বিজ্ঞাপন

পা হারানো সেই রায়হানের পাশে উপজেলা প্রশাসন

পা হারানো সেই রায়হানের পাশে উপজেলা প্রশাসন

ঢাকার রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় একটি চক্রের হাতে পা হারানো লোহাগাড়ার ১২ বছর বয়সী শিশু মো. রায়হানের পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

নিখোঁজ হওয়ার প্রায় সাত মাস পর বাবার কাছে ফিরে আসা রায়হানকে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

রায়হান লোহাগাড়ার চুনতি সাতগড় নয়াপাড়ার দিনমজুর নাজিমের ছেলে। তার চিকিৎসা, শিক্ষা ও পুনর্বাসনের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ জীবনযাপনে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সমাজসেবা কার্যালয়ের মাধ্যমে রায়হানের জন্য প্রতিবন্ধী ভাতার ব্যবস্থা করা হবে। চলাচলের সুবিধার্থে তাকে একটি ট্রাইসাইকেল দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত তার শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

রায়হানের মর্মান্তিক ঘটনা সম্পর্কে জানতে পেরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বায়েজীদ-বিন-আখন্দ বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক। একজন শিশুর এভাবে ডান পা হারানোর ঘটনা তাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। এ ঘটনায় তিনি ব্যথিত ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন এবং এর সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। 

তিনি আরও বলেন, রায়হান ও তার পরিবার অত্যন্ত অসহায়। তাই তার চিকিৎসা, শিক্ষা, পুনর্বাসন ও ভবিষ্যৎ জীবনযাপনে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে উপজেলা প্রশাসন পাশে থাকবে। মানবিকতার জায়গা থেকে রায়হানের পাশে দাঁড়িয়ে তার স্বাভাবিক জীবন ও সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাতগড় নোয়াপাড়া এলাকার দিনমজুর নাজিম উদ্দীনের ছেলে মোহাম্মদ রায়হান স্থানীয় একটি হিফজখানার ছাত্র। প্রায় সাত মাস আগে চুল কাটার জন্য মাত্র ১০০ টাকা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় সে। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি।

গত রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ভোরে চুনতি সীরত মাহফিল এলাকা থেকে পঙ্গু অবস্থায় রায়হানকে উদ্ধার করেন তার স্বজনেরা। বাড়িতে ফিরে রায়হান তার ওপর চালানো নির্যাতনের বর্ণনা দেয়।

রায়হানের পরিবারের অভিযোগ, নিখোঁজ হওয়ার পর তাকে একটি শিশু পাচার ও জোরপূর্বক ভিক্ষাবৃত্তিতে নিয়োজিত চক্রের হাতে জিম্মি করা হয়। চক্রটি তাকে দিয়ে ভিক্ষা করিয়ে অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যে ঢাকার একটি রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে ইনজেকশন দিয়ে তাকে অবশ করে তার ডান পা কেটে দেওয়া হয় বলে রায়হান জানায়।

পা হারানোর পর তাকে হুইলচেয়ারে বসিয়ে জোরপূর্বক ভিক্ষা করানো হতো। এভাবে প্রায় সাত মাস তাকে আটকে রেখে ভিক্ষাবৃত্তিতে বাধ্য করা হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। রায়হানের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন পর চক্রের সদস্যরা তাকে ৩৫০ টাকা দিয়ে একটি বাসে তুলে দেয়। পরে সে চুনতিতে ফিরে আসে। বিষয়টি জানাজানি হলে স্বজনেরা তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান।

এমআর/বিআরইউ

বিজ্ঞাপন