উৎসবে শিশুদের আনন্দ-বিনোদন ও সাহিত্য

শিরোনামটি বেশ মজার। জটিলও বটে—উৎসব, শিশু, আনন্দ-বিনোদন ও সাহিত্য। অনেকগুলো প্রত্যয়। লেখাটা তৈরি করতে গিয়ে ওই প্রত্যয়গুলো আমি প্রকৃষ্টরূপে নিবন্ধিত করিনি। অধিকন্তু স্মৃতি, স্বপ্ন, চেতন-অবচেতন ইত্যাকার বিষয়-আশয় নিয়ে একটি অবিন্যস্ত ও উল্লম্ফন জাতীয় ভাবনার আশ্রয় নিয়েছি। আমার মনে হয়েছে, শৈশব ভাবনার উল্লম্ফনের বিস্ময়কর এক জীবন।
বিজ্ঞাপন
মানুষের জীবনের সবচেয়ে নির্মল ও আনন্দময় সময় শৈশব। সেই সময়ের স্মৃতিগুলো আনন্দ-বেদনার উচ্ছ্বাস হয়ে হৃদয়ের গহীন মণিকোঠায় রঙিন মোড়কে যেন মোড়ানো থাকে। খেলার সাথী ও সহপাঠীদের সান্নিধ্য পেলেই সেই রঙিন মোড়ক এক এক করে খুলে যায়, আর বেরিয়ে আসে গল্পের আলপনা।
সেইসব স্মৃতির মধুর ভান্ডার অধিকতর সমৃদ্ধ হয়ে ওঠে নানা রকম উৎসবকে কেন্দ্র করে। পারিবারিক উৎসব, ধর্মীয় উৎসব কিংবা জাতীয় উৎসব—সবকিছুই আমাদের সেই শিশুমনে কী যে আনন্দের ঢেউ তোলে, তার কোনো তুলনা চলে না। তাই শৈশবের উৎসব শুধু আনন্দের উপাচার নয়, বরং জীবনের এক অমূল্য স্মৃতির বিচিত্র সমাহার।
ষাট ও সত্তরের দশকের আমাদের পৃথিবীটা আজকের মতো ছিল না। বিগত হাজার বছরের ব্যবধানে পৃথিবীর যে পরিবর্তন হয়নি, মাত্র চল্লিশ-পঞ্চাশ বছরের ব্যবধানে পৃথিবীটা তার চেয়ে অনেক বেশি পরিবর্তিত হয়েছে। জীবনযাপনের জন্য এই পরিবর্তনটা বেশ উপভোগ্য।
বিজ্ঞাপন
মানুষ উপভোগ করছেও। আমি যে করছি না, তাও নয়। কিন্তু ভেতরে কোথাও যেন একটা হাহাকার আছে। কী যেন হারিয়ে ফেলেছি। মনে হয়, চিরদিনের জন্য নাগালের বাইরে চলে গেছে একটি শান্ত, সৌম্য, স্থির পৃথিবী।
ষাটের দশকের শেষার্ধ থেকে সত্তরের দশকে কত কিছুর সঙ্গে যে আমাদের বন্ধন ছিল, তার কোনো হিসাব-নিকাশ নেই। মানুষের সঙ্গে, মাটির সঙ্গে, প্রাণিকুলের সঙ্গে, বৃক্ষরাজির সঙ্গে, ফসলের সঙ্গে, জলের সঙ্গে, খাল-বিল-পুকুরের সঙ্গে, বাতাসের সঙ্গে এবং এমনকি আলো-আঁধারের সঙ্গে আমাদের নিবিড় বন্ধন তৈরি হয়েছিল।
ঝোপঝাড়ের নির্জন আড়ালটুকুর ভেতরে মনে হতো পৃথিবীর সব আশ্রয় আর নিশ্চয়তা নিবিড় হয়ে আছে। পঞ্চাশ বছরের ব্যবধানে আজ খুব টের পাই যে, ওই বন্ধনগুলো আর নেই; আত্মীয়তার সম্পর্কগুলো ফিকে হয়ে গিয়েছে অনেক আগেই। কিন্তু স্মৃতির ঐশ্বর্য এখনো লালন করি। মাঝেমধ্যে ফিরে তাকানোর আনন্দ উপভোগ করি। সেই স্মৃতিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে মহার্ঘ্য উৎসবের স্মৃতি।
বিজ্ঞাপন
