জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে গত ৬ থেকে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক সপ্তাহে রাজধানী ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন জেলায় অভিযান, মোবাইল কোর্ট ও সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে ১৯টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ২৭ লাখ ৯০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় এবং ২০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ওই সময়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় সাতটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। বাধ্যতামূলক নিবন্ধন না করে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার তৈরি, রেফ্রিজারেটরে লেবেলবিহীন মাছ-মাংস ও অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী সংরক্ষণ এবং ট্রেড লাইসেন্স, খাদ্যকর্মীদের স্বাস্থ্যসনদ ও পেস্ট কন্ট্রোলের প্রমাণক দেখাতে না পারার মতো অপরাধে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট তিন লাখ টাকা জরিমানা এবং তিনটি মামলা করা হয়।
ঢাকার বাইরে লক্ষ্মীপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, গাজীপুর, ফরিদপুর, কিশোরগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সিলেট, বরিশাল, রংপুর ও নীলফামারী জেলায় ১৪টি প্রতিষ্ঠানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। পায়ে মাড়িয়ে চানাচুর তৈরি, পোড়া তেল ব্যবহার, অননুমোদিত রাসায়নিক রং ব্যবহার, উৎপাদনস্থলে তেলাপোকা-ছারপোকার বিচরণ, অনুমোদনহীন ঘি ব্যবহার, বিরিয়ানি তৈরিতে কেওড়াজল ব্যবহার, পণ্যে লেবেল না থাকা এবং নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার উৎপাদনের মতো অপরাধে প্রতিষ্ঠানগুলোকে মোট ২০ লাখ ৯০ হাজার টাকা জরিমানা এবং ১৫টি মামলা করা হয়।
এ ছাড়া ১২ সেপ্টেম্বর পাবনা ও সিলেটে পৃথকভাবে সামারি ট্রায়াল পরিচালনা করা হয়। পাবনায় সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে এবং নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তার উপস্থিতিতে পরিচালিত অভিযানে খাদ্য প্রস্তুত, সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন অনিয়ম পাওয়ায় দুটি প্রতিষ্ঠানকে মোট চার লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
সিলেটের বিসিক শিল্পনগরীর খাদিমনগরে দুটি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করা হয়। এর মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠানে দৃশ্যমান কোনো অসঙ্গতি পাওয়া যায়নি। অন্য প্রতিষ্ঠানটিতে খাদ্য সংরক্ষণ ও পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা দেখা যাওয়ায় সাত দিনের মধ্যে সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নিয়ে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সারাদেশে খাদ্যস্থাপনা মনিটরিংও জোরদার করা হয়েছে। গত এক সপ্তাহে বাজার, হোটেল-রেস্তোরাঁ, বেকারি, মিষ্টির দোকান, খাদ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানসহ মোট ১৯৬টি খাদ্যস্থাপনায় মনিটরিং করা হয়েছে।
নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতেও বিভিন্ন কার্যক্রম চালানো হয়েছে। বাংলাদেশ টেলিভিশনে সচেতনতামূলক টিভিসি ও স্ক্রলবার্তা এবং বাংলাদেশ বেতারে নিরাপদ খাদ্যবিষয়ক অডিওবার্তা প্রচার করা হয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি, রিলস ও ভিডিওর মাধ্যমে সচেতনতামূলক বার্তা প্রচার করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্য অর্জনে আইন প্রয়োগ, নিয়মিত মনিটরিং, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, গবেষণা, গণসচেতনতামূলক প্রচারণা এবং অংশীজনদের সম্পৃক্ত করে সমন্বিতভাবে কাজ করছে কর্তৃপক্ষ।
তিনি বলেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকার, ব্যবসায়ী, উৎপাদক, ভোক্তা ও সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সম্মিলিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতেও জনস্বার্থে এ ধরনের কার্যক্রম আরও ব্যাপক ও কার্যকরভাবে অব্যাহত থাকবে।
এমএইচএন/এসএম
