১৮ কোটি টাকা লুটপাট : এসবিএসির আমজাদসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে ২ মামলা

Dhaka Post Desk

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

১৭ জানুয়ারি ২০২২, ০৬:৪৮ পিএম


কাগুজে প্রতিষ্ঠানের নাম ঋণ অনুমোদনের আগেই ১৮ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাউথ-বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কর্মাস ব্যাংক লিমিটেডের (এসবিএসি) সাবেক চেয়ারম্যান এস এম আমজাদ হোসেন ও পরিচালক এম মোয়াজ্জেম হোসেনসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে পৃথক দুই মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

প্রথম মামলায় রাফি মাহি কর্পোরেশন নামের কাগুজে প্রতিষ্ঠানের নামে ১২ কোটি ১১ লাখ টাকা আত্মসাত ৮ জন ও দ্বিতীয় মামলায় ৬ কোটি ৮ লাখ টাকা আত্মসাতে ৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে দুই মামলায়ই আমজাদ হোসেনকে আসামি করা হয়েছে।

সোমবার (১৭ জানুয়ারি) দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. গুলশান আনোয়ার প্রধান বাদী হয়ে মামলা দুটি দায়ের করেন।

সংস্থাটির সচিব মো. মাহবুব হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কর্মাস ব্যাংকের তৎকালীন মতিঝিল শাখা থেকে আসামিরা কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়াই কাগুজে প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণের টাকা আত্মসাত হয়েছে। আমজাদ হোসেন ও মোয়াজ্জেম হোসেনসহ অন্যান্যদের আসামি করে মামলা দায়ের হয়েছে।

প্রথম মামলায় আট আসামিরা হলেন, সাউথ-বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কর্মাস ব্যাংক লিমিটেডের সাবেক চেয়ারম্যান এস এম আমজাদ হোসেন, পরিচালক ক্যাপ্টেন এম মোয়াজ্জেম হোসেন, রাফি-মাহি কর্পোরেশনের মালিক এ কে এম আসিফ উদ্দিন, ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট শেখ শরফুদ্দিন, ফার্স্ট অ্যাসিটেন্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. রুমন-উল-ইসলাম, এক্সিকিউটিভ অফিসার ইশতিয়াক আহমেদ, মো. তানজির উদ্দিন চেীধুরী ও সিনিয়র তাসরিমা নাহিদ।

দ্বিতীয় মামলার ছয় আসামিরা হলেন- সাউথ-বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কর্মাস ব্যাংক লিমিটেডের সাবেক চেয়ারম্যান এস এম আমজাদ হোসেন, ভাইস প্রেসিডেন্ট শেখ শরফুদ্দিন, ফার্স্ট এক্সকিউটিভ অফিসার মো. তানজির উদ্দিন চেীধুরী, সিনিয়র অফিসার মো. বুলবুল ইফতেখার আলী, আল-আমিন কর্পোরেশনের মালিক মো. মাসুদুর রহমান ও জামাল আহমেদ।

প্রথম মামলার এজাহারে সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কর্মাস ব্যাংক লিমিটেডের বিজয়নগর শাখা থেকে প্রতারণার মাধ্যমে রাফি মাহি কর্পোরেশন নামীয় কাগুজে প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের ঋণ অনুমোদনের পূর্বেই এস এম আমজাদ হোসেনসহ অন্যান্য আসামিরা ১২ কোটি ১১ লাখ টাকা ব্যাংক থেকে উত্তোলন করে আত্মসাত করে। যা পরবর্তী সময়ে স্থানান্তর ও রুপান্তরের মাধ্যমে তা পাচার করে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করায় মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।

দ্বিতীয় মামলায় সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কর্মাস ব্যাংকের মতিঝিল শাখা থেকে প্রতারণার মাধ্যমে যাচাই বাছাই ছাড়াই ভূয়া এসওডি-ওয়ার্ক অর্ডারের বিপরীতে ওই ব্যাংকের চেয়ারম্যান এস এম আমজাদ হোসেনের নির্দেশে অনুমোদন না নিয়েই ৬ কোটি ৮ লাখ টাকা  উত্তোলন ও আত্মসাত করে আসামিরা। এখানে আল-আমিন কর্পোরেশনের নামীয় কাগুজে প্রতিষ্ঠানকে ঋণ গ্রহিতা হিসেবে সাজানো হয়েছে।

আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১, ১০৯ ধারা ও ১৯৪৭ সনের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪ (২), (৩) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

এর আগে ২০ কোটি ৬০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০২১ সালের ২১ অক্টোবর আমজাদ হোসেনসহ ৭ জনের মামলা দায়ের করে দুদক। ওই মামলায় ভুয়া ভিজিট প্রতিবেদন ও ভুয়া স্টক লট প্রস্তুত করে খুলনা বিল্ডার্স লিমিটেড নামীয় কাগুজে প্রতিষ্ঠানের নামে ওই টাকা আত্মসাত করে আসামিরা।

দেশে-বিদেশে বিভিন্ন কোম্পানি খুলে ‘বিপুল পরিমাণ অর্থ’ আত্মসাতের অভিযোগে এস এম আমজাদ হোসেনের বিষয়ে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। এর আগেও তার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ জমা হয় দুদকে। এসব অভিযোগ অনুসন্ধানে ২০১৭ সালের ২৩ জুলাই আমজাদ হোসেন, ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. রফিকুল ইসলাম ও সাবেক উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক। যদিও জিজ্ঞাসাবাদে অধিকাংশ অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।

বিভিন্ন সময়ে দুদকে আসা অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, আমজাদ হোসেন ক্ষমতার অপব্যবহার করে নামে-বেনামে দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন কোম্পানি খুলে সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংকের খুলনা সদর ও কাটাখালী শাখা ব্যবহার করে আমদানি-রফতানি ও ঋণের আড়ালে নানাবিধ দুর্নীতি, অনিয়ম, জালিয়াতির মাধ্যমে আমানতকারীদের বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।

খুলনা অঞ্চলের অন্যতম শিল্পপ্রতিষ্ঠান লকপুর গ্রুপের মালিক এস এম আমজাদ হোসেন। তার মালিকানাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে- লকপুর ফিশ প্রসেস কোম্পানি লিমিটেড, বাগেরহাট সিফুড ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড, শম্পা আইস অ্যান্ড কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেড, রূপসা ফিশ অ্যান্ড অ্যালাইড ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড, মুন স্টার ফিশ লিমিটেড।

এছাড়া খুলনা প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং লিমিটেড, খুলনা এগ্রো এক্সপোর্ট প্রাইভেট লিমিটেড, ইস্টার্ন পলিমার লিমিটেড, মেট্রো অটো ব্রিকস লিমিটেড, খুলনা বিল্ডার্স লিমিটেডসহ বেশকিছু প্রতিষ্ঠান রয়েছে এ শিল্প গ্রুপে।

২০২১ সালের ৫ জানুয়ারি ঋণ জালিয়াতি, অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে আমজাদ হোসেনের নামে থাকা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শেয়ার হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে চিঠি দেয় দুদক। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে এস এম আমজাদ হোসেন, স্ত্রী সুফিয়া আমজাদ ও মেয়ে তাজরির বিদেশে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় দুদক।

আরএম/এসএম

Link copied