বিজ্ঞাপন

ঘর থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—নারী-শিশুর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন এমজেএফের

ঘর থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—নারী-শিশুর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন এমজেএফের

জামালপুরের মাদারগঞ্জে সাত বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় গভীর শোক ও ক্ষোভ জানিয়েছে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ)। 

সংগঠনটি বলছে, ঘটনাটি যেন কয়েক দিনের সংবাদ হয়ে জনমনোযোগ থেকে হারিয়ে যাওয়া আরেকটি মর্মান্তিক ঘটনায় পরিণত না হয়।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ বিবৃতিতে এ নিন্দা ও উদ্বেগ জানায় এমজেএফ।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটিকে যৌন নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়। পরে একটি বাড়ির মেঝের নিচ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নৃশংস এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে শিশুটির পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনাও জানিয়েছে সংগঠনটি।

এমজেএফ বলছে, জামালপুরের ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন কোনো অপরাধ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে নারী ও শিশুকে ধর্ষণ, যৌন নির্যাতন, হয়রানি ও হত্যার যেসব ঘটনা সামনে এসেছে, তা উদ্বেগজনক ধারাবাহিকতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সংগঠনটির প্রশ্ন, ঘর, স্কুল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটিতে নারী ও শিশুরা কতটা নিরাপদ? একই সঙ্গে অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত ও বিশ্বাসযোগ্যভাবে জবাবদিহির আওতায় আনা হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে।

সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান পরিস্থিতির ভয়াবহতাকে আরও স্পষ্ট করছে উল্লেখ করে এমজেএফ জানায়, হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, শুধু ২০২৬ সালের আগস্টে অন্তত ২৪৯ নারী ও শিশু সহিংসতার শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ৭৯ জন ধর্ষণের শিকার, যাদের ৪৬ জনই শিশু।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত অন্তত ৪০০ নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৩৭ জনকে। এসব তথ্য নথিভুক্ত ও প্রকাশিত ঘটনার ভিত্তিতে তৈরি হওয়ায় সহিংসতার প্রকৃত মাত্রা আরও বেশি হতে পারে বলেও জানিয়েছে এমজেএফ।

এব্যাপারে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, নারী ও শিশুকে বারবার ধর্ষণ, নির্যাতন ও হত্যা করা গভীরভাবে উদ্বেগজনক এবং কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একটি শিশু ঘরে, স্কুলে যাওয়ার পথে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এবং নিজের কমিউনিটিতে নিরাপদ থাকবে- এটাই স্বাভাবিক।

তিনি বলেন, এসব ঘটনা যেন কয়েক দিনের জন্য সংবাদ শিরোনাম হয়ে পরে জনমনোযোগ থেকে হারিয়ে না যায়। প্রতিটি ঘটনার দ্রুত তদন্ত করতে হবে, দায়ী ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে এবং সুরক্ষা ও প্রতিরোধব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে হবে।

অভিভাবকদেরও শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে শাহীন আনাম বলেন, শিশুদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে। ভয়, মানসিক অস্থিরতা বা ঝুঁকির কোনো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত সাড়া দিতে হবে। শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা পরিবার, প্রতিষ্ঠান, কমিউনিটি ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত দায়িত্ব।

এমজেএফ মনে করে, নারী ও শিশুর সুরক্ষা শুধু অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। চলতি বছরের শুরুতে এমজেএফসহ বিভিন্ন অধিকারভিত্তিক সংগঠন নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতাকে জাতীয় জরুরি পরিস্থিতির মতো গুরুত্ব দিয়ে মোকাবিলা এবং ধর্ষণ, যৌন সহিংসতা, নির্যাতন ও হত্যার বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার নীতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছিল।

মাদ্রাসা ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কার্যকর যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি গঠনসহ শক্তিশালী প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি।

প্রতিটি ঘটনায় দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত, ন্যায়সংগত ও সময়োপযোগী বিচার এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে এমজেএফ। একই সঙ্গে সহিংসতার শিকার ব্যক্তি ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে চিকিৎসা, মনোসামাজিক সহায়তা, আইনি সহায়তা ও প্রয়োজনীয় সুরক্ষা দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

সংগঠনটি বলছে, এসব ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী ও পরিবারের গোপনীয়তা এবং মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে। শিশুদের দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোতে কার্যকর সুরক্ষাব্যবস্থা এবং নিরাপদে অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা রাখতে হবে।

জামালপুরের মর্মান্তিক ঘটনাটি যেন কয়েক দিনের মধ্যে জনমনোযোগ থেকে হারিয়ে যাওয়া আরেকটি ঘটনায় পরিণত না হয়—এমন আহ্বান জানিয়ে এমজেএফ বলেছে, নারী ও শিশুর অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা বাস্তবে নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র, প্রতিষ্ঠান ও সমাজকে ধারাবাহিক ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

জেইউ/বিআরইউ

বিজ্ঞাপন