বিজ্ঞাপন

জাতীয় বাজেটে শিক্ষার গুরুত্ব

জাতীয় বাজেটে শিক্ষার গুরুত্ব

কিছুদিন পরেই জাতীয় সংসদে উত্থাপিত হবে বর্তমান সরকার কর্তৃক ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের বাজেট ঘোষণা, এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আওতাধীন দপ্তরসমূহে চলছে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ। অন্যদিকে দেশের নাগরিকরা অপেক্ষায় রয়েছে কী আসছে আগামী বাজেটে।

২০২৫-২৬ সালের অর্থ বছরে ঘোষিত হয় ৭ লাখ ৮৯ হাজার ৯৯৯ কোটি টাকার বাজেট। প্রতি বছরই বাজেটের বিভিন্ন খাতের সাথে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা খাতের জন্যও জাতীয় বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়। জাতির উন্নতি, অগ্রগতির মান নির্ভর করে সে জাতির শিক্ষা ব্যবস্থার অগ্রগতির দ্বারা।

বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন সমুন্নত রাখতে মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিতকরণ ও সার্বিক শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন অপরিহার্য যেজন্য প্রয়োজন শিক্ষাখাতে পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ দেওয়া। বাংলাদেশের শিক্ষা খাত এখনো নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে যার মধ্যে রয়েছে, পর্যাপ্ত অবকাঠামো, মানসম্মত শিক্ষক, আধুনিক পাঠ্যপুস্তক, প্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা, উচ্চ শিক্ষায় গবেষণা বরাদ্দ ঘাটতি।

আর এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য শিক্ষাক্ষেত্রে বাজেট বৃদ্ধির কোন বিকল্প নেই। কিন্তু বাংলাদেশে বিগত বছরগুলোয় দেখা যায় ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের বাজেটে শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে বরাদ্দ রাখা ছিল ১ লাখ ১০ হাজার ৬৫৭ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ১৪ শতাংশ এবং জিডিপির ১.৭৭ শতাংশ।

২০২৩-২৪ অর্থবছরে জিডিপির ১.৭৬ শতাংশ এবং বাজেটের ১১.৬ শতাংশ, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জিডিপির ১.৭ শতাংশ এবং বাজেটে ১১.৮৮ শতাংশ। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে একটি দেশের শিক্ষা খাত জিডিপির ৬ শতাংশ বা বাজেটের ২০ শতাংশ বরাদ্দ পেলে তা আদর্শ ধরা হয়।

গত অর্থ বছরে শিক্ষাখাতে টাকার অংকের হিসেবে বাজেট বরাদ্দের পরিমাণ পরিমাণ বিগত বছরগুলোর চেয়ে বাড়লেও এখাতে বরাদ্দ জিডিপির অনুপাতে অনেকটাই কমেছে যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের তুলনায় অনেক কম। টেকসই লক্ষ্যমাত্রা উন্নয়ন অর্জনের জন্য শিক্ষা খাতে বাজেট বৃদ্ধি অপরিহার্য। আর শিক্ষায় বিনিয়োগ মানে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা। নতুন অর্থবছরের জন্য যে বাজেট প্রস্তাব করা হবে তা নিয়ে বিশেষ করে শিক্ষাখাতের বাজেট নিয়ে নানা মহলে নানা ধরণের আলোচনা চলমান রয়েছে।

বিভিন্ন সংবাদ সূত্র থেকে জানা যাচ্ছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে শিক্ষার গুণগত মান ও শিক্ষকতার মানোন্নয়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাচ্ছে শিক্ষা খাত। আগামী অর্থবছরের বাজেটে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ বাড়ানো হচ্ছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষায় ৫০ হাজার ৩০২ কোটি টাকা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষায় ৪২ হাজার ১৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রাক্কলন করা হচ্ছে। দুই খাত মিলিয়ে মোট বরাদ্দ দাঁড়াচ্ছে ৯২ হাজার ৪৪৭ কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের চেয়ে ৯ হাজার ৪৮০ কোটি টাকা বেশি। শুধু বাজেট বাড়ালেই কি বাংলাদেশের শিক্ষা খাতের বিদ্যমান সংকট কাটানো সম্ভব প্রশ্নটি থেকেই যায়?

