আনলাকি থার্টিন হোক বাংলাদেশের জন্য লাকি থার্টিন!

তেরো সংখ্যাটি বিশ্বজুড়ে আনলাকি থার্টিন নামেই পরিচিত। অনেক অপেক্ষা, অনেক প্রত্যাশার ফসল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। কাউন্ট ডাউন শুরু হয়ে গেছে। একটা সময় ছিলো জাতীয় সংসদ নির্বাচন মানেই অনেকটা ঈদ উৎসব এর আমেজ। গত তিনটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকার সেই আমেজকে আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করেছিল। জনগণের মধ্যে তৎকালীন সময়ে নির্বাচন মানেই একটি অতিরিক্ত সাধারণ ছুটি।
নির্বাচনে ভোট সেইতো ভোটকেন্দ্রে পৌঁছানোর আগেই ভোটারদের প্রেতাত্নারা দলবেঁধে ভোট দিয়ে যেত। মৃত মানুষগুলো ক্ষণিকের জন্য নশ্বর পৃথিবীতে এসে সবার অগোচরে ভোট দিয়ে আবার বিলীন হয়ে যেত। কত গল্প, কত উপন্যাস তৈরি হয়েছে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। ভোটারবিহীন নির্বাচন, নিশিরাতের ভোট, আমি আর ডামির নির্বাচন আরো কত কিছু। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় চলা নির্বাচন কমিশনের মূল দায়িত্বই ছিলো নির্বাচনগুলোকে সঠিকভাবে পরিচালনা করা। কিন্তু কমিশনের কর্তা ব্যক্তিরা নির্বাচন ছাড়া বাকি সবকিছুই ঠিকঠাক করেছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শতশত কোটি টাকার শ্রাদ্ধ করা থেকে শুরু করে একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে কীভাবে ধ্বংস করা যায় তার সবকিছুই সুচারু রূপে করে গেছে।
এত অন্যায়, এত অবিচার, এত অনিয়মের মাঝে নিয়ম-নীতি, একটি দেশের সংবিধান বলে যে কিছু আছে তার সবকিছুই যেন গো-গ্রাসে শেষ করে দিয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলার আপামর জনসাধারণের কাছে অনেক প্রত্যাশিত সংসদ নির্বাচন। যেকোনো মূল্যে এ নির্বাচনকে সফলভাবে শেষ করতে হবে।
মানুষের ভোটাধিকার আদায়ের লক্ষ্যে আওয়ামী লীগ ও ১৪ দল ব্যতিত বিএনপি, জামায়াত-সহ সব রাজনৈতিক দল গত ১৬ বছর আন্দোলন, সংগ্রাম করেছে। অনেক রক্তক্ষয় হয়েছে, অনেক জীবনাবসান ঘটেছে। যার ফলশ্রুতিতে চব্বিশের ৩৬ জুলাই-এর আবির্ভাব।
অনেক ত্যাগের বিনিময়ে আজ জাতি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সন্ধিক্ষণে। ১৩ সংখ্যাটি এতই অপয়া সারাবিশ্বের এয়ারলাইন্সগুলো তাদের এয়ারক্রাফটের সিট প্ল্যানে ১৩ সিরিয়ালটি রাখেনি। আজ তেমনি একটি অপয়া সংখ্যার সামনে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ। কারণ ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সবার দৃঢ় মনোবাসনা হচ্ছে সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালটে প্রবাসী ও নির্বাচনের কাজে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে বর্তমান নির্বাচন কমিশন। আশা করছি ভবিষ্যতে এর ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। সশস্ত্র বাহিনীসহ আইন শৃঙ্খলার কাজে নিয়োজিত প্রত্যেকটি বাহিনীর সদস্যরা একটি সুন্দর ও আস্থাশীল নির্বাচন উপহার দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে আছে। এ দেশের জনগণ আর চব্বিশ পূর্ববর্তী সময়ে আর ফিরে যেতে চায় না।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক পূর্ব মুহূর্তে, ২০২৫ সালের সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান হয়েছে সেই আনলাকি থার্টিন, মানে ১৩তম অবস্থানে। অথচ বাংলাদেশের অবস্থান ছিলো তলানিতে। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে, ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সরকারের হাত ধরে এ দেশ থেকে দুর্নীতিকে নির্মূল করার যুদ্ধে শামিল হতে হবে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-এ দেশের প্রেক্ষাপটে অনেকটা ব্যতিক্রম। দীর্ঘ প্রায় ২০ দিন সব দল স্বাধীনভাবে সারাদেশে নির্বাচনের প্রচার কাজে ব্যস্ত সময় পার করেছে। কথার যুদ্ধ দেখেছি, দেখেছি রাজনৈতিক দলগুলো অন্য দলের প্রতি সহনশীলতা। যা ছিলো এই নির্বাচনের সৌন্দর্য। এদের জনগণ সংসদ নির্বাচনের পরও এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে চায়। দেশ গঠনে এগিয়ে আসতে হবে ২৪-এর জুলাই আন্দোলনের মতো।
মো. কামরুল ইসলাম : ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, ঢাকা পোস্ট