বাংলাদেশের ইতিহাসে কিছু মানুষের জীবন কেবল ব্যক্তি জীবনের সীমারেখায় আবদ্ধ থাকে না; তারা ধীরে ধীরে পরিণত হন একটি জাতির আশা, আকাঙ্ক্ষা, সংগ্রাম ও আত্মপরিচয়ের প্রতীকে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তেমনই এক ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব, যার জীবনধারা, রাষ্ট্রচিন্তা, রাজনৈতিক দর্শন ও আত্মত্যাগ বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসে গভীরভাবে অঙ্কিত হয়ে আছে।
তিনি ছিলেন স্বাধীনতার রণাঙ্গনের সাহসী সেনানায়ক, যুদ্ধবিধ্বস্ত রাষ্ট্রের পুনর্গঠনের স্থপতি, বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগী নেতা এবং উন্নয়নমুখী রাষ্ট্রচিন্তার এক বলিষ্ঠ রূপকার।
বাংলার আকাশে যখন দুঃসময়ের কালো মেঘ জমেছিল, মানুষের কণ্ঠরোধ করা হয়েছিল, অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল এবং বাঙালির আত্মপরিচয়কে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র চলছিল তখন ইতিহাসের মঞ্চে আবির্ভূত হন এক দৃঢ়চেতা সেনা কর্মকর্তা।
সময়ের আবর্তনে সেই মানুষটিই হয়ে ওঠেন মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানায়ক এবং পরবর্তীকালে রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। তার জীবন ছিল যেন এক চলমান ইতিহাস যেখানে যুদ্ধ আছে, ত্যাগ আছে, স্বপ্ন আছে, আছে রাষ্ট্রগঠনের নিরন্তর সংগ্রাম।
১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বগুড়ার গাবতলীর বাগবাড়ীর এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন জিয়াউর রহমান। তার পিতা মনসুর রহমান ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা এবং মাতা জাহানারা খাতুন ছিলেন স্নেহশীলা ও শিক্ষানুরাগী নারী। শৈশব থেকেই তিনি ছিলেন মেধাবী, আত্মমর্যাদা বোধসম্পন্ন ও শৃঙ্খলাপরায়ণ।
উপমহাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন, দেশভাগের অস্থিরতা এবং বাঙালির ক্রমবর্ধমান বঞ্চনার বাস্তবতা তার মানসগঠনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। কৈশোর থেকেই তিনি উপলব্ধি করেছিলেন একটি জাতির প্রকৃত শক্তি তার স্বাধীনতা, আত্মপরিচয় ও মর্যাদাবোধে নিহিত। এই উপলব্ধিই হয়তো পরবর্তীকালে তার রাজনৈতিক দর্শনের ভিত নির্মাণে সহায়ক হয়েছিল।
১৯৫৩ সালে তিনি পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমিতে যোগদান করেন। কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণ, অধ্যবসায় ও মেধার মাধ্যমে দ্রুতই তিনি নিজেকে একজন দক্ষ সেনা কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। সামরিক জীবনে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন এবং কৌশলগত নেতৃত্ব, প্রশাসনিক দক্ষতা ও বাস্তববাদী চিন্তাশক্তির পরিচয় দেন।
সহকর্মীদের কাছে তিনি ছিলেন সংযমী, নীরব অথচ দৃঢ়চেতা একজন কর্মকর্তা। তিনি কম কথা বলতেন, কিন্তু দায়িত্ব পালনে ছিলেন অত্যন্ত আন্তরিক ও সাহসী। সামরিক জীবনের এই শৃঙ্খলা, সময়নিষ্ঠা ও দৃঢ়তা পরবর্তীকালে রাষ্ট্র পরিচালনায়ও প্রতিফলিত হয়েছিল।
পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের বৈষম্য, নিপীড়ন ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে উত্তাল হয়ে ওঠে সমগ্র বাংলা। ২৫ মার্চের কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর বর্বর হত্যাযজ্ঞ শুরু করলে সমগ্র জাতি স্বাধীনতার চূড়ান্ত সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
সেই ভয়াল মুহূর্তে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করে বাঙালির মুক্তিসংগ্রামকে নতুন গতি দেন।
