দুর্নীতি, সার সংকট ও প্রধান বিচারপতিকে ঘিরে আলোচনা-সমালোচনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল জাতীয় সংসদ। সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতি, মাঠপর্যায়ে সার সংকট ও ডিলারশিপ বাণিজ্য, ডেঙ্গু পরিস্থিতি, জ্বালানি-বিদ্যুৎ সংকট, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নসহ নানা ইস্যুতে সংসদে সরব ছিলেন সংসদ সদস্যরা। এ সময় বিগত সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম ও বিলম্বের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা। পাশাপাশি প্রধান বিচারপতিকে ঘিরে বিতর্ক, সংবিধানে ঈমান-আস্থা, সংসদে নামাজ চালু এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার মতো বিষয়েও উত্তপ্ত আলোচনা হয়।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টা সংসদে অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনের প্রথম অংশ সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম ও অধিবেশনের দ্বিতীয় অংশ সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান বলেছেন, বিগত সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতির তদন্ত হচ্ছে, তদন্তের রিপোর্ট পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার গঠিত হওয়ার পর বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে কিছু অনিয়ম দৃষ্টিগোচর হয়েছে। সেই প্রকল্পগুলোকে তদন্তের অধীনে নেওয়া হয়েছে এবং কয়েকটির ক্ষেত্রে মোটামুটিভাবে তদন্ত শেষ হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট সরকারের হাতে আসলে পরামর্শ মোতাবেক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে বারবার মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধির প্রবণতা ঠেকাতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে মেয়াদ বৃদ্ধি ও ব্যয় বৃদ্ধি সাধারণত একটি মাত্র কারণে হয় না— বরং প্রকল্প প্রণয়ন, অনুমোদন, ভূমি অধিগ্রহণ, অর্থায়ন, ক্রয় প্রক্রিয়া, ব্যবস্থাপনার একাধিক দুর্বলতা পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এই সমস্যা তৈরি করে। প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধির প্রবণতার বিষয়টি সরকারের দৃষ্টিগোচর হওয়ার পর এ বিষয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নতুন প্রকল্প গ্রহণের আগে নির্ভুল সম্ভাব্যতা সমীক্ষা নিশ্চিত করা এবং প্রকল্প অনুমোদনের পর বাস্তবায়ন প্রস্তুতি দ্রুত করার উদ্যোগ রয়েছে।
সরকারি দলের সদস্য সুলতানা আহমেদের তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আকস্মিক বা সাময়িক গ্যাস-সংকটের কারণে শিল্প খাত যাতে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে না পড়ে, সে জন্য দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন ও গ্যাস অনুসন্ধানে জোর দিচ্ছে সরকার। ২০৩০-২০৩১ সালের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ১৫০টি কূপ খনন, ৪ হাজার ৫০০ লাইন কিলোমিটার ২ডি সাইসমিক সার্ভে এবং ৪ হাজার ২০০ বর্গকিলোমিটার ৩ডি সাইসমিক সার্ভে পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমুদ্রাঞ্চলের ২৬টি ব্লকে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের জন্য আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান নিয়োগে গত ২৪ মে আন্তর্জাতিক বিডিং রাউন্ড আহ্বান করা হয়েছে। স্থলভাগে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ অনশোর মডেল পিএসসি-২০২৬’ প্রণয়নের কার্যক্রমও গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের মাধ্যমে কমবেশি দৈনিক গড়ে ৯৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। ভবিষ্যতে মহেশখালীর কুতুবজোমে নতুন একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ীতে একটি ল্যান্ডবেইজড এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের কার্যক্রম বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, কুতুবজোমের ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে ২০২৮ সালে এবং মাতারবাড়ীর ল্যান্ডবেইজড এলএনজি টার্মিনাল থেকে ২০৩০ সালের ডিসেম্বর নাগাদ রি-গ্যাসিফাইড এলএনজি সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এছাড়া পায়রা বা মোংলা বন্দর এলাকা অথবা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সমুদ্র উপকূলের সুবিধাজনক কোনো স্থানে জরুরি ভিত্তিতে আরও একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে।
