চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে দেশে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশুর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে অথবা তারা পরিবারের কাছে ফিরে এসেছে। তবে, এখনো ২ হাজার ৩৮ শিশু নিখোঁজ বা অচিহ্নিত অবস্থায় রয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন (বিএইচআরএফ)।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্যের বরাত দিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সারাদেশে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশুর নিখোঁজের ঘটনায় জিডি করা হয়েছে। নিখোঁজ শিশুদের বড় একটি অংশের বয়স ১০ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে। ফলে তাদের নিরাপত্তা নিয়ে আরও গভীরভাবে ভাবার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছে সংগঠনটি।
বিএইচআরএফের চেয়ারপার্সন অ্যাডভোকেট এলিনা খান বলেন, নিখোঁজ প্রতিটি শিশুর ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। পারিবারিক বিরোধ, মানসিক চাপ, দারিদ্র্য কিংবা সামাজিক নিরাপত্তাহীনতার কারণে কোনো শিশু বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলেও তাকে দ্রুত খুঁজে বের করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
একই সঙ্গে অপহরণ, মানব পাচার, যৌন নির্যাতন, শিশুশ্রম, মাদক ও সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের সম্ভাবনাও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রতিটি ঘটনা তদন্তের দাবি জানান তিনি।
সংগঠনের মহাসচিব অ্যাডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান বলেন, একটি শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর প্রথম কয়েক ঘণ্টা অনুসন্ধান ও উদ্ধারের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
তিনি বলেন, নিখোঁজ শিশুদের তথ্য সংরক্ষণ, অনুসন্ধান, উদ্ধার এবং পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলনের জন্য একটি সমন্বিত জাতীয় ডাটাবেজ ও কেস-ম্যানেজমেন্ট ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন।
বিএইচআরএফ বলছে, শুধু নিখোঁজ শিশুকে উদ্ধার করাই যথেষ্ট নয়। কেন সে নিখোঁজ হলো, কী পরিস্থিতিতে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল এবং এর পেছনে কোনো ব্যক্তি, সংঘবদ্ধ চক্র বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড জড়িত ছিল কি না, তাও খুঁজে বের করতে হবে। উদ্ধার হওয়া শিশুদের প্রয়োজনে কাউন্সেলিং ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে।
শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সমাজসেবা অধিদপ্তর, শিশু সুরক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে সংগঠনটি।
এছাড়া, এমইউএন অ্যার্লাট-এর মতো জরুরি সতর্কতা ব্যবস্থা আরও কার্যকর ও দেশব্যাপী সম্প্রসারণের দাবি জানিয়েছে বিএইচআরএফ। কোনো শিশু নিখোঁজ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আইনগত সীমার মধ্যে তার ছবি, পরিচয় ও প্রয়োজনীয় তথ্য জনসাধারণের কাছে পৌঁছে দেওয়া গেলে উদ্ধারের সম্ভাবনা বাড়তে পারে বলে মনে করছে সংগঠনটি।
বিজ্ঞপ্তিতে নিখোঁজ ২ হাজার ৩৮ শিশুকে উদ্ধারে বিশেষ উদ্যোগ, প্রতিটি ঘটনায় কার্যকর তদন্ত, সম্ভাব্য মানব পাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র শনাক্তকরণ এবং নিখোঁজ শিশুদের পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি ও মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
একই সঙ্গে অভিভাবকদের শিশুদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহানুভূতিশীল সম্পর্ক গড়ে তোলা, তাদের মানসিক চাপ ও সামাজিক সংকট সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং অনলাইন ও অফলাইন নিরাপত্তার বিষয়ে নজর রাখার আহ্বান জানিয়েছে বিএইচআরএফ।
জেআই
