বিজ্ঞাপন

সারের পলাতক ডিলারের শূন্যস্থানে পূরণে ৫ হাজার ডিলার নিয়োগের ঘোষণা

সারের পলাতক ডিলারের শূন্যস্থানে পূরণে ৫ হাজার ডিলার নিয়োগের ঘোষণা

দেশে বর্তমানে সারের কোনো ঘাটতি নেই, বরং চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত মজুত রয়েছে বলে জাতীয় সংসদে স্পষ্ট দাবি করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

তিনি জানান, বিগত স্বৈরাচার সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া ডিলাররা, যাদের অনেকে এখন পলাতক, তারা নতুন সরকারকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করতে মাঠপর্যায়ে কৃত্রিম সংকট তৈরির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত সংকট কাটাতে ও বিতরণ ব্যবস্থার গতি ফেরাতে সরকার নতুন করে সারা দেশে প্রায় ৫ হাজার নতুন ডিলার এবং তাদের অধীনে আরও ১৬ হাজার খুচরা ডিলার নিয়োগের ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নাজিবুর রহমানের উত্থাপিত দেশজুড়ে সার সংকট, কৃষি কাজ ব্যাহত হওয়া এবং সম্ভাব্য খাদ্য নিরাপত্তার ঝুঁকি নিরসন সংক্রান্ত জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশের আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রতিমন্ত্রী এসব তথ্য তুলে ধরেন।

মীর শাহে আলম সংসদকে অবহিত করে বলেন, বিগত সরকারের সময়কার প্রায় ৩ হাজার ৭৫৯ জন সারের ডিলার বর্তমানে এলাকা ছেড়ে পলাতক থাকায় বিতরণ পয়েন্টগুলো সাময়িকভাবে অকার্যকর হয়ে পড়েছিল। তবে সার সরবরাহ শৃঙ্খলে যাতে কোনো ব্যাঘাত না ঘটে, সে লক্ষ্যে সরকার প্রতিটি ইউনিয়নে কমবেশি ৪ হাজার ৯১৮ জন নতুন ডিলার নিয়োগ দিচ্ছে, যা সম্পূর্ণ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন করা হচ্ছে। নিয়োগ প্রাপ্ত নতুন ডিলারদের মাধ্যমে আবার এলাকাভেদে প্রয়োজনীয় সংখ্যক খুচরা ডিলার নিযুক্ত করা হবে।

জাতীয় সারের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ মজুত পরিস্থিতি পুনর্ব্যক্ত করে প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বোরো মৌসুমকে সামনে রেখে দেশে ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি সারের সম্ভাব্য মোট চাহিদা হিসাব করা হয়েছে ৩৫ লাখ ৮৭ হাজার মেট্রিক টন। এর বিপরীতে সরকারের হাতে বর্তমানে জোগান রয়েছে ৫১ লাখ ৭১ হাজার মেট্রিক টন। ফলে চাহিদার চেয়েও প্রায় ১৫ লাখ ৮৪ হাজার মেট্রিক টন সার অতিরিক্ত উদ্বৃত্ত হিসেবে সংরক্ষিত থাকছে।

কৃত্রিম সংকট তৈরি, অবৈধ মজুতদার ও পাচারকারীদের কঠোর হস্তে দমনের তথ্য প্রদান করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি দেশের কয়েকটি স্থানে বিচ্ছিন্ন অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করা হলে জেলা প্রশাসন থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ৩৫ লাখ টাকা জরিমানাসহ অবৈধ সার জব্দ করা হয়। একইসঙ্গে পার্শ্ববর্তী সীমান্ত দিয়ে সার পাচারের চেষ্টার সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। কুড়িগ্রামসহ যেসব এলাকায় সারের অহেতুক গুজবে বিক্ষোভ দেখা দিয়েছিল, সেখানেও স্থানীয় প্রশাসন তাৎক্ষণিক বিকল্প ব্যবস্থায় সঠিক সারের সরবরাহ নিশ্চিত করেছে।

সার বীজ মনিটরিং কমিটিতে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের যুক্ত করা প্রসঙ্গে বিরোধী দলীয় সদস্যদের বক্তব্যের উত্তরে প্রতিমন্ত্রী মন্তব্য করেন যে, সার বিতরণের মূল দায়িত্ব পেশাদার ডিলারদের এবং এটি নিয়মমাফিক চলাই সমীচীন। সংসদ সদস্যদের মনিটরিং কমিটিতে কারিগরি দায় নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নেই বিবেচনা করেই নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত অঙ্গীকার পূরণের অংশ হিসেবে সারাদেশের প্রায় দুই কোটি প্রান্তিক কৃষকের কাছে পর্যায়ক্রমে ‘কৃষক কার্ড’ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে, যা সম্পন্ন হলে ভর্তুকির সার বিতরণ ও সার্বিক সেবা আরও স্বচ্ছ ও সহজতর হবে।

এসআর/এমএন

বিজ্ঞাপন