ভোলার গ্যাস জাতীয় গ্যাস নেটওয়ার্কে যুক্ত করার বিষয়েও সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। সংসদ নেতা বলেন, ভোলার গ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে দেশের মূল গ্যাস নেটওয়ার্কে নিয়ে আসতে চাইলে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অন্তত ৭ বছর সময় লাগবে। তাই ভোলার গ্যাস স্থানীয়ভাবে ব্যবহার করে শিল্পকারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে সেখানে গ্যাসনির্ভর কিছু শিল্প স্থাপনের চেষ্টা চলছে। এর ফলে ভোলা অঞ্চলে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতির আকারও বাড়বে।
ভোলার গ্যাস যথাযথভাবে ব্যবহারের জন্য সেখানে একটি সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনাও করছে সরকার।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশীয় উৎস থেকে গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানো, আমদানিনির্ভরতা মোকাবিলা এবং শিল্প ও রপ্তানি খাতে নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন নিশ্চিত করা। পাশাপাশি দীর্ঘ মেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অনুসন্ধান, উৎপাদন ও অবকাঠামো উন্নয়নে সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাণিজ্য নগরী চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে বারইপাড়া খাল খনন প্রকল্পের কাজ শতভাগ সম্পন্ন করা হয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের অধীনে নগরের ২৫টি খাল থেকে আবর্জনা ও মাটি উত্তোলনসহ ১ হাজার ৬০০ কিলোমিটার সার্ভিস ড্রেন পরিষ্কার, ড্রেনে জমে থাকা মাটি ও আবর্জনা অপসারণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আগামী বর্ষা মৌসুমের আগে এই কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। এছাড়াও নগরীর ৩২টি খাল হতে আবর্জনা ও মাটি উত্তোলন এবং অপসারণের কার্যক্রম চলছে।
এদিকে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারাহানার বক্তব্য ঘিরে জাতীয় সংসদে উত্তাপ ছড়িয়েছেন। তিনি বলেন, প্রত্যেকটা সরকারের একটা চরিত্র থাকে। বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট হবে না—এটা হতে পারে না। বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আবার সারের সংকট হবে না। যারা গরিব কৃষক আছেন, তারা সার কারখানায় গিয়ে সেটা লুট করবেন না— সেটাও হতে পারে না। বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর দুর্নীতিতে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হবে না, সেটাও হওয়া সম্ভব না। মাননীয় স্পিকার, বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো ঋণখেলাপিতে সর্বোচ্চ স্থান অর্জন করবে না, সেইটাও হইতে পারে না। সুতরাং বিএনপি ক্ষমতায় আসা মানেই ঋণখেলাপিতে সর্বোচ্চ হওয়া, ৬ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার উপরে ঋণখেলাপি হওয়া—ইত্যাদি ইত্যাদি।
তখন সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা হৈচৈ শুরু করেন। এ সময় রুমিন ফারহানা বলেন, এত অসহিষ্ণু সংসদ! মনে হয় যেন একেবারে আওয়ামী লীগের আমলে ফিরে গেছি আমরা। মজা মন্দ না। আওয়ামী লীগকে যখন বলতাম, তখন তারাও হট্টগোল করত। এখন একই ধরনের আচরণ করছে, আরও খারাপ আচরণ—বরং বলি।
এরপর ব্যাংক রেজুলেশন বিলে যুক্ত করা নতুন ধারার প্রসঙ্গ তুলে রুমিন ফারহানা বলেন, যাই হোক, স্পিকার, এই আইনটিতে ১৮-এর ক ধারা যুক্ত করা হয়েছে। বলা হয়েছিল ১৮-ক রাখা হবে না। কেন রাখা হচ্ছে—এর কারণ হচ্ছে এই সংসদ, বেশিরভাগ সংসদ সদস্য ঋণখেলাপি হিসেবে পরিচিত।
তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে নামটা কাটানোর জন্য হাইকোর্টে গিয়ে রিট করা—এগুলো আমাদের পুরোনো সংস্কৃতি। এগুলো আমরা বহুত দেখেছি। ইলেকশনের আগে তাড়াতাড়ি রিট, খেলাপি থেকে বাদ দেয়। আর ইলেকশনটা যেই শেষ হয়, ওকে এই...। এ পর্যায়ে সংসদে আবারও হট্টগোল শুরু হয়।
এ সময় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ধন্যবাদ মাননীয় সদস্য, বসেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ডেপুটি স্পিকার রুলিং দিয়ে বলেন, এভরিওয়ান প্লিজ কিপ কোয়েট। মাননীয় সদস্য, আপনি বসেন।
হৈচৈ অব্যাহত থাকলে স্পিকার বলেন, মাননীয় চিফ হুইপ, মাননীয় সদস্য আপনি বসেন। উইথ অল দ্য মেম্বারস অব পার্লামেন্ট, প্লিজ কিপ কোয়েট, প্লিজ কিপ কোয়েট।
স্পিকার বলেন, মাননীয় চিফ হুইপ, একজন মাননীয় সদস্য বক্তব্য রাখছেন। শি হ্যাজ এভরি লিবার্টি টু স্পিক। বাট অন্যান্য মাননীয় সদস্যরা উনার বক্তব্য প্রদানে বাধা প্রদান করেন—সেটা কিন্তু গণতান্ত্রিক রীতিনীতির বাইরে।
তিনি আরও বলেন, আমি আপনাকে অনুরোধ করবো, অনারেবল মেম্বারস অব দ্য পার্লামেন্ট, যারা আছেন প্রত্যেকের এখানে লিবার্টি আছে। তারা তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করবেন। আপনাদের টার্ন যখন আসে, আপনারা তখন সেটা খণ্ডন করবেন। কিন্তু বক্তব্য প্রদানে বাধা প্রদান করা কোনো অবস্থাতেই কাম্য না।
এরপর স্পিকার পরবর্তী বক্তা হিসেবে কিশোরগঞ্জ-৫ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালকে বক্তব্য দেওয়ার জন্য আহ্বান জানান।
বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মাননীয় সংসদ সদস্যকে আপনি সুযোগ দিয়েছেন, হতে পারে তার কথাগুলো সবগুলো সঙ্গত নয়। আবার হতে পারে যে কথাগুলো তার গুরুত্বপূর্ণ। আমরা তো কিছুই শুনতে পারলাম না। তার কথাগুলো শোনার যেমন দায়িত্ব আমাদের আছে, বলারও অধিকার তার আছে। তিনি যদি আনপার্মেন্টারি কোনো কথা বলে থাকেন সেটা আপনার জায়গা থেকে রুলিং আসতে পারে। আবার এ সমস্ত কথার জবাব সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী যখন দাঁড়াবেন, তিনি যদি প্রয়োজন মনে করেন তিনি দিতেই পারেন। এ সময় রুমিন ফারহানা বক্তব্য রাখতে কয়েকবার দাঁড়ালেও তাকে সুযোগ দেওয়া হয়নি।
এরপরে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মণি বলেন, আমরা চাই সংসদে সব সমস্যার সমাধান হোক কিন্তু সংসদে সমস্যার সমাধানের চেয়ে যদি আমরা সমস্যা তৈরি করি নিজেরা, সেটা একটা প্রবলেম। আমরা চাই এখানে গঠনমূলক আলোচনা হোক। আমরা সংসদে এমন আলোচনা যদি করি যে আলোচনা একজনকে আহত করে অথবা একজনকে ক্ষতি করে, সে আলোচনা আমরা করতে চাই না। এ সময় চিফ হুইপকে উদ্দেশ্য করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, আপনার মূল দায়িত্ব হাউজে শৃঙ্খলা রাখা। আমরা প্রত্যাশা করব যার যার স্বাধীনতা, গণতান্ত্রিকভাবে পরিষ্কারভাবে বক্তব্য রাখবেন।
প্রধান বিচারপতির এজলাস ত্যাগ প্রসঙ্গ সংসদে
এদিকে প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতির এজলাস ত্যাগের ঘটনায় জাতীয় সংসদে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন। এ ধরনের ঘটনায় বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও জনগণের ন্যায়বিচার পাওয়ার শেষ আশ্রয়স্থল নিয়ে জনমনে কী বার্তা যাচ্ছে, তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান তিনি। গতকাল বুধবার রাতে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি এ আহ্বান জানান।
ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান বলেন, মাহবুব উদ্দিন খোকন শুধু একজন আইনজীবী নন, তিনি সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এবং সংসদ সদস্য। একই সঙ্গে তিনি ক্ষমতাসীন দলের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বিচার বিভাগের স্বাধীনতার প্রশ্নে উদ্বেগ তৈরি করে।
