• সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • আন্তর্জাতিক
  • সারাদেশ
    জেলার খবর
  • খেলা
  • বিনোদন
  • জবস

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

  1. মতামত

মাদ্রাসাপড়ুয়া এক এতিম শিক্ষার্থীর ‘চিরকুট’ এবং আমাদের সমাজের বাস্তবতা

ইব্রাহীম জাহিদ
ইব্রাহীম জাহিদ
১৭ মার্চ ২০২৬, ১৮:৫১
অ+
অ-
মাদ্রাসাপড়ুয়া এক এতিম শিক্ষার্থীর ‘চিরকুট’ এবং আমাদের সমাজের বাস্তবতা

স্ক্রল করতে করতে হঠাৎ থেমে যাওয়া একজোড়া চোখ, হৃদয়ে হাহাকার তোলা একটি শিশুর কাঁচা হাতের লেখা ‘চিরকুট’ এবং একজন বিধবা মায়ের করুণ আর্তি— সবমিলিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যেন এক লহমায় পরিণত হয় সহানুভূতির সমুদ্রে। কিন্তু সেই সহানুভূতির স্রোত যখন সত্য আর মিথ্যার সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়ায়, তখন উঁকি দেয় এক রূঢ় বাস্তবতা। সম্প্রতি রাজধানীর একটি এতিমখানার শিক্ষার্থীর চিরকুট এবং তার মার করা ফেসবুক পোস্টটি আমাদের সামনে একটি বড় প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছে। আমরা কি সত্যিই অসহায়কে সাহায্য করছি, নাকি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ‘আবেগ’ এখন কেবলই একটি পণ্য বা বাঁচার তাগিদে করা কোনো কৌশল?

বিজ্ঞাপন

সন্তানের প্রতি মায়ের ভালোবাসা : অভাব যখন নৈতিকতার দেয়াল ভাঙে

একজন বিধবা মা, যার স্বামী তিন সন্তান রেখে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেছেন। অভাবের সংসারে সন্তানের একটি ভালো জামা, সাবান কিংবা সামান্য খাবারের আবদার মেটানো তার জন্য বিলাসিতা। সন্তানের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা থেকেই তিনি হয়তো চেয়েছিলেন ছেলের জীবনটা একটু সহজ হোক। কিন্তু অভাব যখন চরম সীমায় পৌঁছায়, তখন মানুষের স্বাভাবিক বিচারবুদ্ধি ও নৈতিকতার দেয়াল মাঝে মাঝে নড়বড়ে হয়ে যায়। ছেলের পাঞ্জাবি নেই, মশারি নেই— এই সত্যটুকু যখন তিনি ফেসবুকের দেওয়ালে তুলে ধরেন, তখন তা কেবল অভিযোগ থাকে না, হয়ে ওঠে সাহায্যের জন্য এক নীরব হাহাকার।

ঘটনাপ্রবাহ ও মায়ের অভিব্যক্তি

বিজ্ঞাপন

ভুক্তভোগী ওই মা ফেসবুকের বিভিন্ন কমেন্ট বক্সে দাবি করেন, ‘ছেলের পাঞ্জাবি নেই, মশারি নেই’— সংক্রান্ত পোস্টটি দেওয়ার কারণে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তাকে ডেকে নিয়ে শাসিয়েছে। তিনি মন্তব্যের ঘরে লেখেন, ‘দয়া করে আপনারা কেউ এতিমখানার নাম জিজ্ঞেস কইরেন না। এই পোস্টের কারণে এতিমখানা থেকে আজকে সকালে আমারে ডাইক্যা রাগারাগি করেছে, আর তাদের মাদ্রাসার নাম বলতে নিষেধ করেছে। আমার ছেলেটার সঙ্গেও রাগারাগি করেছে। মাদ্রাসায় গেলে আমার ছেলেটার বড় ক্ষতি হয়ে যাবে।’

