আনসার-ভিডিপির স্বেচ্ছাসেবক সদস্যদের আত্মকর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করতে নেওয়া ‘সঞ্জীবন প্রকল্পে’ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতকে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের তৃণমূল পর্যায়ে মৎস্য, ডেইরি, পোল্ট্রি ও প্রাণিসম্পদভিত্তিক ক্ষুদ্র উদ্যোগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা দেখছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ।
সাক্ষাৎকালে সঞ্জীবন প্লাটুনের সদস্যদের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদভিত্তিক আত্মকর্মসংস্থানে যুক্ত করা এবং এ বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতার সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সহকারী পরিচালক ও গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. নাজমুস সাকিব জানান, ২০২৬ সালের শুরু থেকে মাঠ পর্যায়ে উপজেলা ও গ্রাম পর্যায়ে ‘সঞ্জীবন প্লাটুন’ গঠনের কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। চাকরির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বাহিনীর সদস্যদের দক্ষ, কর্মমুখী ও স্বাবলম্বী করে তোলাই এ প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য।
দেশের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা, প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণ এবং গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আনসার-ভিডিপির স্থানীয় পর্যায়ে বিস্তৃত উপস্থিতি ও সংগঠিত সদস্যশক্তিকে এই খাতের সঙ্গে যুক্ত করা গেলে তৃণমূল পর্যায়ে উৎপাদন ও উদ্যোক্তা কার্যক্রম আরও বাড়ানো সম্ভব বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।
তিনি বলেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কারিগরি নির্দেশনা অনুসরণ করে সঞ্জীবন প্লাটুনের উদ্যোক্তারা স্বল্প পুঁজিতে উন্নত জাতের গাভী, ছাগল, গাড়ল ও ভেড়া পালন এবং দেশি-বিদেশি জাতের মুরগির খামার গড়ে তুলতে পারবেন। দলগত উদ্যোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে এসব খামার পরিচালনা করা হলে দুধ ও নিরাপদ মাংস উৎপাদনে ভূমিকা রাখার সুযোগ তৈরি হবে।
একই সঙ্গে মানসম্মত ও ভেজালমুক্ত পশুখাদ্য ব্যবহার, স্বাস্থ্যসম্মত খামার ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপদ বাজারজাতকরণেও সদস্যদের সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে একদিকে সদস্যদের আয় ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে, অন্যদিকে গ্রামীণ পর্যায়ে প্রাণিসম্পদ উৎপাদনের পরিধি বাড়তে পারে।
মৎস্য খাতেও একই ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। মাছ চাষ, সমন্বিত মৎস্য চাষ এবং মৎস্যভিত্তিক ক্ষুদ্র উদ্যোগে আনসার-ভিডিপির সদস্যদের যুক্ত করা গেলে পুকুর, জলাশয় ও পতিত জমির পরিকল্পিত ব্যবহার বাড়ানো সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।
এ জন্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিষয়ে কারিগরি প্রশিক্ষণ, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রশিক্ষণের পাশাপাশি উৎপাদন উপকরণ, ঋণ ও বাজারসংযোগ নিশ্চিত করা গেলে তৃণমূল পর্যায়ে টেকসই উদ্যোক্তা তৈরি করা সম্ভব।
তিনি আরও জানান, সঞ্জীবন প্রকল্পকে কার্যকর করতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তার পাশাপাশি আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের মাধ্যমে সহজ শর্তে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ঋণের সুযোগ তৈরির বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
প্রশিক্ষণ, ঋণ, উৎপাদন উপকরণ, কারিগরি পরামর্শ ও বাজারসংযোগ- এই পাঁচটি বিষয় সমন্বিতভাবে নিশ্চিত করা গেলে আনসার-ভিডিপির সদস্যরা ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ পরিচালনার সুযোগ পাবেন বলে মনে করছে বাহিনীটি।
আনসার-ভিডিপির তথ্য অনুযায়ী, দেশে বাহিনীর প্রায় ৬০ লাখ সদস্য রয়েছেন। এসব সদস্যের পরিবারকে উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা গেলে প্রায় ৩ কোটি মানুষের অর্থনৈতিক ও পুষ্টিগত উন্নয়নে পরোক্ষভাবে ভূমিকা রাখার সম্ভাবনা রয়েছে।
সঞ্জীবন প্লাটুনের মাধ্যমে মৎস্য, ডেইরি, পোল্ট্রি ও প্রাণিসম্পদ খাতের ক্ষুদ্র উদ্যোগ সম্প্রসারিত হলে প্রাণিজ আমিষের উৎপাদন বৃদ্ধি, পুষ্টির চাহিদা পূরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশে ভূমিকা রাখার আশা করছে আনসার-ভিডিপি।
বাহিনীটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সঞ্জীবন প্রকল্পের লক্ষ্য শুধু আনসার-ভিডিপির সদস্যদের আত্মনির্ভরশীল করা নয়; তাদের সংগঠিত সদস্যশক্তিকে দেশের উৎপাদন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত করাও এর অন্যতম উদ্দেশ্য। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, মৎস্য অধিদপ্তর, আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বিত সহযোগিতায় এ উদ্যোগ তৃণমূল পর্যায়ে নতুন কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছে বাহিনীটি।
জেইউ/বিআরইউ