এ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, সংসদ সদস্য যে প্রশ্নটি উত্থাপন করেছেন, তা অবশ্যই আলোচনার দাবি রাখে। তবে এ ঘটনাকে রাষ্ট্রের তিন অঙ্গের মধ্যে ক্ষমতার পৃথকীকরণ বা ‘সেপারেশন অব পাওয়ার’-এর বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। যে আইনজীবীর আচরণ নিয়ে ঘটনা ঘটেছে, তিনি সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি। বার অ্যাসোসিয়েশন রাষ্ট্রের তিন অঙ্গের কোনো অঙ্গের অংশ নয়; এটি সুপ্রিম কোর্টে আইন পেশায় নিয়োজিত আইনজীবীদের একটি সংগঠন। তাই ওই আইনজীবীর আচরণকে কোনো রাষ্ট্রীয় অঙ্গের আচরণ হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না।
বার ও বেঞ্চের পারস্পরিক সম্পর্কের বিষয়টি তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, আদালতে আইনজীবীদের মধ্যে বা আইনজীবী ও বেঞ্চের মধ্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হলেও অনেক সময় আদালতের বাইরে তাদের মধ্যে স্বাভাবিক সম্পর্ক থাকে। অতীতের একটি আদালতকেন্দ্রিক ঘটনার উদাহরণ দিয়ে তিনি বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন। আইনমন্ত্রী জানান, আগের দিনের ঘটনার পর প্রধান বিচারপতি এজলাস ত্যাগ করলেও পরদিন সকাল ৯টায় তিনি যথারীতি আদালতের কার্যক্রম শুরু করেছেন। এমনকি ওই আইনজীবীও প্রধান বিচারপতির আদালতে গিয়ে স্বাভাবিকভাবে মামলায় অংশ নিয়েছেন বলে তিনি জানতে পেরেছেন।
সার সংকট নিয়ে সংসদে আলোচনা
চলমান সার সংকট নিয়ে জাতীয় সংসদে আলোচনা হয়েছে। কার্যপ্রণালি বিধির ৬৮ বিধি অনুসারে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান। আলোচনা প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়, দেশজুড়ে তীব্র সার সংকটে কৃষি কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়া; কৃষকদের মাঝে বিরাজমান আতঙ্ক এবং সম্ভাব্য খাদ্য সংকটের ঝুঁকি নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ।
আলোচনা উত্থাপনের কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, বর্তমানে সারা দেশে ইউরিয়া, ডিএপি ও টিএসপিসহ প্রয়োজনীয় সারের সংকট দেখা দিয়েছে। সঠিক সময়ে সার না পাওয়ায় এবং বাজারে সারের সংকট ও অতিরিক্ত দামের কারণে সারা দেশের কৃষি কাজ চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সারের অপ্রতুলতায় কাঙ্খিত ফসল উৎপাদন না হওয়ার আশঙ্কায় সাধারণ কৃষকদের মাঝে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ হওয়ায় সময়মতো সারের সরবরাহ নিশ্চিত করতে না পারলে মারাত্মক খাদ্য ঘাটতি এবং নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের অনাকাঙ্ক্ষিত মূল্যবৃদ্ধির ঝুঁকি রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা, সারের সুষ্ঠু সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং সম্ভাব্য খাদ্য সংকট মোকাবিলায় সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের উদ্দেশ্যে বিষয়টির ওপর সংসদে অবিলম্বে আলোচনা হওয়া জরুরি।
আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মাহবুবুল আলম সালেহী বলেছেন, দেশে পর্যাপ্ত সার মজুদ থাকার পরও কৃষক সার পাচ্ছেন না—এমন পরিস্থিতি সরকারের সার ব্যবস্থাপনা, পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ও সরবরাহ ব্যবস্থার ব্যর্থতা। সার সংকট আগামী রবি ও বোরো মৌসুম পর্যন্ত অব্যাহত থাকলে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়বে।
সার সংকটের অতীত ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য হলো বাংলাদেশের সার সংকট এবারই প্রথম না। ২০০৮ সালে একবার সার সংকট হয়েছিল। বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সার সংকট হয়েছিল ১৯৯৫ সালে। তখন সারের এই অধিকারের জন্য আইএমএফ এবং ইউনাইটেড স্টেটের হিউম্যান রাইটস রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলাদেশের ১৩ থেকে ১৯ জন কৃষককে পুলিশের গুলিতে জীবন দিতে হয়েছে।
