চট্টগ্রাম থেকে নাজিরহাট পর্যন্ত পুনরায় নিয়মিত ট্রেন সার্ভিস চালু এবং নাজিরহাট থেকে ফটিকছড়ির ভূজপুর, নারায়ণহাট, দাঁতমারা, হেঁয়াকো ও বাগানবাজার হয়ে সীমান্তবর্তী রামগড় পর্যন্ত রেলপথ সম্প্রসারণের দাবি জানিয়েছেন চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার আলমগীর।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার বরাবর দেওয়া এক নোটিশে তিনি এ দাবি জানান। বুধবার (আজ) বিষয়টি ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করেন চট্টগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য।
নোটিশে সরওয়ার আলমগীর বলেন, চট্টগ্রাম-নাজিরহাট রেলপথ ফটিকছড়ি অঞ্চলের মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগব্যবস্থা। এ রেলপথের সঙ্গে স্থানীয় অর্থনীতি, শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা জড়িত। নাজিরহাট ঘাট পর্যন্ত রেললাইন বিদ্যমান থাকলেও বর্তমানে সেখানে কার্যকরভাবে নিয়মিত ট্রেন চলাচল না করায় নাজিরহাট, ফটিকছড়ি সদরসহ বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষকে সড়কপথের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষের সময় ও যাতায়াত ব্যয় দুটোই বাড়ছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, রোগী ও নিম্নআয়ের মানুষকে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
নোটিশে আরও বলা হয়, ফটিকছড়ি কৃষি, চা, রাবার ও পর্যটনসহ বিভিন্ন সম্ভাবনায় সমৃদ্ধ একটি উপজেলা। এ অঞ্চলে উৎপাদিত কৃষিপণ্য ও অন্যান্য পণ্য চট্টগ্রাম নগরীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কম খরচে ও সহজে পরিবহনের জন্য কার্যকর রেল যোগাযোগ প্রয়োজন।
সরওয়ার আলমগীর বলেন, চট্টগ্রাম-নাজিরহাট রেলপথ পর্যায়ক্রমে ভূজপুর, নারায়ণহাট, দাঁতমারা, হেঁয়াকো ও বাগানবাজার হয়ে সীমান্তবর্তী রামগড় পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হলে ফটিকছড়ির মানুষের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি চট্টগ্রামের সঙ্গে পার্বত্য ও সীমান্তবর্তী এলাকার অর্থনৈতিক যোগাযোগের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।
তিনি নাজিরহাট পর্যন্ত রেলসেবা পুনরায় নিয়মিত ও কার্যকর করার পাশাপাশি সম্ভাব্যতা যাচাই ও প্রয়োজনীয় সমীক্ষা শেষে রামগড় পর্যন্ত রেলপথ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।
ভুজপুর এলাকার বাসিন্দা মো. বখতিয়ার বলেন, নাজিরহাট পর্যন্ত নিয়মিত ট্রেন চলাচল চালু হলে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমবে। সড়কপথে যাতায়াতে সময় ও খরচ দুটোই বেশি। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, রোগী ও সাধারণ যাত্রীদের জন্য ট্রেন অনেক বেশি সুবিধাজনক হবে। পাশাপাশি রামগড় পর্যন্ত রেলপথ সম্প্রসারণ করা গেলে ফটিকছড়ির কৃষিপণ্য, চা ও অন্যান্য পণ্য সহজে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো যাবে। এতে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতিও আরও গতিশীল হবে।
এদিকে টিকে গ্রুপের প্রতিষ্ঠান বারোমাসিয়া চা বাগানের সিনিয়র ম্যানেজার উৎপল বিশ্বাস ঢাকা পোস্টকে বলেন, নাজিরহাট ও রামগড় পর্যন্ত রেল যোগাযোগ চালু হলে ফটিকছড়ির চা শিল্প ও কৃষিপণ্যের পরিবহনব্যবস্থায় বড় ধরনের সুবিধা হবে। এতে চা বাগানের শ্রমিকদের যাতায়াত সহজ ও কম খরচের হবে। পাশাপাশি চা, রাবার ও কৃষিপণ্য কম খরচে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিবহনের সুযোগ তৈরি হবে।
তিনি বলেন, নাজিরহাট থেকে ভূজপুর, নারায়ণহাট, দাঁতমারা, হেঁয়াকো ও বাগানবাজার হয়ে রামগড় পর্যন্ত রেলপথ সম্প্রসারণ করা গেলে চা ও কৃষিপণ্যের বাজার সম্প্রসারণের পাশাপাশি সীমান্ত বাণিজ্যের নতুন সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে। এর ফলে স্থানীয় অর্থনীতি, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, নাজিরহাট রেলপথে নিয়মিত ট্রেন চলাচলের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা রয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে খতিয়ে দেখা যেতে পারে। একইভাবে রামগড় পর্যন্ত রেলপথ সম্প্রসারণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের বিষয়টিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিবেচনা করতে পারে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রুনা সাহা ঢাকা পোস্টকে বলেন, নাজিরহাট পর্যন্ত নিয়মিত রেল যোগাযোগ চালু হলে ফটিকছড়ির মানুষের যাতায়াত ব্যয় ও সময় কমবে। একই সঙ্গে কৃষি, চা ও অন্যান্য পণ্য কম খরচে বাজারজাত করার সুযোগ তৈরি হবে। আর রামগড় পর্যন্ত রেলপথ সম্প্রসারণ করা গেলে সীমান্তবাণিজ্য, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। এতে পুরো অঞ্চলের স্থানীয় অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে।
এমআর/বিআরইউ
