‘এস্ক্রো সিস্টেমের আস্থায় আমরা এখন রাস্তায়’

Dhaka Post Desk

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৮ অক্টোবর ২০২১, ০৭:০৮ পিএম


বাংলাদেশ ব্যাংকের এস্ক্রো সিস্টেমে বিশ্বাস করে গেটওয়ে পেমেন্টের মাধ্যমে পণ্য অর্ডারের টাকা আমরা ফস্টারের কাছে পাঠাই। কিন্তু এখন আমরা পণ্যও পাচ্ছি না, কিউকমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জেলে থাকায় ফস্টারও টাকা দিচ্ছে না। ফস্টারের কাছে কিউকমের গ্রাহকদের ৩৯৭ কোটি টাকা আটকে আছে। আমাদের লাখ লাখ টাকা আটকে আছে, আমরা এখন রাস্তায় নেমে এসেছি। এস্ক্রো সিস্টেমের গেটওয়ে পেমেন্টে আস্থা রেখে আমরা এখন রাস্তায়।

শুক্রবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে বাংলাদেশ ই-কমার্স কাস্টমার অ্যাসোসিয়েশনের ব্যানারে কিউকমের গ্রাহকরা মানববন্ধন কর্মসূচিতে এসব কথা বলেন। তারা বলেন, সরকার দ্রুত কিউকমের সিইও মো. রিপন মিয়াকে মুক্তি দিয়ে ফস্টার থেকে আমাদের টাকা ফেরত আনার ব্যবস্থা করুক। এজন্য আমরা মো. রিপন মিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি চাই।

মানববন্ধনে বাংলাদেশ ই-কমার্স কাস্টমার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জুবায়ের আহমেদ হৃদয় বলেন, আমরা কোনো রাজনৈতিক দাবি নিয়ে আসিনি। আমরা ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান কিউকমের সাধারণ গ্রাহক। আমাদের টাকাটা কেন গেটওয়ে সিস্টেম বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়োগ করা তৃতীয়পক্ষ ফস্টার কোম্পানিতে আটকে থাকবে। আমরা বেশিরভাগই শিক্ষার্থী, অনেকে বাসায় না জানিয়ে টাকাগুলো দিয়েছি। আমাদের দাবি, সরকার আমাদের টাকা দ্রুত ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করুক।

মানববন্ধন থেকে গ্রাহকরা আরও বলেন, কিউকম আমাদের টাকা লুট করে নিয়ে যায়নি। কিউকমের সিইও গ্রেফতার হওয়ার আগ পর্যন্ত ৫০ শতাংশ গ্রাহকের টাকা ফিরিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু তিনি এখন জেলে থাকায় আমাদের টাকা আটকে গেছে। আমাদের সব টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়োগ করা ফোস্টার কোম্পানিতে আটকে আছে।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া কিউকমের গ্রাহকরা প্রতিষ্ঠানটির সিইও মো. রিপন মিয়ার মুক্তির দাবি জানিয়ে বলেন, আমাদের টাকা ফেরত পেতে হলে রিপন মিয়ার স্বাক্ষর প্রয়োজন। কেননা, পণ্য কেনার জন্য গেটওয়ে পেমেন্ট কোম্পানি ফস্টারকে টাকা দিয়েছি আমরা। সেই টাকা ফেরত পেতে হলে কিউকমের কোম্পানির অনুমতি লাগবে। আর এ অনুমতি শুধুমাত্র দিতে পারবেন কিউকমের সিইও। এখন যদি মো. রিপন মিয়াকে মুক্তি দেওয়া হয় তাহলে আমরা খুব দ্রুত টাকাটা পেয়ে যাব। আমাদের টাকা কিউকমে নয়, আটকে আছে ফস্টারে।

এ সময় মানববন্ধন থেকে সাত দফা দাবি জানায় বাংলাদেশ ই-কমার্স কাস্টমার অ্যাসোসিয়েশন।

দাবিগুলো হলো-

১. কোনো ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান বন্ধ নয়, আইনি কাঠামোর মধ্যে এনে ব্যবসা করার সুযোগ দিতে হবে।

২. কোনো ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে গণ্য ডেলিভারি দিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে গ্রাহক যে মাধ্যমে পেমেন্ট করেছে সে মাধ্যম স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমপরিমাণ টাকা তিন/চার কার্যদিবসের মধ্যে গ্রাহককে ফেরত দিতে হবে। এক্ষেত্রে পেমেন্ট গেটওয়েগুলোকে ডিজিটালাইজড করার বিকল্প নেই।

৩. কোনো ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান যদি বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে গ্রাহকের পেমেন্ট করা টাকা গেটওয়েতে গ্রাহক ক্লেইম করলেই ফেরত দিতে হবে। এক্ষেত্রে ওই ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের অনুমতির প্রয়োজন নেই। বর্তমানে যেসব গ্রাহকের টাকা পেমেন্ট গেটওয়েতে আটকানো আছে, সে টাকাগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অনুমতি নিয়ে গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে ফেরত দেওয়া হোক।

৪. যদি কোনো কারণে ই-কমার্সের পেমেন্ট গেটওয়েগুলো গ্রাহকের অর্থ আত্মসাৎ করে অথবা সেবা দিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে তার দায়ভার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নিতে হবে।

৫. পুরাতন যেসব ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান আছে নতুন পুরাতনসহ সব পেন্ডিং অর্ডার ডেলিভারি করার জন্য সরকারের কঠোর নজরদারির আওতায় রেখে ব্যবসা এবং ডেলিভারি করার সুযোগ দেওয়া হোক।

৬. কোনো ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান যদি নতুন করে ব্যবসা করতে আসে, সেক্ষেত্রে ব্যবসায়িক পরিধির ওপর ভিত্তি করে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা রাখতে হবে। অথবা ডিসকাউন্ট ভ্যালু সমপরিমাণ অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা রাখতে হবে।

৭. এস্ক্রো পদ্ধতিকে অটোমেটিক এবং ডিজিটাল করতে হবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে। প্রয়োজনে এস্ক্রো সিস্টেমের ড্যাশবোর্ডে কাস্টমার, মার্চেন্ট, ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান, পেমেন্ট গেটওয়ে, ব্যাংক সবাইকে এক্সেস দিতে হবে।

গত ৪ অক্টোবর রাজধানীর পল্টন থানায় কিউকমের সিইও মো. রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে এক ভুক্তভোগী মামলা করেন। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ও প্রতারণার অভিযোগে  মামলাটি হয়। এ মামলায় মো. রিপন মিয়াকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের মতিঝিল বিভাগ। পরে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বৃহস্পতিবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

তাকে গ্রেফতারের পর ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবি প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, গ্রাহকদের পণ্য ডেলিভারির ২৫০ কোটি টাকা আটকে রেখেছে কিউকম। যদিও এস্ক্রো সিস্টেমের মাধ্যমে গেটওয়ে পেমেন্ট হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়োগ করা তৃতীয়পক্ষ প্রতিষ্ঠান ফস্টারের কাছে কিউকমের গ্রাহকদের ৩৯৭ কোটি টাকা আটকে আছে।

এমএসি/এসএসএইচ

Link copied