বিজ্ঞাপন

ছয় মাসেই সরকারের নীতি ও বাস্তবায়নের গতিপথ বোঝা যায় : আনোয়ারউল্লাহ

ছয় মাসেই সরকারের নীতি ও বাস্তবায়নের গতিপথ বোঝা যায় : আনোয়ারউল্লাহ

একটি সরকারের পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়নের জন্য ছয় মাস দীর্ঘ সময় না হলেও সরকারের নীতি, অগ্রাধিকার ও বাস্তবায়নের গতিপথ বোঝার জন্য এ সময় যথেষ্ট বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর মানুষ যে স্বাধীন, গণতান্ত্রিক, বৈষম্য ও নিপীড়নমুক্ত বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিল, সেই আকাঙ্ক্ষা কতটুকু বাস্তবায়িত হয়েছে, তা এখন গভীরভাবে মূল্যায়নের সময় এসেছে।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে সেন্টার ফর ইনক্লুসিভ পলিসি অ্যান্ড গভর্ন্যান্সের (সিআইপিজি) আয়োজনে ‘সরকারের ৬ মাস: প্রত্যাশা, প্রাপ্তি ও ঘাটতির মূল্যায়ন’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

অধ্যাপক আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘একটি সরকারের পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়নের জন্য ছয় মাস দীর্ঘ সময় না হলেও সরকারের নীতি, অগ্রাধিকার ও বাস্তবায়নের গতিপথ বোঝার জন্য তা যথেষ্ট।’

তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের শাসনব্যবস্থার শৃঙ্খল ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক আন্দোলনের মাধ্যমে ভেঙে পড়ে। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে। গণ-অভ্যুত্থানের পর মানুষ যে স্বাধীন, গণতান্ত্রিক, বৈষম্য ও নিপীড়নমুক্ত বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিল, সেই আকাঙ্ক্ষা কতটুকু বাস্তবায়িত হয়েছে, তা এখন গভীরভাবে মূল্যায়নের সময় এসেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগে দলীয়করণের অভিযোগও তোলেন ঢাবির সাবেক এই উপাচার্য। 

তিনি বলেন, বিষয়ভিত্তিক যোগ্যতা ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রয়োজন বিবেচনা না করে দলীয় বিবেচনায় অ্যারাবিক বিভাগের একজন অধ্যাপককে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি আরও বলেন, সরকারের ছয় মাসের কার্যক্রম মূল্যায়নে শুধু সময়ের পরিমাণ বিবেচনা করলে হবে না; বরং এই সময়ে সরকার কোন নীতি গ্রহণ করেছে, কোন বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়েছে এবং সেসব বাস্তবায়নে কতটা অগ্রসর হয়েছে- সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

গোলটেবিল আলোচনায় সরকারের প্রথম ছয় মাসের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি, মানবাধিকার, আইনশৃঙ্খলা এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অগ্রগতি ও ঘাটতি নিয়ে আলোচনা করেন বক্তারা।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও পুঁজিবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. আবু আহমেদ বলেন, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে কৃষি কার্ড বা ফ্যামিলি কার্ডের মতো উদ্যোগ প্রত্যাশিত সুফল দেবে না। ট্রেজারি বন্ডের মাধ্যমে সরকারের ব্যাংকঋণ নেওয়ার প্রবণতা বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহ, উৎপাদন ও কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সাবেক চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার এবং মানবাধিকারসংক্রান্ত নতুন আইনগত কাঠামো নিয়ে সমালোচনা করেন। র‌্যাবের পরিবর্তে এসআরবি গঠনকেও তিনি ‘খোলস পরিবর্তন’ হিসেবে অভিহিত করেন।

ঢাকা-১৬ আসনের সংসদ সদস্য কর্নেল (অব.) মো. আবদুল বাতেন বিচারক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার এস এম শাহরিয়ার কবিরও গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার এবং মানবাধিকারসংক্রান্ত আইনের বিভিন্ন বিধানের সমালোচনা করেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সিআইপিজির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. মোজাম্মেল হক। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড পিস স্টাডিজের (সিএসপিএস) নির্বাহী পরিচালক ড. মো. মিজানুর রহমান।

মূল প্রবন্ধে তিনি বলেন, গত ছয় মাসে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, রেমিট্যান্স ও রপ্তানিতে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেলেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্য সাধারণ মানুষের ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করছে। সামষ্টিক অর্থনৈতিক সূচকের পাশাপাশি মানুষের জীবনযাত্রায় কতটা স্বস্তি এসেছে, সেটিকেও অর্থনৈতিক সাফল্যের অন্যতম প্রধান মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে সিআইপিজির নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক অতিরিক্ত সচিব ড. খুরশীদ আলমের সভাপতিত্বে গোলটেবিল আলোচনা থেকে মূল্যস্ফীতি ও নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, গণসহিংসতা ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, পাচার করা অর্থ উদ্ধারে কার্যকর উদ্যোগ, যুবসমাজের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জুলাই চার্টার ও নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সময়বদ্ধ রোডম্যাপ প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়।

জেইউ/আরএফ

বিজ্ঞাপন