বিজ্ঞাপন

চট্টগ্রামে ২০ হাজার ঘনফুট পাহাড় কাটার অভিযোগে মামলা

চট্টগ্রামে ২০ হাজার ঘনফুট পাহাড় কাটার অভিযোগে মামলা

চট্টগ্রাম নগরের খুলশী থানা এলাকায় পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই প্রায় ২০ হাজার ঘনফুট পাহাড় কাটার অভিযোগে দুইজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। রূপসী হাউজিং সোসাইটি এলাকায় পাহাড় কেটে সেটিকে ঝুঁকিপূর্ণ করার পাশাপাশি পরিবেশ ও প্রতিবেশের ক্ষতি করার অভিযোগে মামলাটি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম মহানগর কার্যালয়ের সিনিয়র টেকনিশিয়ান মো. ওমর ফারুক বাদী হয়ে খুলশী থানায় এজাহার দেন। এজাহারের প্রেক্ষিতে মামলাটি রুজু হয়েছে বলে ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম।

মামলার আসামিরা হলেন রূপসী হাউজিং সোসাইটি এলাকার মো. আবু বকর সিদ্দিক (৫৭) ও সন্দ্বীপের মো. ছাবের (৪৭)। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১-২ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, রূপসী হাউজিং সোসাইটি, কাঁঠালবাগান, পূর্ব নাসিরাবাদ এলাকায় পাহাড় কাটার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ৭ সেপ্টেম্বর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। এ সময় অধিদপ্তরের পরিদর্শক মুহাম্মদ আশফাকুর রহমানের সঙ্গে খুলশী ভূমি অফিসের উপ-ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মোহতাসিম বিল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শনের সময় রূপসী হাউজিং এলাকার ব্রিক সলিং রাস্তার পূর্ব সীমানার উত্তর পাশে বাউন্ডারি দিয়ে ঘেরা একটি প্লটে পাহাড় কাটার সুস্পষ্ট চিহ্ন দেখতে পান কর্মকর্তারা। পরে কর্তিত পাহাড়ের আনুমানিক পরিমাপ নেওয়া হয় এবং ঘটনাস্থলের স্থিরচিত্র ধারণ করা হয়।

এজাহারে বলা হয়েছে, কর্তিত পাহাড়ের আনুমানিক পরিমাণ ৫০ ফুট দৈর্ঘ্য, ৪০ ফুট প্রস্থ ও ২০ ফুট উচ্চতা। হিসাব অনুযায়ী এর পরিমাণ প্রায় ২০ হাজার ঘনফুট। পাহাড় কাটা ওই জায়গার মালিকানা সম্পর্কে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিরা সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি। পরে রূপসী হাউজিং সোসাইটির সভাপতি সালাউদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ওই প্লটের মালিক হিসেবে আবু বকর সিদ্দিকসহ আরও কয়েকজনের নাম জানান।

ভূমির মালিকানা যাচাইয়ের জন্য গত ৭ সেপ্টেম্বর সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসে চিঠি পাঠায় পরিবেশ অধিদপ্তর। পরদিন ৮ সেপ্টেম্বর আবু বকর সিদ্দিকের উপস্থিতিতে অধিদপ্তরের কার্যালয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে দাখিল করা খতিয়ান পর্যালোচনা করে অভিযুক্ত ব্যক্তিরাই কর্তিত জায়গাটির মালিক বলে নিশ্চিত হওয়া যায়।

এজাহারে আরও বলা হয়, স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানতে পারেন, পাহাড়ের মালিকরা আনুমানিক ১০-১২ জন শ্রমিক নিয়োগ করে কোদাল, শাবল, টুকরিসহ দেশীয় যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে পাহাড় কাটেন। গত ৫ আগস্ট সকাল ১১টা থেকে ৭ সেপ্টেম্বর দুপুর সাড়ে ১২টার মধ্যবর্তী সময়ে পাহাড় কাটার কাজ চলে। সরেজমিন পরিদর্শনে পাহাড়টি খাড়া করে কাটার কারণে সেটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। একই সঙ্গে পাহাড় কাটার কারণে পরিবেশ ও প্রতিবেশের ক্ষতি হয়।

খুলশী থানার ওসি আবদুর রহিম বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া পাহাড় কাটার অভিযোগে আসামিদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত-২০১০) এর ৬(খ) ধারা এবং একই আইনের ১৫(১) ধারার টেবিলের ক্রমিক নম্বর ৫ অনুযায়ী মামলা করা হয়েছে।

এমআর/এমএন