পরিবার পরিকল্পনার সাবেক পরিচালকের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

Dhaka Post Desk

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭:৪২ পিএম


পরিবার পরিকল্পনার সাবেক পরিচালকের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের অবসরপ্রাপ্ত পরিচালক (আইইএম) ড. আশরাফুন্নেছা

অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের অবসরপ্রাপ্ত পরিচালক (আইইএম) ড. আশরাফুন্নেছাকে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞায় চিঠি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সারাদেশে ওয়ার্কশপ, সেমিনার কিংবা প্রশিক্ষণের নামে বিভিন্ন বিল দেখিয়ে পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরে সাত কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ রয়েছে। সারাদেশে ৪৮৬টি ওয়ার্কশপ ও সেমিনার আয়োজন দেখিয়ে এমন লোপাটের ঘটনা ঘটে।

দুদকের অনুসন্ধানে ওই অভিযোগের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় বৃহস্পতিবার পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) ইমিগ্রেশন বরাবর পাঠানো চিঠিতে বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞায় অনুরোধ জানিয়েছে দুদক।  
অনুসন্ধান কর্মকর্তা উপপরিচালক মো. সালাহউদ্দিন সই করা চিঠিতে এ অনুরোধ করা হয়েছে। সংস্থাটির জনসংযোগ দফতর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, দুদকের অনুসন্ধানে অভিযোগের বিষয়টির প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। দুদকের কাছে দেশ ছেড়ে অন্য দেশে যাওয়ার তথ্য থাকায় এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

পুলিশের বিশেষ শাখায় চিঠি দেওয়ার পাশাপাশি দুদকের অনুসন্ধান কর্মকর্তা এ বিষয়ে আদালতের অনুমতি চাইতে পৃথক একটি আবেদন করেছেন বলেও জানা গেছে।

এর আগে ২০২০ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর অভিযোগ যাচাইয়ে তৎকালীন পরিচালক আশরাফুন্নেছাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একই অভিযোগে পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের উপপরিচালক (পিএম) জাকিয়া আখতার, উপপরিচালক (স্থানীয় সংগ্রহ) আবু তাহের মো. সানাউল্লাহ নূরী, সহকারী পরিচালক এ কে এম রোকনুজ্জামান ও গবেষণা কর্মকর্তা পীযূষ কান্তি দত্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

অভিযোগের বিষয়ে দুদক সূত্রে জানা যায়, ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের আইইএম ইউনিট সারাদেশে ৪৮৬টি ওয়ার্কশপ ও সেমিনার আয়োজন করে। উক্ত কর্মশালায় অধিদফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্মানি ও যাতায়াত বাবদ ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে সই জাল করে অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। এভাবে প্রায় সাত কোটি টাকা আত্মসাৎ হয়। অধিদফতরের আইইএম ইউনিটের ইউনএনএফপিএ খাতে বরাদ্দ ছিল (২০১৯ সালে) এক কোটি ২৯ লাখ টাকা। উক্ত টাকা কোনো কাজ না করেই অগ্রণী ব্যাংক, ওয়াসা ভবন শাখা হতে তোলা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে ৩৯টি কোটেশনের বিল দেওয়া হয়েছে, যার পরিমাণ ছিল ১০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ওই বছর পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের পরিচালক ড. আশরাফুন্নেছার আপন ভাগ্নের মালিকানাধীন রূহী এন্টারপ্রাইজ কোনো কাজ না করে ৮৫ লাখ টাকার বিল তুলে নেয়। অন্যদিকে কাজ না করেই তার আপন চাচাতো ভাইয়ের মালিকানাধীন সুকর্ন এন্টারপ্রাইজকে এক কোটি টাকার কার্যাদেশ দিয়ে বিল তোলা হয়েছে। রূহী এন্টারপ্রাইজ ও সুকর্ন এন্টারপ্রাইজের নামে বরাদ্দ এক কোটি ৮৫ লাখ টাকা উত্তরা ব্যাংকের কারওয়ান বাজার শাখার মাধ্যমে তোলা হয়েছে।

আরএম/আরএইচ

Link copied