শিক্ষা খাতে এখনো নানা চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। বর্তমান প্রচলিত শিক্ষার গুণগতমান দিয়ে দেশের চাহিদা পূরণ করাই কঠিন, আন্তর্জাতিক মানের চিন্তা করা বিদ্যমান ব্যবস্থায় অনেকটা দিবা স্বপ্নের মতো। প্রয়োজনীয় অগ্রগতির জন্য যে পরিমাণ বাজেট দরকার, তা এখনো নিশ্চিত হয়নি। শিক্ষা খাতের বাজেটকে কেবল বরাদ্দ হিসেবে দেখা যাবে না, বিনিয়োগ হিসেবে দেখা জরুরি।

যদিওবা, বর্তমান সরকার তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে পর্যায়ক্রমে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দের অঙ্গীকার করেছে এখন দেখা যাক বাস্তবে কি হয়। এই প্রেক্ষাপটে শিক্ষার সকল স্তরে আধুনিকীকরণ জরুরি সামগ্রিকভাবে শিক্ষার গুনগত মানোন্নয়নের জন্য আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরে শিক্ষা খাতে কমপক্ষে জিডিপির আড়াই শতাংশ, তিন বছরের মধ্যে ৫ শতাংশ এবং পাঁচ বছরের মধ্যে ৬ শতাংশে বরাদ্দ উন্নীত করার নীতিগত পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন বলে মনে করছি। সামগ্রিকভাবে শিক্ষা খাত নিয়ে টেকসই পরিকল্পনা করা ও তা বাস্তবায়নের ব্যাপারেও ভাবতে হবে।

বাংলাদেশে বহু বছর ধরেই শিক্ষা বাজেট আন্তর্জাতিক মানের চেয়ে অনেক নিচে এবং শিক্ষা খাতে বাজেট বাড়ানোর জন্য বিশেষজ্ঞরা প্রতি বছরেই সরকারকে প্রস্তাব দিয়ে থাকেন। তবে এই বাস্তবতার খাতিরে প্রায়ই আড়ালে থেকে যায় বাজেট সুষ্ঠু ভাবে কার্যকর করার দুর্বলতা, বাজেট বাস্তবায়নের অক্ষমতা ও তদারকির ঘাটতি।

শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়ানোর বিকল্প নেই। শিক্ষা খাতটি একটি রাষ্ট্রের বসবাসরত প্রতিটি নাগরিকের মেধা, চিন্তা, শক্তি স্বাভাবিক জীবন বোধের জাগরণের সঙ্গে সম্পৃক্ত। কিন্তু এ খাতের উন্নয়ন কল্পে বাস্তবায়নযোগ্য পদক্ষেপ থেকে রাষ্ট্র অনেক দূরে রয়েছে।

অবশ্যই মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে উপযুক্ত অর্থ বরাদ্দ অপরিহার্য তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে শুধু বাজেট বাড়ালেই কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয়। বিভিন্ন প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা যায় প্রতিবছরই শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দকৃত বাজেটের বড় একটি অংশ অব্যবহৃত থাকে।

আমলাতান্ত্রিক নানাবিধ জটিলতা ও সক্ষমতার অভাব এর অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে জানা যায়, প্রায় ৫০ শতাংশ শিক্ষা বাজেট অর্থবছরের শেষ তিন মাসে খরচ করা হয়। ফলে তাড়াহুড়ো করে বাজেটের খরচ করা হয় কোনো উপযুক্ত পরিকল্পনা ছাড়া। অধিকাংশ সময়েই এই বরাদ্দের বড় অংশ চলে অবকাঠামোগত উন্নয়নের পেছনে অথচ পাঠদানের গুনগত মান, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, গবেষণা এসবে গুরুত্ব তুলনামূলক কম দেওয়া হয়।

