বিজ্ঞাপন

এক্সপ্রেসওয়েতে মরদেহ : সুপারভাইজার-হেল্পারের পর চালকের দোষ স্বীকার

এক্সপ্রেসওয়েতে মরদেহ : সুপারভাইজার-হেল্পারের পর চালকের দোষ স্বীকার

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে ইসমাইল হোসেন নামের ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার বাসচালক সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. কামাল উদ্দীনের আদালত তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এদিন আসামিকে চার দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করে জেলহাজতে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও বনানী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলাম তালুকদার। এদিকে আসামি সোহেল স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হন। পরে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।

এর আগে গত ৬ সেপ্টেম্বর এ মামলায় গ্রেপ্তার সুপারভাইজার সাজু লস্কার এবং হেলপার মাহবুব আলম মনির আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ওই দিন ঢাকার পৃথক দুই মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। একই সঙ্গে, বাসচালক সোহেল রানার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। রিমান্ড শেষে তিনি আদালতে জবানবন্দি দিলেন।

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে ইসমাইলের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নিহতের ছেলে মো. হাসান বাদী হয়ে বনানী থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, গত ৪ সেপ্টেম্বর ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ইসমাইল হোসেন জামালপুর থেকে গাজীপুরের বাসায় আসার জন্য রওনা দেন। এ সময় গ্রামের বাড়ির জমি বিক্রির নগদ পাঁচ লাখ টাকা ও বিভিন্ন ধরনের খাদ্যদ্রব্য সঙ্গে নিয়ে বাসে উঠেন। তার আসার খবরে ছেলে মো. হাসান গাজীপুর জিরানী বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষা করতে থাকেন। তবে পিতার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর কলে তিনি বন্ধ পান। পরে সকাল ১০টা পর্যন্ত জিরানী বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষা করে বাসায় চলে যান। 

দুপুর ১২টার দিকে ঢাকার বনানী থানা থেকে প্রতিবেশী মন্টুকে ফোন করে জানানো হয়, ইসমাইল হোসেনের মৃতদেহ পাওয়া গেছে। পরে মৃতদেহের ছবি দেখে শনাক্ত করেন ছেলে হাসান। তিনি জানতে পারেন, বনানী থানাধীন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাকলি থেকে কুড়িলগামী রাস্তার ১৭৯ ও ১৮০ নম্বর পিলারের মধ্যবর্তী এক্সপ্রেসওয়েতে তার পিতাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। কিন্তু সঙ্গে থাকা নগদ টাকা ও গ্রামের বাড়ি থেকে নিয়ে আসা কোনো মালামাল পাওয়া যায়নি। তার পিতার শরীরে জখমের চিহ্ন এবং নাক, মাথা ও ডান হাতের কবজি সাদা কস্টেপ দিয়ে মোড়ানো ছিল।

এনআর/এসএএস