বিএনপির সামনে যেসব চ্যালেঞ্জ রয়েছে

নির্বাচন-পরবর্তী বিএনপির নতুন সরকার গঠনপর্বে অনেকের মনে নানা ধরনের কৌতূহল তৈরি হয়েছে। অনেকেই মনে করছে, দীর্ঘ রাজনৈতিক অচলাবস্থা, গণতান্ত্রিক পরিবেশের সংকট এবং অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলা করে বিএনপি কীভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করবে। বিএনপির সামনে যে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে এ বিষয়ে কেউই দ্বিমত করবে না।
বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতায় বিএনপির সামনে রয়েছে অগণিত চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে এই মুহূর্তে তাদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ক্ষমতা গ্রহণ-পরবর্তী রাষ্ট্রকে কীভাবে কার্যকর, গ্রহণযোগ্য ও সুশাসনের পথে মসৃণভাবে চালাবে। এ প্রসঙ্গে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের তত্ত্বগুলো আমাদের শেখায়, সরকার পরিবর্তন মানেই রাষ্ট্রের পরিবর্তন নয়; রাষ্ট্র গঠনের জন্য প্রয়োজন সুস্পষ্ট লক্ষ্য, কাঠামোগত সংস্কার এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছা।
আধুনিক রাষ্ট্র ধারণার সূচনায় যার নাম অনিবার্যভাবে আসে, তিনি ম্যাক্স ওয়েবার (Max Weber)। ওয়েবারের মতে, রাষ্ট্রের মূল শক্তি হলো বৈধ কর্তৃত্ব, যেখানে আইন, প্রশাসন ও বলপ্রয়োগ জনসম্মত এবং নিয়মভিত্তিক। বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতায় বিএনপির প্রথম ও সবচেয়ে তাৎক্ষণিক চ্যালেঞ্জ হবে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের এই বৈধতা পুনর্গঠন করা।
সুস্পষ্টভাবে বলতে গেলে, বিএনপিকে প্রথমেই প্রমাণ করতে হবে যে তারা ক্ষমতায় এসে প্রতিপক্ষ দমন, রাজনৈতিক প্রতিশোধ বা মামলা-নির্ভর শাসন চালানো থেকে বিরত থাকবে। রাজনৈতিক মামলার পর্যালোচনা, নির্বিচার গ্রেপ্তার বন্ধ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দলীয় নির্দেশনার বাইরে রাখা—এসব হবে তাদের প্রথম এবং প্রাথমিক চ্যালেঞ্জ। আর এই জায়গায় প্রাসঙ্গিকভাবে আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো প্রশাসনের নিরপেক্ষতা।
দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে আমলাতন্ত্র ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কার্যত ক্ষমতাসীন দলের ছায়ায় পরিচালিত হয়েছে—এ অভিযোগ নতুন নয়। ওয়েবারের আমলাতান্ত্রিক যুক্তিবাদের আলোকে বিএনপির জন্য একটি সুস্পষ্ট চ্যালেঞ্জ হবে পদায়ন, বদলি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে দলীয় আনুগত্যের সংস্কৃতি ভাঙা। যদি ডিসি, এসপি কিংবা সচিবালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো রাজনৈতিক পুরস্কারের জায়গা হয়ে থাকে, তাহলে সুশাসনের কথা কাগজেই রয়ে যাবে।
বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতায় বিএনপির সামনে রয়েছে অগণিত চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে এই মুহূর্তে তাদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ক্ষমতা গ্রহণ-পরবর্তী রাষ্ট্রকে কীভাবে কার্যকর, গ্রহণযোগ্য ও সুশাসনের পথে মসৃণভাবে চালাবে।
