৯ বছর পর বাউফল পৌরসভায় ভোট, ইভিএমের বিশেষ পরিপত্র জারি

Dhaka Post Desk

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

২৪ জানুয়ারি ২০২২, ১১:১০ পিএম


৯ বছর পর বাউফল পৌরসভায় ভোট, ইভিএমের বিশেষ পরিপত্র জারি

দীর্ঘ নয় বছর পর আগামী ৩১ জানুয়ারি পটুয়াখালীর বাউফল পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ পৌরসভায় ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে ভোটগ্রহণ করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

ইভিএমে ভোটগ্রহণের লক্ষ্যে বিশেষ পরিপত্র জারি করেছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি। সোমবার ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার উপসচিব মো. আতিয়ার রহমানের সই করা পরিপত্রটি প্রকাশ করে কমিশন।

এ বিষয়ে ইসির জনসংযোগ শাখার যুগ্মসচিব (পরিচালক) এসএম আসাদুজ্জামান বলেন, এ পৌরসভার ভোটে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের (এনআইডি) কর্মকর্তারা সরেজমিন উপস্থিত থেকে ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণের সব প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দেবেন। এ ছাড়া কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ প্রশিক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক ইভিএম কাস্টমাইজেশনসহ নির্বাচন উপযোগী করে রিটার্নিং অফিসারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

দীর্ঘ ৯ বছর পর গত ২৩ ডিসেম্বর পটুয়াখালীর বাউফল পৌরসভা ভোটের তফসিল ঘোষণা করে ইসি। তফসিল অনুযায়ী ৬ জানুয়ারি মনোয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ছিল। মনোনয়নপত্র বাছাই ছিল ৮ জানুয়ারি। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১৪ জানুয়ারি এবং ভোটগ্রহণ ৩১ জানুয়ারি।

এ পৌরসভায় সর্বশেষ ২০১২ সালের ২২ মে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ২০১৬ সালে ‘গ’ শ্রেণির পৌরসভাকে ‘ক’ শ্রেণিতে উন্নীত করা হয়। শহর সম্প্রসারণ আইনে আদালতে একটি মামলা করেন দাসপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এএনএম জাহাঙ্গীর হোসেন। পরে একই মামলায় বাদী হন নাজিরপুর ইউনয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইব্রাহিম ফারুক, মদনপুরা ইউনিয়নের গোলাম মোস্তফা ও বাউফল সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জসীম উদ্দিন খান। বর্তমানে ‘ক’ শ্রেণির নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে পৌরসভার সঙ্গে দাসপাড়া ইউনিয়নের পুনর্বিন্যাস চলছে।

ইভিএম ব্যবহারে ইসি’র বিশেষ পরিপত্রে বলা হয়েছে, ইভিএম ব্যবহার যেহেতু একটি কারিগরি বিষয় এবং নতুন ধরনের ব্যবহার কার্যকারিতা রয়েছে, সেজন্য সব প্রার্থী, তাদের নির্বাচনী এজেন্ট, পোলিং এজেন্ট ও ভোটারদের মধ্যে প্রচারের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রিজাইডিং অফিসার ও সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারদের সুবিধার্থে ইভিএম ব্যবহার পদ্ধতিবিষয়ক নির্দেশিকার প্রয়োজনীয় সংখ্যক ব্যবস্থা করা হয়েছে।

নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট থেকে ইভিএম ব্যবহারের বিষয়ে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা অর্থাৎ প্রিজাইডিং অফিসার ও সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারদের জন্য দুই দিনব্যাপী এবং পোলিং অফিসারদের জন্য ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন ব্যবহারের বিষয়ে এক দিনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

নির্বাচনের জন্য নির্ধারিত প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। এই সময়ে সকল সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার উপস্থিত থেকে নির্বাচন সম্পন্ন করবেন। মক ভোটিং শেষে সংশ্লিষ্ট প্রিজাইডিং অফিসার গণভোটে এ ব্যবহৃত ইভিএমগুলো সহকারী রিটার্নিং অফিসারকে বুঝিয়ে দেবেন। অফিসাররা ভোটগ্রহণের দিন ভোটগ্রহণের জন্য ব্যবহৃত ইভিএম এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম অফিসারের নির্দেশনা অনুসারে প্রতিস্থাপন করতে হবে।

ইভিএমগুলো ইলেকট্রনিক ডিভাইস বিধায় মেশিনসমূহ সারিবদ্ধভাবে রেখে যথাযথ নিরাপত্তার সাথে পরিবহন করতে হবে। ভোটগ্রহণের আগের দিন অন্যান্য নির্বাচনী মালামাল প্রিজাইডিং অফিসারকে বুঝিয়ে দিতে হবে। প্রিজাইডিং অফিসাররা ভোটকেন্দ্রে গিয়ে সহকারি প্রিজাইডিং অফিসারসহ অবশ্যই সঠিকতা যাচাই করবেন। কোনোরকম ত্রুটি-বিচ্যুতি পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রিজাইডিং অফিসার রিটার্নিং কর্মকর্তাকে অবহিত করবেন। রিটার্নিং অফিসার কন্ট্রোলরুমকে অভিহিত করে ত্রুটি-বিচ্যুতি সংশোধন অথবা প্রতিস্থাপনের ব্যবস্থা নেবেন।

প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের একজন করে কারিগরি সদস্য সহযোগিতা করবেন। এ জন্য রিটার্নিং অফিসার তাদেরকে প্রয়োজনে লজিস্টিক সাপোর্ট দেবেন। প্রিজাইডিং অফিসার ভোটগ্রহণের জন্য ভোটকেন্দ্র ও ভোটকক্ষ প্রস্তুত করবেন।

নির্বাচন কমিশন থেকে পাঠানো সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত মোবাইল কারিগরি টিম সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে অবস্থান করবে এবং ভোটগ্রহণের দিন বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে ইভিএমের কারিগরি সমস্যাসহ আনুষঙ্গিক লজিস্টিক সহায়তা দেওয়া নিশ্চিত করবে।

ইভিএমের জন্য ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের কার্ড এবং মেশিন চালু করার পিন পাসওয়ার্ড প্রিজাইডিং অফিসারকে সরবরাহ করা হবে। যথাযথ নিরাপত্তার সঙ্গে  ব্যবহার করে এসবের কার্ড ও পাসওয়ার্ড যথাযথ গোপনীয়তা রক্ষা করতে হবে।

সুষ্ঠুভাবে সিটি নির্বাচন সম্পন্ন করার উদ্দেশ্যে কেন্দ্রে ব্যবহৃত অডিট কার্ড ও পোলিং কার্ডের একটি সামগ্রিক ব্যাকআপ রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে সংরক্ষিত রাখতে হবে।

ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার আগে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, নির্বাচনী এজেন্ট ও পোলিং এজেন্টকে ভোটগ্রহণ প্রদর্শন করতে হবে। ডেমো ভোটগ্রহণের প্রাক্কালে ইভিএমগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নাম ও প্রতীক সঠিক আছে কি না তা যাচাই-বাছাই করতে হবে।

এসআর/আরএইচ

Link copied