বিজ্ঞাপন

থানা লুটের ২৭ রাউন্ড গুলি উদ্ধার

আদাবরে ‘কব্জিকাটা’ গ্রুপের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার

আদাবরে ‘কব্জিকাটা’ গ্রুপের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার

রাজধানীর আদাবরে ভয়ংকর কিশোর গ্যাং ‘কব্জিকাটা আনোয়ার গ্রুপ’ পুনর্গঠন করে নতুন করে সদস্য সংগ্রহ ও কার্যক্রম সক্রিয় করার চেষ্টার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব-২)। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে থানা লুট হওয়া ২৭ রাউন্ড তাজা গুলি, একটি ওয়ান শুটারগান, দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তাররা হলেন– কিশোর গ্যাং লিডার শাহীন এবং তার দুই সহযোগী ফরিদ ও লিটন শিকদার।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর বসিলায় র‍্যাব-২ হেডকোয়ার্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‍্যাব-২-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মো. নয়মুল হাসান।

নয়মুল হাসান বলেন, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ‘কব্জিকাটা আনোয়ার গ্রুপ’–এর প্রধান ও গ্রুপটির প্রতিষ্ঠাতা মো. আনোয়ারকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করে র‍্যাব-২। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সময়ে এ গ্রুপের সদস্যরা নিয়মিতভাবে র‍্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হতে থাকলে 'কব্জিকাটা আনোয়ার গ্রুপ' নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে।

তিনি বলেন, এই সুযোগে শাহীন নামে এক কিশোর গ্যাংয়ের হোতা ‘কব্জিকাটা আনোয়ার গ্রুপ’–এর কার্যক্রম পুনর্গঠনের নেতৃত্ব নেয়। সে নতুন করে সদস্য সংগ্রহ এবং গ্রুপটি সক্রিয় করার চেষ্টা করছিল।

র‍্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আজ (রোববার) ভোররাতে রাজধানীর আদাবরের শেখেরটেক এলাকায় একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে শাহীন ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছে থানা থেকে লুট হওয়া ১৮ রাউন্ড ৯ এমএম পিস্তলের ও ৯ রাউন্ড চাইনিজ রাইফেলের তাজা গুলি, একটি ওয়ান শুটারগান, একটি দেশীয় অস্ত্র সামুরাই, ৩ হাজার ৩৩৫ পিস ইয়াবা ও ৫ কেজি ২০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি এক সিএনজি চালকের কাছে চাঁদা দাবি করেন শাহীন। চাঁদা না পেয়ে তাকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায় সে। এছাড়া গত ১১ এপ্রিল আদাবরে এক পাঠাও ডেলিভারিম্যানের কাছ থেকে সর্বস্ব ছিনতাইয়ের সময় শাহীন নেতৃত্ব দিয়েছিল বলে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

নয়মুল হাসান বলেন, শাহিনের নামে শেরেবাংলা নগর ও আদাবর থানায় দস্যুতা, ডাকাতির প্রস্তুতিসহ চারটি মামলা রয়েছে। এছাড়া ফরিদের নামে মোহাম্মদপুর থানায় নন-এফআইআর-এর একটি মামলা এবং লিটন শিকদারের নামে আদাবর থানায় চুরির একটি মামলা রয়েছে।

গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান তিনি।

র‍্যাব-২-এর অধিনায়ক আরও বলেন, হারানো সরকারি অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারে সম্প্রতি র‍্যাবকে লিড এজেন্সি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় র‍্যাব-২ ও অন্যান্য ব্যাটালিয়ন অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারে তৎপরতা চালাচ্ছে।

তিনি জানান, আগামী ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত কেউ অস্ত্র বা গোলাবারুদ সমর্পণ করলে তার বিরুদ্ধে কোনো আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। বরং তাকে নগদ অর্থ পুরস্কার দেওয়া হবে।

এ সময় র‍্যাব-২ ও অন্যান্য ব্যাটালিয়নের হটলাইনে গোপনে তথ্য দিয়ে অস্ত্র ও গোলাবারুদ সমর্পণ করে নগদ অর্থ পাওয়ার সুযোগ গ্রহণের জন্য সবাইকে অনুরোধ জানান র‍্যাবের এই কর্মকর্তা।

এসএএ/জেআই