাহাজভাঙা শিল্প একদিন দুর্ঘটনামুক্ত শিল্পে পরিণত হবে।
তিনি বলেন, এসডিজির অংশ হিসেবে ২০৩০ সালের মধ্যে জাহাজভাঙা শিল্পে মৃত্যুর হার শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এ লক্ষ্য অর্জনে উপজেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস) একসঙ্গে কাজ করবে। শিল্পের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে তা নিরসনে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করা হবে।
সেশনে বক্তারা বলেন, জাহাজভাঙা শিল্পে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে শুধু নিরাপত্তা সরঞ্জাম সরবরাহ করলেই হবে না। শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ, কর্মক্ষেত্রে ঝুঁকি মূল্যায়ন, জরুরি উদ্ধারব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা বিধিমালার কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ট্রেড ইউনিয়নের কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করাও জরুরি।
ফলোআপ সেশনে ‘জাহাজভাঙা শিল্প: জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট’ বিষয়ে বক্তব্য উপস্থাপন করেন হাসিবুর রহমান বিপ্লব। বাসেল কনভেনশন বিষয়ে আলোচনা করেন মোহাম্মদ বিন সাঈদ এবং হংকং কনভেনশন বিষয়ে বক্তব্য উপস্থাপন করেন আবু আহমেদ মিয়া।
বক্তারা বলেন, আন্তর্জাতিক কনভেনশনগুলোর আলোকে জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ কার্যক্রম পরিচালনা, শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পরিবেশগত ঝুঁকি কমাতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। এ ক্ষেত্রে শ্রমিকদের অংশগ্রহণ ও মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
সেশনে জাহাজভাঙা শ্রমিক ও যুব ট্রেড ইউনিয়ন নেটওয়ার্কের ২২ জন শ্রমিক অংশগ্রহণ করেন।
এমআর/এনএফ
