সৌদি আরব থেকে এক লাখ টনের বেশি অপরিশোধিত জ্বালানি নিয়ে চট্টগ্রামের কুতুবদিয়ার বহির্নোঙরে এসে উত্তাল সাগর ও প্রবল স্রোতের কবলে পড়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) ক্রুডবাহী ট্যাংকার জাহাজ ‘এমটি নিনেমিয়া’।
বৈরী আবহাওয়ার কারণে নির্ধারিত স্থানে নোঙর করতে না পেরে নিরাপত্তার জন্য জাহাজটিকে মহেশখালীর গভীর সাগরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুতুবদিয়ার নির্ধারিত এলাকায় পৌঁছায় জাহাজটি। কিন্তু সাগরের ঢেউ ও প্রবল স্রোতের কারণে জাহাজটির ক্যাপ্টেন সেখানে নোঙর করাকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করেন। ফলে ক্রুড খালাসের জন্য লাইটার জাহাজগুলোও নিনেমিয়ার কাছে যেতে পারেনি।
পরে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে জাহাজটিকে মহেশখালীর গভীর সাগরে নিয়ে যাওয়া হয়। আবহাওয়া কিছুটা অনুকূলে এলে রোববার বিকেলে আবার কুতুবদিয়ার আগের নির্ধারিত স্থানে নিয়ে নোঙর করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এরপর সন্ধ্যা থেকে লাইটার জাহাজের মাধ্যমে ক্রুড খালাস শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসির মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন অ্যান্ড প্ল্যানিং) মো. মোস্তাফিজার রহমান জানান, এমটি নিনেমিয়া শনিবার দুপুরে এসেছে। কিন্তু সাগর উত্তাল থাকার কারণে নির্ধারিত স্থানে নোঙর করতে পারেনি। আজ আবার নির্ধারিত স্থানে নোঙর করবে। আশা করছি সন্ধ্যা থেকে ক্রুড খালাস শুরু হবে।
এমটি নিনেমিয়ায় ইস্টার্ন রিফাইনারির জন্য আমদানি করা এক লাখ টনের বেশি অপরিশোধিত জ্বালানি রয়েছে। বিপিসি জাহাজটিতে করে সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে এসব ক্রুড বাংলাদেশে নিয়ে এসেছে। জাহাজটি ২৩ আগস্ট সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। পরবর্তীতে লোহিত সাগর ও বাব আল মান্দেব প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঝুঁকির কারণে স্বাভাবিক সমুদ্রপথে আসতে পারেনি জাহাজটি।
এর পরিবর্তে জাহাজটিকে সুয়েজ খাল, জিব্রাল্টার প্রণালি ও দক্ষিণ আফ্রিকার কেপ অব গুড হোপ ঘুরে বাংলাদেশে আসতে হয়েছে। এতে স্বাভাবিক ৪ হাজার ২০০ নটিক্যাল মাইলের পরিবর্তে প্রায় ১৩ হাজার ১২৯ নটিক্যাল মাইল পথ পাড়ি দিতে হয়েছে জাহাজটিকে। দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রা শেষে শনিবার দুপুরে কুতুবদিয়ার বহির্নোঙরে পৌঁছায়। তবে গন্তব্যে পৌঁছানোর পরও বৈরী সমুদ্র পরিস্থিতির কারণে সঙ্গে সঙ্গে ক্রুড খালাস শুরু করা সম্ভব হয়নি।
এমআর/জেআই