ভাইরাল হওয়া সেই চিরকুটে শিশুটি লিখেছিল— ‘আম্মা আমারে সাবান দিয়ো। তিন দিন আগে সাবান শেষ। একটা সাদা পাঞ্জাবি দিয়ো, আগেরটা ছিঁড়ে গেছে। ইফতারে বুট-মুড়ি দেয়, রাতে ভাত দেয় না, সেহরিতে দেয়। আমার লইগা কিছু ভালো খাওন আইনো, ভালো খাওন। একটা মশারি আর চাদর দিয়ো, মশা কামড়ায়।’

বিষয়টি নিয়ে অভাগিনী মা’য়ের সঙ্গে কথা হয় ঢাকা পোস্টের এই প্রতিবেদকের। তিনি বলেন, ‘আমি আমার ছেলের কাছে গিয়েছিলাম। সে আমায় এসব লিখে দিয়েছে। দেখে কষ্ট লাগল, তাই নিজের আইডিতে পোস্ট করেছি। পরে এটি ভাইরাল হয়ে গেছে। ওর জন্য সাবান ও ভাত নিয়ে গিয়েছিলাম। ও বলেছে ওর ক্ষুধা লাগে। মাদ্রাসায় ও শুধু একটি বেডিংয়ের ওপর শুয়ে থাকে, ওর মশারি বা চাদর নেই।’

বিজ্ঞাপন

‘আমি প্রায়ই তারাবির নামাজের পর আমার ছেলের সঙ্গে দেখা করতে যাই। দেখা করার সময় ছেলে চিরকুটটি আমাকে লিখে দিয়েছে। এটি পড়ার পর মা হিসেবে আমার খুব কষ্ট লেগেছে, তাই আমি আমার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে পোস্টটি করেছিলাম; পরে যা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। অভাবের কারণে ছেলেকে আমি প্রয়োজনীয় পাঞ্জাবি দিতে পারিনি, অথচ সাদা পাঞ্জাবি ছাড়া তাকে কোনো দাওয়াতে নিয়ে যাওয়া হয় না। এমনকি মাদ্রাসায় ওর কোনো মশারি বা গায়ের চাদরও নেই; শুধু বিছানার একটি তোশকের ওপর সে শুয়ে থাকে। ওর যা যা প্রয়োজন ছিল, সব ওই চিরকুটে লিখে দিয়েছে এবং দেওয়ার সময় বলেছিল, আমি যেন মাদ্রাসায় থাকাকালীন চিরকুটটি না খুলি।’

এতিম ওই শিক্ষার্থীর চিরকুটটি ছিল একটি শিশুর সরল আবদার। কিন্তু সেই আবদারকে যখন ‘খাবারের কষ্ট’ হিসেবে রঙ চড়ানো হয়, তখন সমাজ বিভক্ত হয়ে পড়ে। আমাদের সমাজে একদিকে যেমন দাতার অভাব নেই, অন্যদিকে তেমনি আছে অভাবের দোহাই দিয়ে প্রতারণার প্রবণতা। এতিমখানার মতো প্রতিষ্ঠানগুলো যেখানে মানুষের দানে চলে, সেখানে স্বচ্ছতা যেমন জরুরি, তেমনি অভিভাবকদের সততাও অনস্বীকার্য। সন্তানের জন্য ভালো খাবারের ব্যবস্থা করতে গিয়ে মিথ্যাচারের আশ্রয় নেওয়া কি সত্যিই ভালোবাসা, নাকি দীর্ঘমেয়াদে সন্তানের জন্য ক্ষতির কারণ?

তিনি যোগ করেন, ‘চিরকুটটি পাওয়ার পরদিন আমি ওর জন্য সাবান নিয়ে গিয়েছিলাম। একদিন তারাবির নামাজের পর আমি ওর জন্য কিছু ভাতও নিয়ে যাই, কারণ ও বলেছিল যে ওর খুব ক্ষুধা লাগে। এরপর কয়েকদিন আমি আর মাদ্রাসায় যেতে পারিনি। পরে যখন আবার দেখা করতে গেলাম, ও আবারও লিখে দিল যে রাতে ঘুমানোর আগে ওর খুব ক্ষুধা পায়। তাই যেন কিছু ভালো মানের শুকনো খাবার কিনে দিই, যাতে ক্ষুধা লাগলে ও সেগুলো খেতে পারে।’