তার কণ্ঠে উচ্চারিত স্বাধীনতার আহ্বান যুদ্ধবিধ্বস্ত মানুষের হৃদয়ে সাহস, শক্তি ও আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তোলে। সেই ঘোষণা ছিল পরাধীনতার অন্ধকার ছিন্ন করে স্বাধীনতার সূর্যোদয়ের অঙ্গীকার। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি সেক্টর কমান্ডার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তার নেতৃত্বে অসংখ্য তরুণ মুক্তিযোদ্ধা সংগঠিত হয় এবং সম্মুখযুদ্ধে অংশ নেয়। যুদ্ধক্ষেত্রে তার সাহসিকতা, কৌশলগত নেতৃত্ব ও দেশপ্রেম তাকে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম বীর সেনানায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
যুদ্ধের দিনগুলো ছিল অনিশ্চয়তা, মৃত্যু ও আত্মত্যাগের এক কঠিন সময়। তবু জিয়ার কণ্ঠে ছিল অদম্য সাহস, চোখে ছিল স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন। তিনি বিশ্বাস করতেন রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীনতা একদিন একটি মর্যাদাবান রাষ্ট্রে পরিণত হবে।
১৯৭১ সালের বিজয়ের পর বাংলাদেশ ছিল যুদ্ধবিধ্বস্ত, অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত ও প্রশাসনিকভাবে দুর্বল একটি রাষ্ট্র। সড়ক, সেতু, শিল্পকারখানা, যোগাযোগব্যবস্থা সবকিছু প্রায় ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। জনগণের মধ্যে ছিল ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও অনিশ্চয়তা।
এই বাস্তবতায় দেশকে স্থিতিশীলতার পথে ফিরিয়ে আনা ছিল অত্যন্ত কঠিন কাজ। রাজনৈতিক অস্থিরতা, প্রশাসনিক সংকট ও অর্থনৈতিক দুরবস্থার মধ্যে বাংলাদেশ নতুন পথের সন্ধান করছিল। ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় আবির্ভূত হন জিয়াউর রহমান। তিনি ধীরে ধীরে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং জাতীয় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেন।
জিয়ার রাজনৈতিক দর্শনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রবর্তন। তিনি বিশ্বাস করতেন গণতন্ত্র কেবল শাসনব্যবস্থা নয়; এটি মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ও জাতীয় ঐক্যের ভিত্তি। তার উদ্যোগে দেশে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের নতুন পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
বিভিন্ন রাজনৈতিক দল পুনর্গঠনের সুযোগ পায়। সংবাদপত্র ও রাজনৈতিক মতপ্রকাশের ক্ষেত্রেও নতুন গতি ফিরে আসে। তিনি জাতীয় রাজনীতিতে ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’-এর ধারণা সামনে আনেন। তার মতে, বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয় গড়ে উঠবে ভাষা, সংস্কৃতি, ভূখণ্ড, স্বাধীনতার চেতনা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের সমন্বয়ে। এই দর্শন বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি নতুন ধারা তৈরি করে এবং পরবর্তী সময়ের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।
১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় Bangladesh Nationalist Party। এই রাজনৈতিক দলের মাধ্যমে জিয়া একটি নতুন জাতীয় রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। তার লক্ষ্য ছিল জাতীয় ঐক্য, উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতিকে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা।
