চট্টগ্রাম নগরের হালিশহরে জনতা ব্যাংকের এক কর্মকর্তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মোহাম্মদ আবুল হোসাইন (৪৫) নামের ওই কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধারের সময় ঘটনাস্থল থেকে তার হাতে লেখা সুইসাইড নোট ও চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। এতে দাপ্তরিক চাপ, ঋণ অনুমোদন সংক্রান্ত জটিলতা ও বদলি নিয়ে মানসিক হয়রানির কথা উল্লেখ রয়েছে বলে জানা গেছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে নগরের হালিশহর খোরশেদবাগ আবাসিক এলাকার ইম্পিরিয়াল আরকিট ভবনের ৬/বি নম্বর ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি জনতা ব্যাংক লিমিটেডের মোহাম্মদপুর জিবি শাখার কর্মকর্তা ছিলেন।
মৃত ব্যাংক কর্মকর্তার স্ত্রী শারমিন আক্তার বাদী হয়ে এ ঘটনায় হালিশহর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করেছেন।
পরিবার ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাতে খাবার খেয়ে আনুমানিক রাত ১টার দিকে আবুল হোসাইন ও তার স্ত্রী আলাদা কক্ষে ঘুমাতে যান। সোমবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ফজরের নামাজ আদায়ের জন্য ঘুম থেকে উঠে স্ত্রী পাশের ঘরের দরজা ধাক্কা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় তিনি সিলিং ফ্যানের সঙ্গে চাদর প্যাঁচানো অবস্থায় স্বামীকে ঝুলতে দেখেন। তার চিৎকারে সন্তান ও স্বজনেরা ছুটে এসে চাদর কেটে আবুল হোসাইনকে নিচে নামান। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে হালিশহর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
পুলিশ জানায়, উদ্ধারকৃত সুইসাইড নোটে আবুল হোসাইন উল্লেখ করেছেন, মৃত্যুর আগে ১৪ সেপ্টেম্বর রাত ৩টার দিকে তিনি চিরকুটটি লেখেন। এতে জনতা ব্যাংকের মোহাম্মদপুর জিবি শাখার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তীব্র দাপ্তরিক চাপ, ঋণ অনুমোদন সংক্রান্ত জটিলতা ও বদলি নিয়ে মানসিক হয়রানির কথা উল্লেখ করেন তিনি।
এছাড়া ব্যবসায়ীদের কাছে থাকা পাওনা টাকা উদ্ধার করতে না পারায় আর্থিক সংকটে ভুগছিলেন বলেও চিরকুটে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২১ সালে লালদিঘী শাখায় দায়িত্ব পালনের সময় চেক সংক্রান্ত একটি পুরোনো সিআর মামলায় আসামি হওয়ার খবর পেয়েও দুশ্চিন্তায় ছিলেন বলে জানান তিনি।
চিরকুটের শেষাংশে পরিবার ও সন্তানদের দেখে রাখার আকুতি জানিয়ে তিনি লেখেন, তার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয় এবং সবাই যেন তাকে ক্ষমা করে দেন।
হালিশহর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোশাররফ হোসেন জানান, উদ্ধারকৃত চিরকুটের বিষয়বস্তু ও মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও তদন্তের পর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংক কর্মকর্তাদের আত্মহত্যার ঘটনায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর হালিশহরের রমনা আবাসিক এলাকা থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক মোহাম্মদ ছায়েদুর রহমানের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এর আগে গত ২২ আগস্ট নগরের ডবলমুরিং থানার হাজীপাড়া এলাকায় পারিবারিক ও আর্থিক চাপের মধ্যে সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা শাহিদ হোসেন নিজ বাসায় মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে জানা যায়।
আরএমএন/এমএন
