বিজ্ঞাপন

মোটরসাইকেল চুরির সন্দেহে হত্যা, চার আসামি গ্রেপ্তার

মোটরসাইকেল চুরির সন্দেহে হত্যা, চার আসামি গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামের রাউজানে মোটরসাইকেল চুরির সন্দেহে মোহাম্মদ করিমকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ও পরদিন (সোমবার) চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি দেশীয় এলজি, একটি এয়ারগান, দুটি ১২ বোরের সীসার কার্তুজ, একটি চাপাতি ও একটি গ্রিল কাটার উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- সৈয়দ মোহাম্মদ শুক্কুর (২৭), মো. জাবেদ (২৮), মো. সেলিম (৫০) ও মো. আলামিন (২৯)। 

তাদের মধ্যে শুক্কুর ও জাবেদকে চট্টগ্রাম নগরের চাঁদগাঁও থানার কাপ্তাই রাস্তার মাথা এলাকা থেকে এবং সেলিম ও আলামিনকে হাটহাজারীর দক্ষিণ মাদার্শা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে শুক্কুর ও জাবেদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাউজানের পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের মগদাই এলাকায় পারভেজের পরিত্যক্ত গরুর খামার থেকে অস্ত্র ও অন্যান্য আলামত উদ্ধার করা হয়।

জানা যায়, গত ৩ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে আটটার দিকে রাউজানের উরকিরচর ইউনিয়নের কেরানিহাট এলাকায় প্রকাশ্যে করিমকে হত্যা করা হয়। সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে আসা একদল ব্যক্তি তাকে ঘিরে ধরে প্রথমে গুলি করে। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মাথা ও ঘাড়ে আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয়। এরপর তারা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়।

এ ঘটনায় তদন্তে ওঠে আসে, হত্যাকাণ্ডের প্রায় ১০ দিন আগে পারভেজের মামা আজগরের একটি মোটরসাইকেল চুরি হয়। ওই ঘটনায় করিমকে সন্দেহ করেন পারভেজ। মোটরসাইকেলটি ফেরত দেওয়ার জন্য তিনি করিমকে চাপ দেন। তবে করিম চুরির সঙ্গে জড়িত নন বলে জানান। এতে ক্ষুব্ধ হন পারভেজ।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় পারভেজ তার সোর্সের মাধ্যমে কৌশলে করিমকে কেরানিহাট বাজার এলাকায় ডেকে আনেন। সেখানে পারভেজসহ অন্যরা অবস্থান করছিলেন। করিম সেখানে পৌঁছালে তাকে প্রথমে গুলি করা হয়। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পর চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি ও জেলা পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ স্থানীয় বাসিন্দা, প্রত্যক্ষদর্শী, ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তথ্য সংগ্রহ করে।

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রাসেল জানান, তদন্তের একপর্যায়ে শুক্কুর ও জাবেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র ও কার্তুজ পারভেজের পরিত্যক্ত গরুর খামারে রাখা হয়েছে। সোমবার তাদের সঙ্গে নিয়ে সেখানে অভিযান চালানো হয়। খামারের ভেতরে সিমেন্টের তৈরি একটি গামলার মধ্যে বিশেষভাবে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় অস্ত্র ও আলামতগুলো উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তার সেলিমের বিরুদ্ধে একটি চুরির মামলা, জাবেদের বিরুদ্ধে একটি অপহরণ মামলা এবং আলামিনের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক আইনে দুটি মামলা রয়েছে।

পুলিশ জানায়, নিহত মোহাম্মদ করিম রাউজানের উরকিরচর ইউনিয়নের হারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি আমান বাজার এলাকায় বসবাস করতেন। তার বিরুদ্ধে চুরি, মাদক, ডাকাতি ও ছিনতাইসহ ১০টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। মামলার অন্যতম আসামি পারভেজ (৪৫) এখনো পলাতক। থানা রেকর্ডপত্র ও সিডিএমএস যাচাই করে পুলিশ জানিয়েছে, রাউজানসহ বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি, অস্ত্র, নারী ও শিশু নির্যাতন, বিস্ফোরকসহ বিভিন্ন অপরাধে একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে হত্যা, ডাকাতি ও অস্ত্র আইনের মামলাও রয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রাসেল বলেন, পারভেজসহ মামলার অন্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ও পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে পৃথক মামলা করা হয়েছে।

এমআর/এমএসএ