আর বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শিক্ষা খাতে বরাদ্দ হ্রাস করে জাতিকে অনেকটা হতাশই করেছে যেখানে অনেকেই তাদের কাছে সবার প্রত্যাশার পারদ কিছুটা বেশিই করেছিল কেননা প্রধান উপদেষ্টা থেকে শুরু করে উপদেষ্টা পরিষদে অধ্যাপক পর্যায়ের বেশ কয়েকজন ব্যক্তি প্রতিনিধিত্ব করেছেন সেখানে প্রত্যাশার চেয়ে প্রাপ্তির খাতায় বিস্তর ফারাক।

প্রাথমিক, মাধ্যমিক স্তরের পাশাপাশি উচ্চ শিক্ষার মানেও নজর দেওয়া প্রয়োজন, কারণ বিশ্বের অন্যান্য দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তুলনায় আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অনেকটা পিছিয়ে, আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় গবেষণার সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। আর তাই গবেষণা সুবিধা বাড়ানোর জন্য শিক্ষা খাতে বাজেট বাড়ানো প্রয়োজন। গবেষণা করার মাধ্যমেই একজন শিক্ষার্থী নতুন কিছু উদ্ভাবন করতে পারে। এছাড়াও দেশকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য গবেষণা করার কোনো বিকল্প নেই। অতি দুঃখের বিষয় হচ্ছে বাংলাদেশের বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানে নেই পর্যাপ্ত গবেষণাগার।

গবেষণা নতুন নতুন উদ্ভাবন ও সৃষ্টির দরজা খুলে দেয়। প্রযুক্তি, বিজ্ঞান, কৃষি, শিল্প এবং পরিবেশ প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই গবেষণা আমাদের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। আবার অন্যদিকে দেখা যায় স্নাতক শিক্ষিতদের মধ্যে উচ্চ বেকারত্ব হার বিরাজ করছে, তার একটি বড় কারণ হচ্ছে যে তারা যে ধরনের শিক্ষা অর্জন করেছে আর যে ধরনের যোগ্যতার জন্য চাকরি বাজারে চাহিদা আছে তার মধ্যে বিস্তর ফারাক। এলক্ষ্যে কর্মসংস্থান তৈরি এবং দক্ষ মানবসম্পদ গঠনের জন্য TVET (টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভোকেশনাল এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেনিং) খাতে বড় বিনিয়োগ প্রয়োজন হলেও এখানে বিনিয়োগ ঘাটতি আছে।

দেশের শিক্ষাব্যবস্থার গুণগত উন্নয়নে শিক্ষকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একজন দক্ষ শিক্ষকই পারেন ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আলোকিত করতে। শিক্ষকদের বেতন বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করার দিকটি প্রায়শই অবহেলিত থাকে, বিশেষ করে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষকদের বেতন ভাতাদি বাস্তবসম্মতভাবে বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।

কেননা শিক্ষকরা যদি আর্থিক সংকটের মধ্যে পড়ে তাহলে তার প্রভাব পেশাগত দায়িত্বের ওপরেও পরে এক্ষেত্রে পরিবার চালানোর চিন্তিত মন নিয়ে কীভাবে তারা শ্রেণিকক্ষে মানসম্মত শ্রেণিকার্যক্রম পরিচালনা করবেন? এই প্রশ্নের উত্তর সরকারের ওপর বর্তায়। যে কোনো শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন করেন শিক্ষকরা। প্রতিটি সরকার শিক্ষাকে কীভাবে জাতি গঠন ও উন্নয়নের ভিত্তি হিসাবে গড়ে তোলা যায় সে লক্ষ্যে আইন ও নীতি প্রণয়ন করেন।

শিক্ষানীতি প্রণয়ন, সিলেবাস পরিবর্তন, শিক্ষাক্রম উন্নয়ন নিয়ে নীতি নির্ধারণী চিন্তাভাবনায় যত অর্থ ব্যয় হয় সে তুলনায় শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য দূরীকরণে তুলনামূলক কম নজর থাকে।

