চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার কেইপিজেড এলাকায় দুই বন্য হাতির অবাধ বিচরণে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। গত কয়েক দিন ধরে দেয়াঙ পাহাড় থেকে নেমে আসা হাতি দুটিকে কেইপিজেডের বিভিন্ন সড়ক ও দর্শনীয় স্থানে ঘুরতে দেখা যাচ্ছে। হাতি দেখতে সেখানে ভিড় করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীরা। তাদের কেউ কেউ আবার হাতির খুব কাছে গিয়ে ছবি ও ভিডিও করছেন। চিৎকার, ঢিল ছোড়া ও ফ্ল্যাশ জ্বালিয়ে ছবি তোলার মতো ঘটনায় হাতি দুটি আরও উত্তেজিত হয়ে উঠছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলেও কেইপিজেড এলাকায় হাতি দুটিকে দেখা যায়। এ সময় হাতি দেখতে সড়কের পাশে ভিড় করেন অনেক মানুষ। নিরাপদ দূরত্ব বজায় না রেখে কয়েকজনকে হাতির কাছাকাছি যেতে দেখা যায়। এতে যেকোনো সময় হাতির আক্রমণে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েক দিন ধরে সন্ধ্যার পর দেয়াঙ পাহাড় থেকে নেমে লোকালয় ও কেইপিজেডের বিভিন্ন এলাকায় বিচরণ করছে হাতির দল। দিনের বেলায় পাহাড়ে অবস্থান করলেও সন্ধ্যার পর প্রায়ই নিচে নেমে আসে তারা। হাতি দেখার জন্য প্রতিদিনই কেইপিজেডের সড়ক ও আশপাশের এলাকায় মানুষের ভিড় হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হাতির কাছাকাছি গিয়ে ছবি ও ভিডিও করার পাশাপাশি অনেকে চিৎকার করছেন, ঢিল ছুঁড়ছেন এবং মোবাইল ফোনের ফ্ল্যাশ জ্বালাচ্ছেন। এতে হাতিগুলো ভয় পেয়ে বা উত্তেজিত হয়ে মানুষের দিকে তেড়ে আসতে পারে।
চট্টগ্রামের বাঁশখালী বন বিভাগের বনকর্মী মোহাম্মদ ফোরকান বলেন, ‘বন্যপ্রাণীকে বিরক্ত করা বা কাছে গিয়ে উত্যক্ত করা মারাত্মক অপরাধ ও ঝুঁকিপূর্ণ। হাতি শান্ত থাকলেও বিরক্ত করলে তা হিংস্র রূপ নিতে পারে। পর্যটকদের নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান এবং কোনোভাবেই হাতিকে উত্যক্ত না করতে অনুরোধ করছি।’
তিনি আরও বলেন, হাতি ও মানুষের নিরাপত্তার জন্য বন বিভাগের ইআরটি (এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম) সদস্যদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তারা সার্বক্ষণিক নজরদারি জোরদার করছেন।
আট বছর ধরে হাতির বিচরণ
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রায় এক যুগ আগে বন্য হাতির একটি দল কেইপিজেডের দেয়াঙ পাহাড় এলাকায় আসা-যাওয়া শুরু করে। শুরুতে কয়েক দিন অবস্থান করে চলে গেলেও ২০১৮ সালের দিকে হাতিগুলো কেইপিজেড ও দেয়াঙ পাহাড় এলাকায় স্থায়ীভাবে অবস্থান নিতে শুরু করে।
দেয়াঙ পাহাড়ের হ্রদ ও বনঘেরা এলাকায় হাতির দলটি বিচরণ করে। আনোয়ারার বটতলী ও হাজীগাঁও এবং কর্ণফুলীর কেইপিজেড-সংলগ্ন এলাকায় প্রায়ই হাতির দেখা মেলে। খাবারের সন্ধানে হাতিগুলো পাহাড় থেকে নেমে লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। এতে ফসলের ক্ষতির পাশাপাশি মানুষের প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের মাঝামাঝি সময়ে হাতির আক্রমণে কেইপিজেড এলাকায় প্রথম মানুষের মৃত্যু ঘটে। শুরুতে হাতির দলে দুটি বড় ও একটি ছোট হাতি ছিল। বিভিন্ন সময় আরও একটি বড় হাতিকে এ দলের সঙ্গে দেখা গেছে। স্থানীয়দের কাছে ওই হাতিটি ‘লেজ কাটা’ হাতি নামে পরিচিত।
কর্ণফুলীর বড় উঠান ও আনোয়ারার বৈরাগ ইউনিয়নের বাসিন্দাদের কাছে দীর্ঘদিন ধরেই বন্য হাতির বিচরণ আতঙ্কের কারণ হয়ে আছে। গভীর রাতেও কর্ণফুলী টানেলের আনোয়ারা প্রান্তের সংযোগ সড়কের পশ্চিম বৈরাগ অংশ পার হতে হাতিগুলোকে দেখা গেছে বলে জানান স্থানীয়রা।
এএইচ/এনটি