পরস্পর নির্ভরশীল ও সহযোগিতামূলক চিরায়ত অর্থনীতির সেই যুগে গ্রামগুলো ছিল স্বয়ংসম্পূর্ণ ও আত্মনির্ভরশীল। বাজার অর্থনীতি তখনো গ্রামে ঢুকেনি। প্যাকেটজাত দ্রব্যাদি পাওয়া যেত না বললেই চলে। মাছ-মাংস-তরিতরকারি ও মসলাদি গ্রামেই উৎপাদন হতো। গ্রামের ছোট বাজারে সেইসব দ্রব্যাদির পসরা নিয়ে বসত গ্রামেরই ক্ষুদে ব্যবসায়ীরা। কিন্তু এরা শুধু ব্যবসায়ী ছিল না—এরা ব্যবসাও করত, কৃষিকাজও করত এবং মাছও ধরত। এভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণতার প্রাচীন এই ধারা তখনো অব্যাহত ছিল।
সেই সময় বাঙালি মুসলমানদের জন্য সবচেয়ে বড় উৎসব ছিল ঈদ। বিশেষ করে রমজানের পুরো সময়টিতে এক ধরনের উৎসবের আবহ বিরাজ করত। সত্তরের দশকের প্রথমার্ধে আমরা যারা ছোট ছিলাম, যাদের রোজা রাখতে হতো না, তাদের জন্য রমজানের মাসটি ছিল উৎসবের আয়োজনে ভরা। মা-বাবা ও বড় ভাইবোনদের সঙ্গে সেহেরি খাওয়ার জন্য আমরা আগেই ওঠে যেতাম, বিছানায় নড়াচড়া করতাম আর অপেক্ষায় থাকতাম কখন মা কিংবা বাবার কাছ থেকে ডাক আসবে।
মায়ের হাতে রান্না করা তেলেভাজা কইমাছ, শোলমাছ ভুনা, শোলমাছের মাথা আর মুগের ডালের চড়চড়ি। ভাবা যায়! ঘ্রাণে পুরো ঘর মৌ মৌ। বড় বোন বলত, ‘ওই দেহেন, আমানের পুতের চোখ পিট পিট করে। ঘুমায় নাই। না খাইয়া ঘুমাইব না কাইল্লাডা।’
মা রাগ করতেন, বলতেন, ‘তোর কী সমস্যা, তোর ভাগেরটা খাইব?’ এই চিত্র ছিল ঘরে ঘরে। ভোর রাতে গরিব-দুঃখী সবাই সেহেরি করত পুকুরের মাছ, খেতের সবজি আর গাভীর দুধের সঙ্গে বাড়ির পেছনের কলাগাছের পাকা কলা মাখিয়ে।
রমজানের ঈদের শুরুটাই হতো আগের দিন সন্ধ্যায় চাঁদ দেখাকে কেন্দ্র করে। সারা গ্রাম আমরা ঘুরে বেড়াতাম চাঁদ দেখার জন্য। ফসলের খোলা মাঠ থেকে আমরা সারা আকাশ তন্ন তন্ন করে খুঁজে কোথায় চাঁদ আছে তা বের করার চেষ্টা করতাম।
টানাটানির সংসারে আয়োজন ছিল স্বল্প। কিন্তু দারিদ্র্যে মলিন ছিল না। ওই স্বল্প আয়োজন আমাদের বিপুল আনন্দে সমৃদ্ধ হয়ে উঠত। কারণ অফুরন্ত ঐশ্বর্য আমাদের কোনোকালেই ছিল না বলে আমরা বুঝতাম না যে অভাব কাকে বলে। আমরা কখনো অভাব দেখিনি। আমাদের জীবন ছিল আনন্দে ভরপুর।
দুটি ঈদ শিশুদের জন্য চিরকালই অফুরন্ত আনন্দের উৎসব। ঈদের দিনের সপ্তাহখানেক আগে থেকেই মা ব্যস্ত হয়ে যেতেন পুরোনো শার্ট-প্যান্ট, লুঙ্গি, পাজামা-পাঞ্জাবি, টুপি ধুয়ে পরিষ্কার করার কাজে। এই একমাত্র সময় যখন বাবা আমাদের শার্ট-প্যান্ট, পাজামা-পাঞ্জাবি বাজার থেকে ইস্ত্রি করিয়ে আনতেন।