বিএনপিকে মনে রাখতে হবে, গণতন্ত্র কেবল নির্বাচন নয়। এই বাস্তবতাটি রাষ্ট্রবিজ্ঞানে সবচেয়ে জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন রবার্ট ডাল (Robert A. Dahl)। ডালের বহুত্ববাদী গণতন্ত্র তত্ত্ব অনুযায়ী, কার্যকর গণতন্ত্রের জন্য প্রয়োজন শক্তিশালী বিরোধী দল, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার নিরাপদ পরিবেশ। এ কারণে সুস্পষ্টভাবে বিএনপির প্রথম পর্যায়ের আরেকটি চ্যালেঞ্জ হবে সংসদকে কার্যকর ও অর্থবহ করা।
বাস্তব প্রশ্ন হলো, বিএনপি কি সংসদে বিরোধী কণ্ঠকে সত্যিকারের কথা বলার সুযোগ দেবে, নাকি সংসদ আবারও কেবল সংখ্যাগরিষ্ঠতার যন্ত্রে পরিণত হবে? সংসদীয় কমিটিগুলোকে শক্তিশালী করা, বিরোধী দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ দেওয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত বিষয়ে সংসদীয় বিতর্ক চালু করা—এসবই হবে গণতন্ত্রে ফেরার বাস্তব সূচক।
প্রথম পর্যায়ের চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয় অর্থনীতি। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায় এটি ‘পারফরম্যান্স লেজিটিমেসি’(Performance Legitimacy)। জনগণ সরকারকে তখনই বিশ্বাস করে, যখন তারা বাজারে স্বস্তি, চাকরিতে সুযোগ এবং জীবনের নিরাপত্তা অনুভব করে।
বিএনপির সামনে তাৎক্ষণিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল করা এবং ব্যাংকিং খাতের আস্থাহীনতা কাটানো। এখানে ব্যর্থ হলে রাজনৈতিক বৈধতা দ্রুত ক্ষয়ে যাবে, যত শক্তিশালী তাত্ত্বিক বক্তব্যই থাকুক না কেন।
রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার সম্পর্ক নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিশ্লেষণ দিয়েছেন স্যামুয়েল পি. হান্টিংটন (Samuel P. Huntington)। তার মতে, উন্নয়নশীল রাষ্ট্রগুলোর বড় সমস্যা হলো রাজনৈতিক দাবি দ্রুত বাড়ে, কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা সেই হারে বাড়ে না।
বিএনপির প্রথম পর্যায়ের বড় চ্যালেঞ্জ হবে জনপ্রত্যাশা ও রাষ্ট্রীয় সক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য রাখা। হঠাৎ করে অতিরিক্ত প্রতিশ্রুতি দেওয়া কিংবা অবাস্তব জনতুষ্টিমূলক সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রকে আরও সংকটে ফেলতে পারে। তাই নীতিনির্ধারণে সংযম ও বাস্তবতার বোধ দেখানো জরুরি।
এছাড়াও প্রাথমিকভাবে নির্বাচনী মাঠে রাজনৈতিক দলগুলো যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, সেগুলো জনগণের প্রত্যাশা, ক্ষোভ, স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। কিন্তু বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় নির্বাচন শেষ হওয়ার পর সবচেয়ে দ্রুত সেই প্রতিশ্রুতিগুলোই আড়ালে চলে যায়।
আরও পড়ুন
ভোটের সময় বিএনপি যে উন্নয়ন, জবাবদিহি, সুশাসন, কর্মসংস্থান, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির কথা বলেছে, সেগুলো কাগজে কলমে না রেখে বাস্তবে রূপ দেওয়ার প্রচেষ্টাকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত হবে। কিন্তু বাস্তবতা বিবেচনায় প্রতিশ্রুত বিষয়গুলো রক্ষা করতে পারা বিএনপির জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ হবে। কারণ আমরা সবসময়ই দেখেছি বিগত সরকার তাদের প্রতিশ্রুতি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে বারবার ব্যর্থ হয়েছে।
উন্নত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোতে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন মূলত একটি প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে হয়। সেখানে রাজনীতি ব্যক্তি বা দলের ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, কার্যকর সংসদ, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা, সক্রিয় গণমাধ্যম এবং সচেতন নাগরিক সমাজের সম্মিলিত চাপ রাজনীতিকদের প্রতিশ্রুতি রক্ষায় বাধ্য করে।
