বিজ্ঞাপন

একদিন বাংলাদেশকে উদাহরণ হিসেবে দেখবে পুরো বিশ্ব : নওশাদ জমির

একদিন বাংলাদেশকে উদাহরণ হিসেবে দেখবে পুরো বিশ্ব : নওশাদ জমির

আগামী ৫০ বা ১০০ বছর পর বাংলাদেশকে এমন একটি দেশ হিসেবে দেখতে চান, যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ পড়াশোনা, চিকিৎসা ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে আসবে। একই সঙ্গে আইনের শাসন, সুবিচার ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির দৃষ্টান্ত হবে বাংলাদেশ; এমন স্বপ্নের কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমির।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষ্যে রাজধানীর ধানমন্ডিতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) কার্যালয়ে আয়োজিত ‘গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও জবাবদিহি সরকার ব্যবস্থা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ব্যারিস্টার নওশাদ জমির বলেন, আমরা বাংলাদেশকে কীভাবে দেখতে চাই, সেটা নিয়ে ৫০ বছর বা ১০০ বছর সামনে তাকাতে হবে। এমন কি হতে পারে না, সারা পৃথিবী থেকে ছেলেমেয়েরা বাংলাদেশে পড়াশোনা করতে আসবে? মানুষ বাংলাদেশের চিকিৎসাবিজ্ঞান সম্পর্কে জানতে আসবে? বাংলাদেশের গণমাধ্যম সারা বিশ্বের জন্য উদাহরণ হবে?

তিনি বলেন, বাংলাদেশ এমন একটি কাঠামোর উদাহরণ হতে পারে, যেখানে সুবিচার নিশ্চিত হবে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে এবং মানুষের অর্থনৈতিক অগ্রগতি নিশ্চিত হবে। পাশাপাশি দেশের সামরিক বাহিনী এমনভাবে সুসজ্জিত ও প্রশিক্ষিত হবে, যাতে বাংলাদেশের নিরাপত্তা নিয়ে কাউকে চিন্তা করতে না হয়।

গণতন্ত্রের সুবিধার পাশাপাশি এর সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরেন নওশাদ জমির। তিনি বলেন, গণতন্ত্র নিয়ে সক্রেটিসসহ অনেক দার্শনিকের সমালোচনা ছিল। তবে গণতন্ত্রের সমালোচনা থাকা মানেই গণতন্ত্রের বিপক্ষে অবস্থান নয়। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় কোন বিষয়টি আগে এবং কোনটি পরে অগ্রাধিকার পাবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

প্রাতিষ্ঠানিক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার বিষয়ে নওশাদ জমির বলেন, শুধু কাগজে-কলমে ভালো প্রতিষ্ঠান তৈরি করলেই হবে না। প্রতিষ্ঠান কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং সেখানে জবাবদিহির চর্চা কতটা হচ্ছে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, ইংল্যান্ডের লিখিত সংবিধান না থাকলেও সেখানে গণতন্ত্রের চর্চা রয়েছে। তাই কাগজে কী লেখা হলো, তার চেয়ে বাস্তবে গণতন্ত্রের অনুশীলন বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় এলে দলীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে দলীয় ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখানে মূল বিষয় হতে হবে যোগ্যতা। সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমেও কতটা গণতান্ত্রিক চর্চা এবং ভিন্নমতের প্রতি সহনশীলতা রয়েছে, তা নিয়েও ভাবতে হবে।

নাগরিকের অধিকারের পাশাপাশি দায়িত্ব পালনের ওপরও গুরুত্ব দেন নওশাদ জমির। বিভিন্ন দেশে নাগরিকদের দায়িত্বের বিষয়টি সংবিধান বা আইনে গুরুত্ব পেয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়ায় ভোট দেওয়া বাধ্যতামূলক এবং ভোট না দিলে জরিমানার ব্যবস্থাও রয়েছে।

বাংলাদেশের রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় জনগোষ্ঠীর প্রশংসা করে তিনি বলেন, পশ্চিমা বিশ্বের অনেক দেশে রাজনৈতিক বিষয়ে মানুষের এক ধরনের নিষ্ক্রিয়তা দেখা যায়। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সক্রিয়। চায়ের দোকান থেকে রিকশা- সব জায়গাতেই মানুষ রাজনীতি নিয়ে আলোচনা করে।

তবে এর নেতিবাচক দিকও রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। কৃষিবিদ, চিকিৎসক ও আইনজীবীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ রাজনীতিতে অতিরিক্তভাবে জড়িয়ে পড়ছেন উল্লেখ করে নওশাদ জমির বলেন, সব ক্ষেত্রে ভারসাম্য রক্ষা করা প্রয়োজন।

সংবিধানকে ‘লিভিং কনস্টিটিউশন’ বা জীবন্ত দলিল হিসেবে উল্লেখ করে নওশাদ জমির বলেন, দেশের প্রয়োজন ও মানুষের প্রয়োজনের সঙ্গে সংবিধান পরিবর্তনশীল। তবে শুধু সাংবিধানিক পরিবর্তনই যথেষ্ট নয়, মানুষের চলার ধরন ও রাজনৈতিক সংস্কৃতিতেও পরিবর্তন প্রয়োজন।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যক্তিগতভাবে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কেউ নিজে দুর্নীতি না করলেও দুর্নীতির শিকার হচ্ছেন কি না এবং এর বিরুদ্ধে কতজন দাঁড়াচ্ছেন, সেটিও ভাবতে হবে।

তিনি বলেন, ‘কেউ ঘুস চাইলে ১০০ টাকাও দেব না, দেখি কী হয়’--এমন অবস্থান নেওয়ার সাহস আমাদের তৈরি করতে হবে।

আলোচনা ও মতপ্রকাশের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে এগিয়ে নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। তার ভাষ্য, ঘাত-প্রতিঘাত, আলোচনা ও সমালোচনার মধ্য দিয়েই বাংলাদেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।

‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানের প্রসঙ্গ টেনে নওশাদ জমির বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও দেশের স্বার্থে সবাইকে এক জায়গায় আসতে হবে। 

তিনি বলেন, বাংলাদেশের ক্রিকেট দল বিদেশে খেললে যেমন সবাই দলের জয় চায়, তেমনি দেশের ক্ষেত্রেও ‘বাংলাদেশকে জিততে হবে’-এই মানসিকতা তৈরি করতে হবে। এই চেতনা ধরে রাখতে পারলে একদিন বাংলাদেশ এমন একটি দেশে পরিণত হবে, যাকে সারা পৃথিবী উদাহরণ হিসেবে দেখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) বরিশাল জেলা কমিটির সদস্যসচিব ও নারী নেত্রী ডা. মনীষা চক্রবর্তী, এনসিপির সাবেক নেত্রী ডা. তাসনিম জারা এবং ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান প্রমুখ।

এসএএ/এমএন

বিজ্ঞাপন