আবার ঈদ উপলক্ষে কখনো কখনো নতুন জামা-কাপড়ও ক্রয় করা হতো। সেটা যে সবার ক্ষেত্রে সবসময় হতো, তা কিন্তু নয়। অনেক পরিবারেরই প্রতি ঈদে সন্তানদের নতুন জামা-কাপড় দেওয়ার সামর্থ্য থাকত না। ফলে পুরোনো কাপড়গুলো ধুয়ে ইস্ত্রি করে নতুনের মতো করা হতো। এই অপ্রতুল পোশাক-পরিচ্ছদ নিয়ে আমাদের আনন্দের শেষ ছিল না।
আরও পড়ুন
যূথবদ্ধ ও আত্মীয়তান্ত্রিক সমাজে আমরা কী করে যেন বুঝতাম যে, উৎসব ও আনন্দ ব্যক্তিগত নয়—পারিবারিক ও সামাজিক। প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় সমাজব্যবস্থার মতো তখনো আমাদের মধ্যে কিংবা সমাজের কারো মধ্যেই ব্যক্তিত্বের ধারণা তৈরি হচ্ছিল না। ব্যক্তিত্বের এই বোধ তৈরি হওয়া বা না হওয়া ভালো কি মন্দ সেই বিতর্কে না গিয়েও বলা যায় যে, ছোটখাটো নানারকম স্বার্থের দ্বন্দ্ব-সংঘাত, ঝগড়া-বিবাধ, মারামারি-কাটাকাটি থাকা সত্ত্বেও সমাজে এক ধরনের সুস্থিতি ও প্রশান্তি বিরাজমান ছিল।
উৎসবের সুযোগে সামাজিক এই সুস্থিতি ও প্রশান্তি গভীর তাৎপর্যময় হয়ে দেখা দিত। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের আনন্দে সমাজকে সহায়ক প্রেরণা হিসেবে সঙ্গে থাকতে দেখেছি সবসময়।
রমজানের ঈদের শুরুটাই হতো আগের দিন সন্ধ্যায় চাঁদ দেখাকে কেন্দ্র করে। সারা গ্রাম আমরা ঘুরে বেড়াতাম চাঁদ দেখার জন্য। ফসলের খোলা মাঠ থেকে আমরা সারা আকাশ তন্ন তন্ন করে খুঁজে কোথায় চাঁদ আছে তা বের করার চেষ্টা করতাম। এই চেষ্টার মধ্যে চাঁদ দেখা যত না গুরুত্বপূর্ণ ছিল, তারচেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল সবাই একসঙ্গে হইহই রইরই করে বেড়ানোর মধ্যে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত চাঁদমামা যার চোখে প্রথম পড়ত, তাকে আর পায় কে।
ঈদের আগে থেকেই গ্রামের কাছে-পিঠে ও নানা জায়গায়, বিশেষ করে বাজারে ও বাজার সংলগ্ন মাঠে মেলা বসত। সেইসব মেলায় লোকজ পণ্যের পসরা দেখে শিশু-কিশোররা আনন্দে আত্মহারা হয়ে যেত। বিস্ময়ের সীমা থাকত না তাদের। সেই মেলা থেকে বাঁশের রঙিন বাঁশি, বাঁশের পিস্তল, লাঠিম, বেলুন, ঘুড়ি ইত্যাকার নানা রকমের খেলনা ও আনন্দ উপাচার অতি অল্প মূল্যে আমরা ক্রয় করতাম।
বিশেষ করে বেলুন ফুলিয়ে বাঁশের ছোট বাঁশির মধ্যে পুরে দিয়ে গ্রামময় প্যাঁ প্যাঁ করে বাঁশি বাজিয়ে গ্রামের প্রবীণদের কান জ্বালাপালা করে দেওয়ার কথা এখনো ভুলিনি। ঈদ উৎসব উপলক্ষে নানা জায়গায় আয়োজন করা হতো ফুটবল খেলা কিংবা কখনো নৌকা বাইচ।
ক্রিকেট খেলা তখনো গ্রাম বাংলায় খুব একটা পরিচিত খেলা ছিল না। তবে হাডুডু খেলা খুবই জনপ্রিয় ছিল। যেকোনো উৎসব উপলক্ষে এই খেলার আয়োজন করা হতো। রঙিন কাগজ কেটে কেটে ফুল বানিয়ে সেই ফুল রশিতে ঝুলিয়ে সাজানো হতো বাড়ি কিংবা খেলার মাঠ, উৎসবের স্থল।