এতিমখানা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে ওই মা বলেন, ‘বিষয়গুলো নিয়ে বেশি জানাজানি হলে তারা আমার ছেলেকে আর মাদ্রাসায় রাখবে না বলে হুমকি দিচ্ছে। আজকেও তারা আমাকে বলেছে যে এই ঘটনার পর তারা চাইলে আমার ছেলেকে বের করে দিতে পারে। মাদ্রাসার শিক্ষকরা মিলে আমার সঙ্গে খুব রাগারাগি করেন এবং আমার ছেলেও ভয়ে কান্নাকাটি করে। ফেসবুক পোস্টটি ভাইরাল হওয়ার পর রাতেই তারা আমার ছেলেকে জেরা করে জানতে চেয়েছে কেন সে তার মাকে এসব লিখেছে। মারধরের ভয়ে ছেলেটি তখন তা অস্বীকার করে। হুজুররা মারতে পারে— এই ভয়ে সে আমাকে চিরকুটটি লুকিয়ে দিয়েছিল। এখন আমি মাদ্রাসায় গেলে তারা আর আগের মতো ছেলের সঙ্গে আমাকে দেখা করতে দিচ্ছে না।’

তার দাবি, “মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ আমাকে দীর্ঘক্ষণ বসিয়ে রেখে একটি লিখিত জবানবন্দি দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। তারা চেয়েছিল আমি লিখে দিই যে— আমার ছেলে এখান থেকে প্রয়োজনীয় সবকিছুই পাচ্ছে। কিন্তু আমি তাতে রাজি হইনি। এ নিয়ে তাদের সঙ্গে আমার অনেক তর্কাতর্কিও হয়েছে। তারা এমনকি আমাকে দিয়ে একটি ভিডিও বিবৃতিও রেকর্ড করাতে চেয়েছিল। আমি তাদের পরিষ্কার বলেছি, ‘আমার ছেলে কী পাচ্ছে তা আপনারাই দেখান। ও তো মশারি ছাড়াই ঘুমায়, ওর কোনো গায়ের চাদর পর্যন্ত নেই।’ আমি তাদের আরও বলেছি, আমি মাদ্রাসার বিরুদ্ধে কিছু লিখিনি; আমার ছেলে শুধু তার প্রয়োজনীয় জিনিসের জন্য আমার কাছে আবদার করেছে। এর চেয়ে বেশি কিছু আমি আর বলতে চাই না, কারণ আমি ভয় পাচ্ছি এতে আমার বাচ্চার পড়াশোনার ক্ষতি হতে পারে।”

মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

অভিযোগের বিষয়ে এতিমখানার সুপারিনটেনডেন্ট ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘উনার অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা। গতকাল সকালে তিনি আমার কাছে এসেছিলেন এবং আমাদের শিক্ষকদের সামনে নিজেই স্বীকার করেছেন, তিনি এসব কথা আবেগতাড়িত হয়ে বলেছেন। আমাদের এতিমখানায় রমজান শুরু হওয়ার দুই সপ্তাহ আগে থেকেই ইফতারের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করা থাকে। ২৭ রমজান পর্যন্ত কোন দিন কে ইফতার করাবেন, তা আগে থেকেই নির্ধারিত। এমনকি অনেকে ইফতার করানোর জন্য সিরিয়াল পর্যন্ত পান না। ফলে বুট-মুড়ি খাইয়ে রাখার যে অভিযোগ তিনি করেছেন, তা একেবারেই ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। মূলত মানুষের সহানুভূতি আদায়ের লক্ষ্যেই তিনি এ ধরনের মিথ্যা তথ্য ছড়িয়েছেন।’