কোনো দল নির্বাচনে যে ইশতেহার দেয়, তা পরবর্তী সময়ে সংসদীয় বিতর্ক, বাজেট পরিকল্পনা ও নীতিনির্ধারণের ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কী বাস্তবায়িত হলো আর কী হলো না—তা নিয়মিতভাবে জনসমক্ষে আসে। ফলে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করলে রাজনৈতিক মূল্য দিতে হয়, কখনো নির্বাচনে পরাজয়, কখনো দলীয় সংকট, আবার কখনো আইনি জবাবদিহির মাধ্যমে।
বাংলাদেশে এই প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো এখনো দুর্বল ও আংশিকভাবে বিকৃত। এখানে নির্বাচনকে অনেক সময়ই একটি ‘শেষ ধাপ’ হিসেবে দেখা হয়, যেখানে জয় মানেই সব দায় শেষ। ক্ষমতায় যাওয়ার পর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি আর বাধ্যতামূলকভাবে বিবেচনা নেয় না। কারণ সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য কার্যকর চাপ সৃষ্টি করার মতো প্রতিষ্ঠান দুর্বল। সংসদ কার্যত দলীয় আনুগত্যের জায়গায় পরিণত হওয়ায় সরকারের নীতি বা প্রতিশ্রুতি নিয়ে গঠনমূলক প্রশ্ন ওঠে না।
বিরোধী দল দুর্বল বা অনুপস্থিত থাকলে জবাবদিহির সংস্কৃতি আরও ক্ষীণ হয়ে যায়। এর ফলে ইশতেহার ও বাস্তবতার মধ্যে এক গভীর ফাঁক তৈরি হয়। এজন্য বিএনপির উচিত হবে প্রাথমিকভাবে তাদের প্রতিশ্রুত বিষয়গুলো অগ্রাধিকার দিয়ে সরকার পরিচালনা করা, যাকে জনগণের মনে সন্দেহ কিংবা কোনো ধরেনের অবিশ্বাসের ক্ষেত্র তৈরি না হয়।
এছাড়াও বিএনপিকে মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশে দুর্নীতি ও দলীয়করণ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে বড় বাধা। উন্নত রাষ্ট্রে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও নজরদারি থাকায় উন্নয়ন প্রকল্প বা সামাজিক প্রতিশ্রুতি নির্দিষ্ট লক্ষ্যেই ব্যয় হয়। বাংলাদেশে সেই জায়গায় রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা, স্বজনপ্রীতি ও প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে অনেক প্রতিশ্রুতি পথেই হারিয়ে যায়।
জনগণের জন্য ঘোষিত কর্মসূচি অনেক সময়ই দলীয় স্বার্থ বা ব্যক্তিগত লাভের যন্ত্রে পরিণত হয়। ফলে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের বদলে তৈরি হয় আস্থাহীনতা। বিএনপির চেষ্টা করতে হবে দলীয়করণের ঊর্ধ্বে উঠে ন্যায়-নীতি ও ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় এই কাজটি অত্যন্ত কঠিন এবং চ্যালেঞ্জিং। প্রাথমিকভাবে বিএনপিকে খুব বেশি এই চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে।
এছাড়া বাংলাদেশে নাগরিক অংশগ্রহণ এখনো সীমিত। উন্নত রাষ্ট্রে নাগরিকরা শুধু ভোটার নন, তারা নিয়মিতভাবে নীতি আলোচনায় যুক্ত থাকেন, স্থানীয় সরকারে সক্রিয় থাকেন এবং সরকারের কাজে প্রশ্ন তোলেন। বাংলাদেশে ভোটের বাইরে নাগরিকের সেই ভূমিকা দুর্বল হওয়ায় সরকার নির্বাচনের পর জনগণের চাপ খুব একটা অনুভব করে না।
গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের ওপর নিয়ন্ত্রণ বা চাপ থাকলে এই দূরত্ব আরও বেড়ে যায়। এ কারণে বিএনপির উচিত হবে উন্নত গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি করতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করা, যাতে বাংলাদেশের প্রচলিত চিরাচরিত ব্যর্থতার বৃত্ত ভেঙে যায়।