শিশু ও কিশোরীরা এমনকি যুবতী মেয়েরা পায়ে আলতা দিয়ে, হাতে মেহেদি পাতার ফুল করে আর মাথার চুলে নানা রঙের ফিতা বেঁধে গ্রামময় ঘুরে বেড়াত। একজন নয় দুইজন নয়—একসঙ্গে চার-পাঁচজন মেয়ে হইহই রইরই করে এ বাড়ি থেকে সে বাড়ি ঘুরে বেড়াত। তাদের সাজসজ্জার মধ্যে প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় বাংলার ঐতিহ্য স্পষ্টতই অনুভব করা যেত।
ঈদ ছাড়াও দুর্গাপূজা, নববর্ষ বা পয়লা বৈশাখের মতো উৎসবগুলো আমাদের কাছে ছিল এক বিশেষ আনন্দের দিন। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের নানারকম পূজার্চনার অনুষ্ঠান উপলক্ষে আমাদের আনন্দের সীমা থাকত না। শৈশবে দেখেছি উৎসবের ক্ষেত্রে ধর্মীয় পরিচয় কখনোই খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতো না। উৎসব যে ধর্মেরই হোক না কেন, আনন্দটা ছিল সবারই।
এতক্ষণ বলা হলো উৎসবের আনন্দিত অধ্যায়ের কথা। কিন্তু এখানেই শেষ নয়। সেই শৈশব এবং কৈশোর থেকে দেখে আসছি, উৎসবকে কেন্দ্র করে নানারকম সৃজনশীল কার্যক্রম পরিচালিত হতে। আজও অনেক পরিবারে, অনেক এলাকায়, অনেক সমাজে উৎসবকে কেন্দ্র করে শিল্পসাহিত্য ও সংস্কৃতির চর্চা হতে দেখা যায়। এই চেষ্টা আগেও ছিল, এখনো আছে।
শৈশবে দেখেছি উৎসবের ক্ষেত্রে ধর্মীয় পরিচয় কখনোই খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতো না। উৎসব যে ধর্মেরই হোক না কেন, আনন্দটা ছিল সবারই।
বিশেষ করে শিক্ষিত, সংস্কৃতিমান ও প্রগতিশীল সমাজে আনন্দঘন পরিবেশে শিশু-কিশোরদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্য আয়োজিত হয় সংগীতানুষ্ঠান, নৃত্য, আবৃত্তি, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, উপস্থিত গল্প বলা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতাসহ নানা রকম অনুষ্ঠান।
কোথাও কোথাও শিশুদের জন্য শিশুতোষ নাটকেরও আয়োজন করা হয়। যেখানে অভিনয় করে শিশু-কিশোররাই। যেমন খুশি তেমন সাজা অনুষ্ঠান যে শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে খেলাধুলার সময় আয়োজন করা হয়, তা নয়; অনেক উৎসবকে কেন্দ্র করেও এই ধরনের সৃজনশীল কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