সুপারিনটেনডেন্ট প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘যদি সহানুভূতি পাওয়ার উদ্দেশ্য না-ই থাকে, তবে তিনি ফেসবুকে নিজের সোনালী ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট এবং বিকাশ নম্বর কেন দিয়েছেন? তিনি মানুষের কাছে সাহায্য চেয়েছেন এবং আমাদের কাছেও স্বীকার করেছেন যে, তিন সন্তান রেখে স্বামী মারা যাওয়ার পর তিনি অসহায় হয়ে পড়েছেন। গতকাল তিনি সরাসরি আমাকে বলেছেন, মানুষের কাছ থেকে ব্যাংক ও বিকাশের মাধ্যমে পাওয়া সাহায্য দিয়েই তিনি নিজের ঘর ভাড়া মেটান এবং সংসার চালান। আর ছেলের পোশাকের বিষয়ে বলব, আমাদের মাদ্রাসায় একটি নির্দিষ্ট ইউনিফর্ম (সাদা পোশাক) আছে। ভর্তির সময়ই আমরা সব অভিভাবককে অন্তত এক সেট সাদা পাজামা-পাঞ্জাবি দেওয়ার জন্য অনুরোধ করি। তিনি তখন সেটি দিতে পারেননি এবং নিজের অক্ষমতার কথা জানিয়েছিলেন।’

খাবারের বিষয়ে তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, ‘আমি আমার এতিমখানার ছাত্রদের কেন কম খাওয়াব? প্রতিটি রমজানে আমি নিজে ছাত্রদের সঙ্গে বসে ইফতার করি। এখানে ছাত্র, শিক্ষক এবং কর্মচারী— সবাই মিলে মাদ্রাসার দোতলায় একসঙ্গে ইফতারি করি। সেখানে কী ধরনের উন্নত মানের খাবার পরিবেশন করা হয়, তার সব ছবি ও প্রমাণ আমার কাছে আছে। ছাত্রদের খাবার কম দিয়ে আমার তো কোনো লাভ নেই; বরং বিত্তবান মানুষরাই তাদের জন্য এসব খাবারের ব্যবস্থা করেন, আমি তো আর নিজের পকেট থেকে খাওয়াচ্ছি না। তাই কম খাওয়ানোর কোনো প্রশ্নই আসে না।’

“তিনি (শিশুটির মা) আমাদের কাছে নিজেই স্বীকার করেছেন, মানুষের সহানুভূতি পাওয়ার লক্ষ্যেই তিনি এই কাজ করেছেন। অথচ মাদ্রাসার পক্ষ থেকে তার সঙ্গে কোনো খারাপ ব্যবহার করা হয়নি। গতকাল যখন তিনি এসেছিলেন, আমি তাকে শুধু জিজ্ঞেস করেছি— ‘আপনি যে কাজটা করলেন, তার আগে কি একবারও আমাকে জানানো উচিত ছিল না? আপনি তো বলতে পারতেন যে, আপনার ছেলের খাবারের কষ্ট হচ্ছে, আমরা কী ব্যবস্থা করছি?’ তিনি এভাবে অপপ্রচার চালিয়ে আমাদের প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের সম্মান ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছেন। এর জবাবে তিনি আমাকে বলেছেন, ‘হুজুর, আমি আপনার বিরুদ্ধে কিছু করিনি, আমি আমার জায়গা থেকে সাহায্য চেয়েছি। এই পোস্ট যে এভাবে ভাইরাল হয়ে যাবে, তা আমি বুঝতে পারিনি’।”

প্রতিষ্ঠান বনাম ব্যক্তিগত দায় : সত্যের সন্ধানে

মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের দাবি এবং শিশুটির মায়ের অভিযোগের মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। একদিকে মা বলছেন তার ছেলেকে ক্ষুধার্ত রাখা হচ্ছে, ভয় দেখানো হচ্ছে; অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানপ্রধান সপ্রমাণ দাবি করছেন যে এটি একটি সাজানো নাটক। এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট— অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে সহানুভূতি আদায়ের এই প্রক্রিয়াটি কেবল একটি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের লড়াই নয়, বরং এটি আমাদের সামাজিক ব্যবস্থার দৈন্যদশা। মা যখন সাহায্যের জন্য নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা বিকাশ নম্বর প্রচার করেন, তখন মহৎ উদ্দেশ্যটিও সন্দেহের তালিকায় চলে আসে। আবার একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের সম্মান যখন এক নিমেষে ধুলোয় মিশে যায়, তখন প্রতিষ্ঠানের রক্ষাকর্তাদের কঠোর হওয়াটাও অস্বাভাবিক নয়।