বিএনপি যদি প্রাথমিক এই চ্যালেঞ্জগুলো তুলনামূলকভাবে সামাল দিতে পারে, তাহলে সামনে আসবে দ্বিতীয় পর্যায়ের চ্যালেঞ্জ- যেগুলো তাৎক্ষণিক নয়, কিন্তু রাষ্ট্র গঠনের জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ ও দীর্ঘমেয়াদি।
দ্বিতীয় পর্যায়ের মূল চ্যালেঞ্জ হলো রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। করব্যবস্থা সংস্কার, স্থানীয় সরকার শক্তিশালী করা, প্রশাসনে দক্ষতা ও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো—এসবই হবে দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জ। এখানে ব্যর্থ হলে রাষ্ট্র একটি দুর্বল কাঠামো হিসেবেই থেকে যাবে, সরকার যতই জনপ্রিয় হোক না কেন।
বাংলাদেশে দুর্নীতি ও দলীয়করণ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে বড় বাধা। উন্নত রাষ্ট্রে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও নজরদারি থাকায় উন্নয়ন প্রকল্প বা সামাজিক প্রতিশ্রুতি নির্দিষ্ট লক্ষ্যেই ব্যয় হয়।
দ্বিতীয় পর্যায়ের আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবেশ পুনর্গঠন। জঁ জাক রুশো (Jean-Jacques Rousseau)-এর সামাজিক চুক্তি তত্ত্ব অনুযায়ী, রাষ্ট্র টিকে থাকে নাগরিকের সম্মতির ওপর। বাংলাদেশের বাস্তবতায় নাগরিক ও রাষ্ট্রের সম্পর্ক গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। মানুষ রাষ্ট্রকে সেবাদাতা নয়, বরং ভয়ের উৎস হিসেবে দেখে। বিএনপির সামনে দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জ হবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে এই সম্পর্ক পুনর্গঠন করা। এটি দৃশ্যমান না হলে রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য গড়ে উঠবে না।
দ্বিতীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক সংস্কারও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। দলীয় অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র, নেতৃত্ব বিকাশ এবং নীতি-কেন্দ্রিক রাজনীতি- প্রভৃতি ক্ষেত্রে বিএনপির অতীত অভিজ্ঞতা মিশ্র। যদি দলীয় রাজনীতি ব্যক্তিকেন্দ্রিক ও আবেগ নির্ভরই থেকে যায়, তাহলে রাষ্ট্রীয় সংস্কার টেকসই হবে না।
সবশেষে, সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ হলো রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিবর্তন। প্রতিহিংসাহীন বা প্রতিহিংসাশূন্য রাজনীতি গড়ে তুলতে কোনো একক সিদ্ধান্তে সম্ভব নয়। কিন্তু উদ্যোগ নিতে হয় ক্ষমতায় এসেই। বিএনপির সামনে দ্বিতীয় পর্যায়ের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে-তারা কি সত্যিই সহনশীলতা, সংলাপ ও সমঝোতার রাজনীতি গড়ে তুলতে পারে, নাকি পুরোনো চক্রেই ফিরে যায়।
সব মিলিয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের তত্ত্ব আমাদের স্পষ্ট করে বলে দেয়, বিএনপির সামনে চ্যালেঞ্জ কেবল সরকার চালানো নয়, বরং রাষ্ট্র পুনর্গঠন। প্রথম পর্যায়ে আস্থা, বৈধতা ও স্বস্তি; দ্বিতীয় পর্যায়ে কাঠামো, সক্ষমতা ও সংস্কৃতি—এই দুই ধাপ অতিক্রম করতে পারলেই সুশাসনের কথা বাস্তব অর্থ পাবে। অন্যথায় ক্ষমতা বদলাবে, কিন্তু রাষ্ট্রের সংকট থেকেই যাবে।
ড. সুলতান মাহমুদ রানা : অধ্যাপক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
[email protected]