এক সময় উৎসবকে কেন্দ্র করে শিশু-কিশোরদের লেখা গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ-নিবন্ধ, কৌতুক ইত্যাদি সমেত হাতে লেখা দেয়াল পত্রিকা প্রকাশ করা হতো। এখন অবশ্য দেয়াল পত্রিকা বিলুপ্তির পথে। সচেতন বা অসচেতনভাবে হোক না কেন, এসব আয়োজন শিশুদের মানসিক বিকাশ, সামাজিকীকরণ এবং সাহিত্যচর্চার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে উৎসব কেবল বিনোদনের উপলক্ষ নয়, বরং শিশুদের কল্পনা, সৃজনশীলতা ও সাহিত্যরুচি গঠনের একটি কার্যকর মাধ্যম।
উৎসবের সঙ্গে শিশুদের সাহিত্যচর্চারও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। বিভিন্ন উৎসবকে কেন্দ্র করে শিশুদের জন্য গল্প, কবিতা, ছড়া, নাটক ও পত্রিকা প্রকাশিত হয়। বাংলা সাহিত্যে এই ধারার দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শিশুতোষ রচনা, যেমন সহজ পাঠ বা শিশু কাব্যের কবিতাগুলো শিশুদের কল্পনা ও আনন্দের জগৎকে সমৃদ্ধ করেছে।
তেমনি উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী ও সুকুমার রায়ের রচনাও শিশুদের সাহিত্যজগতে অনন্য অবদান রেখেছে। উৎসবের সময় শিশুদের জন্য প্রকাশিত বিভিন্ন বিশেষ সংখ্যা বা শিশুতোষ গ্রন্থ তাদের মধ্যে পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে সহায়তা করে। এই ধারাও বহুদিন ধরে সাহিত্যাঙ্গনে প্রচলিত হয়ে এসেছে।
এছাড়া উৎসব শিশুদের সাংস্কৃতিক পরিচয় ও মূল্যবোধ শেখাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। উৎসব উপলক্ষে যখন তারা গল্প শোনে, কবিতা আবৃত্তি করে বা নাটকে অংশ নেয়, তখন তারা সমাজের ঐতিহ্য, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ সম্পর্কে ধারণা লাভ করে। শিশু সাহিত্যিকরা তাদের লেখার মাধ্যমে আনন্দের পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের মধ্যে শিক্ষা ও মানবিক বোধ জাগ্রত করার চেষ্টা করেন। ফলে উৎসব ও সাহিত্য মিলিতভাবে শিশুদের ব্যক্তিত্ব গঠনে সহায়ক হয়।
উৎসব শিশুদের জীবনে আনন্দ, শিক্ষা ও সৃজনশীলতার এক অনন্য ক্ষেত্র তৈরি করে। এই সময়ের বিনোদনমূলক কার্যক্রম এবং শিশুতোষ সাহিত্য তাদের কল্পনা, অনুভূতি ও চিন্তাশক্তিকে সমৃদ্ধ করে। শুধু তাই নয়, উৎসবের ভেতর দিয়ে শিশু-কিশোররা জাতিগত ইতিহাস, ঐতিহ্য, আদর্শ ও মূল্যবোধের সঙ্গে পরিচিত হতে শেখে। তাই পরিবার, সমাজ, প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রকে কেন্দ্র করে যেসব উৎসবের আয়োজন করা হয়, সেখানে যাতে শিশুদের জন্য সুস্থ বিনোদন এবং সাহিত্যচর্চার সুযোগ থাকে, সেদিকটা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
সরকার আবদুল মান্নান : গবেষক, প্রাবন্ধিক ও শিশুসাহিত্যিক; অধ্যাপক, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়