তিনি শহরের রাজনীতি নয়, গ্রামবাংলার মানুষের জীবনসংগ্রামকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষক, ছাত্র ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলতেন। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন বাংলাদেশের প্রাণ লুকিয়ে আছে গ্রামবাংলার মানুষের ঘাম, শ্রম ও স্বপ্নের মধ্যে।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়ার উন্নয়ন দর্শনের মূলভিত্তি ছিল গ্রামকেন্দ্রিক অর্থনীতি। তিনি বলেছিলেন, ‘গ্রাম বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে।’
তার শাসনামলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, সেচব্যবস্থার সম্প্রসারণ, খাল খনন, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
‘খাল কাটো কর্মসূচি’ ছিল তার অন্যতম জনপ্রিয় উদ্যোগ। এই কর্মসূচি একদিকে কৃষিতে সেচ সুবিধা বাড়ায়, অন্যদিকে গ্রামীণ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে। তার সময় কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে খাদ্যে স্বনির্ভরতার ভিত্তি শক্তিশালী হতে শুরু করে।
জিয়া উপলব্ধি করেছিলেন, উন্নয়ন কেবল শহরের অট্টালিকায় সীমাবদ্ধ থাকলে একটি রাষ্ট্রের ভারসাম্য নষ্ট হয়। তাই তিনি গ্রামীণ জনপদের উন্নয়ন, স্থানীয় সরকারব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ এবং উৎপাদনমুখী সমাজ গঠনের ওপর জোর দেন।
গ্রামের কাঁচা পথ ধরে যখন রাষ্ট্রপতি জিয়া সাধারণ মানুষের মাঝে হেঁটে যেতেন, তখন অনেক মানুষ মনে করত রাষ্ট্র যেন তাদের দোরগোড়ায় এসে দাঁড়িয়েছে। তিনি ছিলেন মাটির মানুষের নেতা, বাস্তবতার মাটিতে দাঁড়িয়ে রাজনীতি করা এক রাষ্ট্রনায়ক।
আরও পড়ুন
অর্থনীতি, উৎপাদন ও আত্মনির্ভরতার স্বপ্ন জিয়া বিশ্বাস করতেন রাজনৈতিক স্বাধীনতার পাশাপাশি অর্থনৈতিক স্বাধীনতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই তিনি উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন। শিল্পখাতে বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করা, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সৃষ্টি, কৃষিভিত্তিক শিল্পের বিকাশ এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে তার অবদান গুরুত্বপূর্ণ।
তার সময় বাংলাদেশে তৈরি পোশাক শিল্পের প্রাথমিক ভিত্তি গড়ে ওঠে। মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের অংশগ্রহণ বাড়তে শুরু করে। প্রবাসী আয়ের নতুন সম্ভাবনা দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল করতে সহায়তা করে।
তিনি আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখতেন যে বাংলাদেশ নিজের শ্রম, মেধা ও উৎপাদনের শক্তিতে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়ার পররাষ্ট্রনীতি ছিল বাস্তববাদী, ভারসাম্যপূর্ণ ও আত্মমর্যাদা বোধসম্পন্ন। তিনি মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক জোরদার করেন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করতে সচেষ্ট হন।
তার উদ্যোগে দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতার ধারণা গুরুত্ব পায়, যা পরবর্তীকালে South Asian Association for Regional Cooperation প্রতিষ্ঠার ভিত্তি তৈরি করে। আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে তিনি ছিলেন দৃঢ়চেতা, বাস্তববাদী এবং জাতীয় স্বার্থরক্ষায় আপসহীন।
শহীদ জিয়া উপলব্ধি করেছিলেন, শিক্ষা ছাড়া একটি জাতির উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই তার সময়ে কারিগরি শিক্ষা, বিজ্ঞান শিক্ষা ও কর্মমুখী শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। জাতীয় উন্নয়নে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার লক্ষ্যে তিনি শিক্ষাব্যবস্থাকে বাস্তবমুখী করার চেষ্টা করেন।
