ভূমির হিসাব নিয়ন্ত্রক (রাজস্ব) দপ্তরের নিয়ন্ত্রক মো. মাশুক বিল্লাহ আরেফ খানের বিরুদ্ধে ওঠা একাধিক অভিযোগ তদন্তে একের পর এক প্রশ্ন সামনে আসছে। নির্ধারিত দায়িত্বের বাইরে কর্মকর্তাদের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অডিটে পাঠানো, একই কর্মকর্তাকে একাধিক জেলার অডিটের দায়িত্ব দেওয়া, বিধিবহির্ভূত বদলি এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৭ সেপ্টেম্বর তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ভূমি মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব আখতার হোসেনকে আহ্বায়ক করে গঠিত কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর নিয়ন্ত্রকের শুনানিও হওয়ার কথা রয়েছে।
মন্ত্রণালয়ে দেওয়া অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অডিটের জন্য হিসাব তত্ত্বাবধায়ক (রাজস্ব) কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনের কথা থাকলেও সহকারী হিসাব নিয়ন্ত্রক (রাজস্ব) পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের দিয়ে এসব কাজ করানো হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এ ধরনের দায়িত্ব পালনে মন্ত্রণালয়ের প্রয়োজনীয় অনুমোদনও নেওয়া হয়নি।
নথিতে দেখা যায়, গত ৫ মে ঢাকা বিভাগের সহকারী হিসাব নিয়ন্ত্রক (রাজস্ব) আবুল কাশেমকে অডিটের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর আগেও তাকে ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের অডিটের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। একইভাবে ময়মনসিংহ বিভাগের সহকারী হিসাব নিয়ন্ত্রক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আনিছুর রহমানকে ময়মনসিংহ ও নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অডিটের দায়িত্ব দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগের সহকারী হিসাব নিয়ন্ত্রক (রাজস্ব) দিদারুল আলম পাটোয়ারীকে তিন পার্বত্য জেলার অডিটের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টিও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। একই কর্মকর্তাদের বারবার অডিটের দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, দ্বিতীয় শ্রেণির হিসাব তত্ত্বাবধায়ক (রাজস্ব) কর্মকর্তাদের বিধিবহির্ভূত বদলি এবং ভয়ভীতি দেখানোর ঘটনাও ঘটেছে। নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করতে অস্বীকৃতি জানালে বদলি ও মামলার ভয় দেখানোর অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে নিয়ন্ত্রক মো. মাশুক বিল্লাহ আরেফ খান বলেন, তিনি আগের নিয়ম অনুসরণ করেই দায়িত্ব পালন করেছেন। ভুল হয়ে থাকলে তা তার অজ্ঞতা হতে পারে। আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর তদন্ত কমিটির সামনে তার শুনানি রয়েছে।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ বলেন, অভিযোগ আমলে নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তার আগে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা সমীচীন হবে না।
তদন্ত কমিটি অডিটের দায়িত্ব বণ্টনের আদেশ, অনুমোদনপত্র, কর্মকর্তাদের সফরসূচি, টিএ/ডিএ বিল, ভাউচার, অডিট রিপোর্ট ও সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনা করবে বলে জানা গেছে। একই কর্মকর্তাকে বারবার অডিটের দায়িত্ব দেওয়ার কারণ এবং এতে সরকারি অর্থে অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হবে।
এখন তদন্ত প্রতিবেদনের দিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের। অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হলে শুধু নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা নয়, অডিটের দায়িত্ব বণ্টন ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ব্যবস্থার জবাবদিহি নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে।
এমএম/বিআরইউ