সরকার প্রতি বছর শিক্ষক প্রশিক্ষণের জন্য নির্দিষ্ট বাজেট বরাদ্দ দিয়ে থাকে কিন্তু সেটিও প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। এবারে প্রত্যাশা থাকবে শিক্ষক প্রশিক্ষণে পর্যাপ্ত বরাদ্দ প্রাপ্তির এবং সেটি কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তবায়নেও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

এসবের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সুস্বাস্থ্য রক্ষায় খেলার মাঠ, স্যানিটেশন, সুপেয় পানির ব্যবস্থা নিশ্চিতকল্পে বাজেটে প্রয়োজনীয় অর্থের জোগান দেওয়া দরকার, যা অনুপস্থিত রয়েছে বিগত বাজেট পরিকল্পনায়। শিক্ষকের মান উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপোকরণের উন্নয়ন, শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন করতে হবে, আবার একই সঙ্গে প্রবেশগম্য অবকাঠামোও বানাতে হবে।

শিক্ষা শুধু যে মানব জাতির পরিবর্তন ঘটায় তা নয়, রাষ্ট্রেরর গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ন্যায়বিচার, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র গঠনে বড় ধরনের ভূমিকা রাখে। আর্থসামাজিক, জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করতে হলে শিক্ষকদের উন্নয়নের বিকল্প নেই।

শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়ানোর বিকল্প নেই। শিক্ষা খাতটি একটি রাষ্ট্রের বসবাসরত প্রতিটি নাগরিকের মেধা, চিন্তা, শক্তি স্বাভাবিক জীবন বোধের জাগরণের সঙ্গে সম্পৃক্ত। কিন্তু এ খাতের উন্নয়ন কল্পে বাস্তবায়নযোগ্য পদক্ষেপ থেকে রাষ্ট্র অনেক দূরে রয়েছে। অথচ আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারত, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কায় শিক্ষা খাতে বরাদ্দের পরিমাণের চেয়ে বাংলাদেশে অত্যন্ত কম।

পরিশেষে বলব, দেশ ও জাতির মানব উন্নয়নে শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। দেখা গেছে শিক্ষায় যে দেশ যত এগিয়ে সে দেশ উন্নতির শিখরে আরোহণ করেছে। শিক্ষার মাধ্যমেই দেশ জাতি পরিবর্তিত ও একই সঙ্গে উন্নত হয়। এটাই সর্বজন স্বীকৃত। তাই শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের জন্য বরাদ্দ বাড়ানো শুধু নয়, সুষ্ঠু কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে তা ব্যবহার করে আগামী প্রজন্মকে প্রস্তুত করার আশু পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

শিক্ষা শুধু যে মানব জাতির পরিবর্তন ঘটায় তা নয়, রাষ্ট্রেরর গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ন্যায়বিচার, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র গঠনে বড় ধরনের ভূমিকা রাখে। আর্থসামাজিক, জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করতে হলে শিক্ষকদের উন্নয়নের বিকল্প নেই। দীর্ঘ দিনের বঞ্চনা, বৈষম্য দূরীকরণ ও শিক্ষকদের যথাযথ মূল্যায়নের মাধ্যমে এ বৈষম্য দূর করা সম্ভব।

যাহোক আমরা ভালো কিছুর প্রত্যাশা করি, আগামীর দিনগুলোয় বাজেট বরাদ্দের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শিক্ষা খাতকে গুরুত্ব দিয়ে বরাদ্দের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্টজনদের অনুরোধ রাখছি। সেইসাথে সুষ্ঠু বাস্তবায়নমুখী কর্মপরিকল্পনার অনুযায়ী বরাদ্দকৃত বাজেট যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষার মান উন্নয়ন, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা সম্প্রসারণ, গবেষণার সুযোগ বাড়ানোর মাধ্যমেই দক্ষ, সমৃদ্ধ ও টেকসই জাতি গঠন সম্ভব যা আগামী প্রজন্মের জন্য একটি উজ্জ্বল সম্ভাবনা তৈরি করবে।

সৈয়দ মো. সিয়াম : সহকারী অধ্যাপক, শিক্ষা বিভাগ, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়