ডিজিটাল যুগে সহানুভূতির অপব্যবহার

বর্তমান যুগে ফেসবুক বা অন্যান্য মাধ্যম ব্যবহার করে সাহায্য চাওয়া একটি সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু এই সুযোগটি যখন ধোঁকাবাজির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তখন প্রকৃত অভাবীরা সাহায্যের অধিকার হারায়। অভাগিনী ওই মায়ের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, তিনি বুঝতে পারেননি পোস্টটি এভাবে ভাইরাল হবে। এটি প্রমাণ করে যে, ডিজিটাল দুনিয়ার প্রভাব সম্পর্কে আমাদের অনেকেরই ধারণা অস্পষ্ট। এক মুহূর্তের আবেগ বা ছোট একটি মিথ্যা কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করে না, বরং সমাজের মানুষের একে অপরের প্রতি বিশ্বাসকেও বিষিয়ে দেয়।

আমাদের সমাজের বাস্তবতা

এতিম ওই শিক্ষার্থীর চিরকুটটি ছিল একটি শিশুর সরল আবদার। কিন্তু সেই আবদারকে যখন ‘খাবারের কষ্ট’ হিসেবে রঙ চড়ানো হয়, তখন সমাজ বিভক্ত হয়ে পড়ে। আমাদের সমাজে একদিকে যেমন দাতার অভাব নেই, অন্যদিকে তেমনি আছে অভাবের দোহাই দিয়ে প্রতারণার প্রবণতা। এতিমখানার মতো প্রতিষ্ঠানগুলো যেখানে মানুষের দানে চলে, সেখানে স্বচ্ছতা যেমন জরুরি, তেমনি অভিভাবকদের সততাও অনস্বীকার্য। সন্তানের জন্য ভালো খাবারের ব্যবস্থা করতে গিয়ে মিথ্যাচারের আশ্রয় নেওয়া কি সত্যিই ভালোবাসা, নাকি দীর্ঘমেয়াদে সন্তানের জন্য ক্ষতির কারণ?

সত্য যাই হোক না কেন, দিনশেষে ভুক্তভোগী ওই শিশুটি। মায়ের অভাব আর প্রতিষ্ঠানের নিয়মের বেড়াজালে পিষ্ট হচ্ছে একটি এতিম প্রাণ। এই ঘটনা আমাদের শিখিয়ে দেয় যে, সাহায্য করার আগে যেমন যাচাই করা প্রয়োজন, তেমনি সাহায্য চাওয়ার ক্ষেত্রেও সততা বজায় রাখা উচিত। আবেগ দিয়ে হয়তো সাময়িক অর্থ জোগাড় করা সম্ভব, কিন্তু তাতে তিলে তিলে গড়ে তোলা সম্মান ও বিশ্বাস ফিরে পাওয়া অসম্ভব। সমাজের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা এবং মানুষের প্রতি মানুষের নিঃস্বার্থ মমত্ববোধই পারে এমন বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি থেকে আমাদের মুক্তি দিতে।

এমআইকে/এমএআর/

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

সাক্ষাৎকারসোশ্যাল মিডিয়া

ফলো করুন

MessengerWhatsAppGoogle News

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিবাহিত জীবন নিয়ে রসিকতা, তোপের মুখে ভিকি কৌশল

বিবাহিত জীবন নিয়ে রসিকতা, তোপের মুখে ভিকি কৌশল

গানের কথায় অশ্লীলতা, বিতর্কে নোরা-সঞ্জয়ের মিউজিক ভিডিও

গানের কথায় অশ্লীলতা, বিতর্কে নোরা-সঞ্জয়ের মিউজিক ভিডিও

মাদকাসক্ত মায়ের কোল থেকে শিশু উদ্ধারের আকুতি পরীমণির

মাদকাসক্ত মায়ের কোল থেকে শিশু উদ্ধারের আকুতি পরীমণির

রাস্তায় ইফতার করে সমালোচনায় দীপিকার ননদ

রাস্তায় ইফতার করে সমালোচনায় দীপিকার ননদ