বর্তমান সংকটের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০২৬-এর বর্তমান এই সংকটে সরকারের তথ্যপত্রে সার অতিরিক্ত মজুদ আছে। একটা বড় প্রশ্ন হলো—সার যদি অতিরিক্ত মজুদ থাকে, তাহলে গত আমি আমার নির্বাচনী আসন উলিপুরে গিয়েছিলাম। কৃষকরা আমাকে এসে বলছে যে সার পাচ্ছে না। সার পেতে হলে কালোবাজারে যেতে হচ্ছে।
কৃষিমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, স্বৈরাচার সরকারের সময়ে নিয়োগ পাওয়া অনেক সার ডিলার এখনও বহাল থাকলেও অনেকে পলাতক রয়েছেন। ফলে প্রায় ৩ হাজার ৭৫৯টি ডিলার পয়েন্ট শূন্য রয়েছে। এসব শূন্য পদে নতুন ডিলার নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, নতুন করে প্রত্যেক ইউনিয়নে একজন করে ডিলার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। এর আবেদন জমা দেওয়ার শেষ দিন আগামীকাল। নতুন ডিলারের সংখ্যা প্রায় ৪ হাজার ৯১৮ জন হতে পারে। তারা নিজে একজন এবং অতিরিক্ত আরও দুজন খুচরা ডিলার নিয়োগ করতে পারবেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, ২৬ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত সরকারের কাছে ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি সার মজুদ রয়েছে। একই সঙ্গে পরিবহনাধীন সারও রয়েছে। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের বিসিআইসি ও বিএডিসির গোডাউনগুলোতে প্রয়োজনীয় সার বিতরণ ও মজুদ রয়েছে।
তিনি বলেন, ২৯ আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে বিচ্ছিন্ন ২২টি ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় জেলা প্রশাসন ও ম্যাজিস্ট্রেটরা ২০৪টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করেছেন।
সারের দামের পার্থক্যের কারণে ভারত ও মিয়ানমারে সার পাচারের প্রবণতার তথ্য সরকারের কাছে রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের দুটি ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাদের কাছ থেকে সার জব্দ করা হয়েছে।
কৃষক কার্ডের প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচির অংশ। কৃষক কার্ডের জরিপ চলছে এবং আগামী ডিসেম্বর-জানুয়ারির মধ্যে দেশের প্রায় দুই কোটি কৃষককে এর আওতায় আনার কাজ চলছে।
পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. শফিকুল ইসলাম বলেছেন, কাগজে-কলমে সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলা হলেও সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে মাঠপর্যায়ে তীব্র সার সংকটে কৃষকরা হাহাকার করছেন। সারের কৃত্রিম সংকট, অনিয়ম ও ডিলার নিয়োগে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকার বাণিজ্যের অভিযোগ তুলে ধরে তিনি বোরো মৌসুমের আগেই ডিলার পর্যায়ে কঠোর নজরদারি ও সুষ্ঠু বিতরণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার তাগিদ দেন।
বিভিন্ন পত্রিকার সংবাদের তথ্য উল্লেখ করে তিনি করেন, কথা উঠেছে সারে নাকি আমাদের পুরো দেশ ভাসছে। ওকে, ভাসছে মেনে নিলাম। কিন্তু প্রথম আলোর রিপোর্ট বলছে, ন্যায্যমূল্যের চেয়েও বেশি টাকা দিয়ে সার পাচ্ছে না কৃষক। এটা জামায়াত বা বিরোধী দলের বট বাহিনীর কোনো রিপোর্ট না।
সীমান্ত দিয়ে সার পাচারের আশঙ্কাজনক তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, কুড়িগ্রামে রাতভর অভিযানে অবৈধভাবে মজুদ করা ২১৫০ কেজি সার জব্দ হয়েছে। গোডাউন ভেঙে ১০ হাজার কেজি সার নিয়ে গেছে কৃষকরা কেন গোডাউন ভাঙতে হলো? তার মানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক নয়। অন্যদিকে ভর্তুকির সার পাচার হচ্ছে মিয়ানমারে। কিছুদিন আগে উখিয়া ও টেকনাফে গিয়ে প্রান্তিক মানুষের সাথে কথা বলেছি। তারা বলেছেন, প্রভাবশালী চক্র সার পাচার করে ওখান থেকে ইয়াবা ও আইসের মতো মারাত্মক মাদক আমাদের দেশে ঢুকিয়ে দিচ্ছে। ভর্তুকির বদলে দেশে ফেরত আসছে বিষ।
ব্রাক্ষণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার প্রতি ইঙ্গিত করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, একজন সংসদ সদস্য উঠে চলে গেছে। উনি থাকলে আমি বলতাম। উনি যখন বক্তৃতা দেয় তখন উকিল আব্দুল সাত্তারের কথা মনে পড়ে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় উনি ছয় বারের এমপি ছিল। বেইমানির কারণে জানাযায় ছয় জন মানুষ কপালে জোটেনি। ওনার বেলায় কি হবে, আমি বলতে পারছি না। আল্লাহই বাকি জানেন।