বাংলাদেশে ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ তার শাসনামলেই বাস্তবায়িত হয়। একইসঙ্গে মাদরাসা শিক্ষায় বিজ্ঞান ও আধুনিক বিষয় অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়াও তার সময় গুরুত্ব পেতে শুরু করে। তিনি বিশ্বাস করতেন ধর্মীয় মূল্যবোধ ও আধুনিক জ্ঞানের সমন্বয় একটি জাতিকে নৈতিক ও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে।
রাজনৈতিক জীবনের বাইরে ব্যক্তিগত জীবনেও জিয়াউর রহমান ছিলেন অত্যন্ত সংযমী ও সাদাসিধে। প্রচারের চেয়ে তিনি কাজকে বেশি গুরুত্ব দিতেন। তার জীবনযাপন ছিল সাধারণ, কিন্তু চিন্তাধারা ছিল সুদূরপ্রসারী।
তার সহধর্মিণী বেগম খালেদা জিয়া পরবর্তীকালে বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাদের পারিবারিক জীবনও ছিল রাজনৈতিক সংগ্রাম ও দায়িত্বের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।
১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে এক সামরিক অভ্যুত্থানে নিহত হন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তার মৃত্যু বাংলাদেশের রাজনীতিতে গভীর শোক ও শূন্যতার সৃষ্টি করে। মাত্র ৪৫ বছর বয়সে তার জীবনাবসান হলেও তার রাজনৈতিক দর্শন, উন্নয়নচিন্তা ও রাষ্ট্রনায়কত্ব বাংলাদেশের ইতিহাসে স্থায়ী প্রভাব রেখে যায়। সেই ভোর ছিল এক বেদনাময় সকাল। যেন একটি চলমান ইতিহাস হঠাৎ থেমে গেল। কিন্তু কিছু মানুষ মৃত্যুর পরও ইতিহাসে বেঁচে থাকেন তাদের কর্ম, আদর্শ ও স্মৃতির মাধ্যমে। জিয়াও তেমনই এক নাম।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে জিয়াউর রহমান গুরুত্বপূর্ণ, প্রভাবশালী ও আলোচিত ব্যক্তিত্ব। স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের রাষ্ট্র পুনর্গঠন, বহুদলীয় রাজনীতি, গ্রামীণ উন্নয়ন ও জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক ধারার বিকাশে তার ভূমিকা গভীরভাবে আলোচিত। ইতিহাস কখনো একরৈখিক নয়। সেখানে আলোও থাকে, ছায়াও থাকে। তবু ইতিহাস শেষ পর্যন্ত সেই মানুষদেরই মনে রাখে, যারা একটি জাতির গতিপথে স্থায়ী প্রভাব রেখে যায়। জিয়া ছিলেন তেমনই এক রাষ্ট্রনায়ক।
শহীদ জিয়াউর রহমান হলেন এক কর্মময় জীবনের অনিঃশেষ প্রেরণা। তার জীবন ছিল সংগ্রাম, সাহস, দায়িত্ববোধ ও রাষ্ট্রগঠনের এক অনন্য উপাখ্যান। তিনি ছিলেন রণাঙ্গনের বীর সেনানায়ক, রাষ্ট্র পুনর্গঠনের কারিগর এবং আত্মমর্যাদা বোধসম্পন্ন বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা।
তার জীবনের প্রতিটি অধ্যায় আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় একটি জাতিকে এগিয়ে নিতে প্রয়োজন সাহসী নেতৃত্ব, দূরদর্শিতা, কর্মনিষ্ঠা ও মানুষের প্রতি গভীর দায়বদ্ধতা। তিনি বিশ্বাস করতেন, বাংলাদেশের শক্তি তার মানুষ, মাটি, কৃষক, শ্রমিক এবং তার তরুণ প্রজন্মের মধ্যে নিহিত।
আজকের বাংলাদেশ যখন উন্নয়ন, গণতন্ত্র, জাতীয় পরিচয় ও রাষ্ট্রচিন্তার নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে, তখন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কর্মময় জীবন নতুনভাবে আলোচনায় আসে। কারণ ইতিহাসের কিছু মানুষ কেবল অতীত নন; তারা ভবিষ্যতের পথচলারও প্রেরণা হয়ে থাকেন।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তাই কেবল একজন ব্যক্তি নন তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসের এক জীবন্ত অধ্যায়, স্বাধীনতার সাহসী উচ্চারণ, রাষ্ট্রগঠনের এক নিরলস যাত্রা এবং এক কর্মময় জীবনের অনিঃশেষ মহাকাব্য।
অধ্যাপক ড. মোহা. হাছানাত আলী : উপাচার্য, নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়
