বিজ্ঞাপন

সারের ডিলার নিয়োগে ১০-১২ লাখ টাকার বাণিজ্যের অভিযোগ

সারের ডিলার নিয়োগে ১০-১২ লাখ টাকার বাণিজ্যের অভিযোগ

কাগজে-কলমে সারের পর্যাপ্ত মজুত থাকলেও সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে মাঠপর্যায়ে কৃষকরা তীব্র সংকটে ভুগছেন বলে জাতীয় সংসদে অভিযোগ করেছেন পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. শফিকুল ইসলাম। সারের কৃত্রিম সংকট, অনিয়ম ও ডিলার নিয়োগে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকার বাণিজ্যের অভিযোগ তুলে ধরে তিনি বোরো মৌসুমের আগেই ডিলার পর্যায়ে কঠোর নজরদারি ও সুষ্ঠু বিতরণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার তাগিদ দেন। 

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে ৬৮ বিধির আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি সারের কৃত্রিম সংকট, অনিয়ম এবং ডিলার নিয়োগে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকার বাণিজ্যের অভিযোগ তোলেন। একই সঙ্গে বোরো মৌসুমের আগেই সারের সুষ্ঠু বিতরণ ও কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করার তাগিদ দেন।

সংসদে শফিকুল ইসলাম বলেন, দেশে সারের সংকট নেই বলা হলেও মূল সমস্যা সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অভাব। প্রথম আলো, মানবজমিন, ডেইলি স্টারসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন তুলে ধরে তিনি জানান, কৃষকরা নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বস্তাপ্রতি ৩০০ থেকে ৮০০ টাকা বেশি দিয়েও সার পাচ্ছেন না। এমনকি ঝিনাইদহে সারের দাবিতে সড়ক অবরোধের মতো ঘটনাও ঘটেছে। এ ছাড়া দেশের সাতটি রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানার মধ্যে ছয়টিই বন্ধ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ডিলার নিয়োগে অনিয়মের চিত্র তুলে ধরে এই সংসদ সদস্য অভিযোগ করেন, স্থানীয় প্রশাসন বা সংসদ সদস্যদের সুপারিশ করা তালিকাকে পাশ কাটিয়ে অসাধু চক্র ১০ থেকে ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে ডিলারশিপ বাণিজ্য করছে। অনেক ডিলার নিজে ব্যবসা না করে স্বজনদের নামে লাইসেন্স রেখে কমিশন নিচ্ছেন এবং কোটি টাকার চাঁদাবাজি করছেন। কুড়িগ্রামে অবৈধভাবে রাখা সার জব্দ ও গোডাউন ভেঙে কৃষকদের সার নেওয়ার ঘটনার মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের নাজুক পরিস্থিতি প্রমাণিত হয়।

সীমান্ত দিয়ে সার পাচারের তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, মিয়ানমারে দেশীয় সারের ভর্তুকির অংশ পাচার করে বদলে ইয়াবা ও আইসের মতো মাদক দেশে আনা হচ্ছে। নিজের কৃষক পরিচয়ের আবেগ স্মরণ করে তিনি বলেন, অন্যায় ও স্বজনপ্রীতি দূর না করলে প্রকৃত সংস্কার সম্ভব নয়। কৃষকদের রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘খাদ্য যোদ্ধা’ উপাধিতে ভূষিত করার দাবি জানিয়ে তিনি বোরো মৌসুম শুরুর আগেই ইউরিয়া, ডিএপি ও টিএসপি সারের ডিলার পর্যায়ে কঠোর নজরদারি ও দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর আহ্বান জানান।

এসআর/বিআরইউ