সংবিধানে ঈমান-আস্থা ও সংসদে নামাজ চালুর দাবি
সংবিধানে আল্লাহর প্রতি পূর্ণ ঈমান ও আস্থা পুনঃস্থাপন, নামাজ কায়েম এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে যাকাত ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান। তিনি সংসদ সদস্যদের আমল ও চরিত্র গঠনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে সংসদে নামাজের বিরতির সময় যথাযথভাবে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান। তবে ধর্ম পালন ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও বিশ্বাসের বিষয় উল্লেখ করে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, সংসদ থেকে কোনো নোটিশ জারি করে কাউকে জোর করে ধর্ম পালনে বাধ্য করা যায় না।
সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান বলেন, অতীতে সংবিধানে আল্লাহর প্রতি ঈমান ও আস্থার বিষয়টি ছিল। পরে তা বাতিল করা হয়েছে। দেশের অধিকাংশ মানুষ মুসলমান উল্লেখ করে তিনি সংসদে আসর ও মাগরিবের নামাজের বিরতির বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, ক্ষমতার দায়িত্ব পাওয়ার পর মূল কাজ হওয়া উচিত সালাত কায়েম ও যাকাত ব্যবস্থার মাধ্যমে সমাজ থেকে ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও বেকারত্ব দূর করা। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নামাজ ও যাকাত চালুর জন্য স্পিকার ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, প্রশাসনিক উদ্যোগে নামাজ কায়েম ও যাকাত ব্যবস্থা চালু হলে নাগরিকদের চরিত্র গঠনের পাশাপাশি জবাবদিহির পথও সুগম হবে।
জবাবে স্পিকার বলেন, ধর্ম পালন সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও বিশ্বাসের ওপর নির্ভরশীল। ইসলাম মানবতার ধর্ম। সঠিকভাবে ধর্ম পালন করলে বেহেশত এবং অবহেলা করলে জাহান্নামের বিষয়টি ধর্মীয় বিধানের অংশ। তাই জাতীয় সংসদ থেকে কোনো নোটিশ জারি করে কাউকে জোর করে ধর্ম পালনে বাধ্য করা যায় না।
তবে ওই সংসদ সদস্যের বক্তব্যে প্রকাশিত অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান স্পিকার। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সবাই আল্লাহর বিধান মেনে চলবেন।
এরপর নামাজ নিয়ে বক্তব্য দিতে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়ান ময়মনসিংহ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ফখরুদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, শুধু নির্দিষ্ট জায়গায় নয়, মসজিদের বাইরেও অনেকে নিয়মিত নামাজ আদায় করেন। এ পর্যায়ে তার বক্তব্য থামিয়ে দেন স্পিকার। তিনি বিষয়টি নতুন বিতর্কে রূপ না দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে রুলিং দেন।
সেনা দুর্ঘটনা
জাতীয় সংসদ অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে চট্টগ্রামের হাটহাজারীর ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে ট্যাংকের গোলাবর্ষণের সময় দুর্ঘটনায় দুই সেনাসদস্য নিহত হওয়ার খবর সংসদে তুলে ধরেন রাশেদুল ইসলাম রাশেদ। তিনি জানান, ফায়ারিং অনুশীলনের সময় আকস্মিক দুর্ঘটনায় দুই সেনাসদস্য নিহত এবং একজন কর্মকর্তা গুরুতর আহত হয়েছেন।
পাঁচ বিভাগে ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক
দেশের আট বিভাগের পাঁচটিতেই ডেঙ্গু পরিস্থিতি ‘উদ্বেগজনক’ বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেছেন, খুলনা, বরিশাল, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ বিভাগে আক্রান্ত রোগী এবং এডিস মশার লার্ভার উৎপত্তিস্থল বেশি পাওয়া যাচ্ছে। সংসদ সদস্যদের প্রতি নিজ নিজ এলাকায় পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতা বাড়াতে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। ডেঙ্গুর প্রকোপ ঠেকাতে ১২ সেপ্টেম্বর থেকে তিন মাসের ‘দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্ন অভিযান-২০২৬’ শুরু করতে যাচ্ছে সরকার।
ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. শহিদুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের সংযোগ হলে তেজগাঁও টোল প্লাজাসহ পুরো এক্সপ্রেসওয়ের যানবাহনের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। এ জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সোনারগাঁও গোল চত্বর থেকে উত্তরমুখী আরেকটি র্যাম্প নির্মাণের কাজ চলছে। এই র্যাম্প চালু হলে তেজগাঁও টোল প্লাজার ওপর নির্ভরতা অনেকাংশে কমবে।
মেট্রোরেলে ২৭টি বিয়ারিং প্যাড ক্রিটিক্যাল
কুমিল্লা-৯ আসনের আবুল কালামের প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, সেফটি অডিট কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেট্রোরেল রুটের ৭৩০টি বিয়ারিং প্যাডের সবগুলোই ক্রিটিক্যাল নয়। বিয়ারিং প্যাডের ১৪৭টির ত্রুটি মাইনর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ২৯৭টি প্যাডের ক্ষেত্রে ত্রুটি মূলত স্থাপন ওয়ার্কম্যানশিপ সংক্রান্ত। ২৭টি ত্রুটিপূর্ণ বিয়ারিং প্যাডকে ক্রিটিক্যাল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অডিট কমিটির প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী ৪৬টি পিয়ারে বিভিন্ন মাত্রায় ক্র্যাক বা ফাটল চিহ্নিত হয়েছে।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যাত্রীবাহী ট্রেন পুনরায় চালুর উদ্যোগ
কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বর্তমানে কোনো যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল করছে না। তবে পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল অব্যাহত রয়েছে। রহনপুর, দর্শনা ও বেনাপোল ইন্টারচেঞ্জ স্টেশনের মাধ্যমে ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রেন গ্রহণ করা হচ্ছে। প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৪৩টি পণ্যবাহী ট্রেন বাংলাদেশে আসছে। একই সময়ে প্রায় ৪২টি খালি রেক ভারতে পাঠানো হচ্ছে। তিনি আরো জানান, যাত্রীবাহী ট্রেন পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। রাজশাহী-কলকাতা-রাজশাহী রুটে একটি যাত্রীবাহী ট্রেন চালুর বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর্যায়ে রয়েছে।
গণপরিবহনে জিপিএস চালুর উদ্যোগ
কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, সড়ক দুর্ঘটনা কমানো ও গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে গণপরিবহনে জিপিএস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে গাড়ির অবস্থান ও গতি পর্যবেক্ষণ করা যাবে। নির্ধারিত গতিসীমা অতিক্রম কিংবা ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে রেকর্ড হবে। পরে চালক ও মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এতে যত্রতত্র গাড়ি থামানো, যাত্রী ওঠানামা এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের মতো অনিয়মও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
৫৫ কিলোমিটার মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত
নরসিংদী-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. আশরাফ উদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ৫৫ কিলোমিটার মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করা হয়েছে। একই সময়ে ৮১ কিলোমিটার নতুন ফ্লেক্সিবল পেভমেন্ট ও ৫৯ কিলোমিটার রিজিড পেভমেন্ট নির্মাণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ২৫৯ দশমিক ৫৩ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্ত, ১৫৮ কিলোমিটার সড়ক শক্তিশালী এবং ২৫৮ কিলোমিটার মহাসড়ক পুনঃপৃষ্ঠায়ন করা হয়েছে। ওই অর্থবছরে ৫৮টি সেতু, ২১৪টি কালভার্ট, একটি ফ্লাইওভার, একটি ওভারপাস ও দুটি আন্ডারপাস নির্মাণ করা হয়েছে। বর্তমানে ১৫ হাজার ৮৫১ কোটি ৮ লাখ টাকা এডিপি বরাদ্দে ৯৫টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।
এমএসআই/এমএন
