বিজ্ঞাপন

আসন্ন বাজেট হোক সবুজবান্ধব

আসন্ন বাজেট হোক সবুজবান্ধব

আসন্ন বাজেট কতখানি সবুজবান্ধব হবে? যেহেতু আমরা এখনো এসডিজি বাস্তবায়নের সময়সীমার মধ্যেই রয়েছি, তাই প্রশ্নটির উত্থাপন অযৌক্তিক নয়। তবে এই প্রশ্নটির অবস্থান বেশ জটিল এক প্রেক্ষাপটে। এটি আন্তর্জাতিক পরিবেশ আইন, সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং আর্থিক সার্বভৌমত্বের সংযোগস্থলে অবস্থান করে, যেখানে আইনগত বাধ্যবাধকতা, নীতিগত প্রত্যাশা এবং পরিবর্তনশীল প্রশাসনিক চর্চা পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত হলেও সম্পূর্ণরূপে একীভূত নয়।

সমসাময়িক বৈশ্বিক শাসন কাঠামোতে ক্রমেই এ উপলব্ধি জোরালো হয়েছে যে, রাষ্ট্রগুলো তাদের বাজেট পরিকল্পনা, ব্যয় বরাদ্দ এবং আর্থিক সিদ্ধান্ত পুনর্বিন্যাস না করলে পরিবেশগত টেকসই অর্জন সম্ভব নয়। তবে এই স্বীকৃতি থাকা সত্ত্বেও এমন কোনো একক সার্বজনীন বিধান নেই, যা সব দেশকে পরিবেশবান্ধব খাতে নির্দিষ্ট বরাদ্দ নিশ্চিত করতে বাধ্য করে।

অর্থাৎ, জাতীয় বাজেট প্রণয়নের প্রাথমিক পর্যায়ে বিশেষ করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরিবেশগত অগ্রাধিকারকে বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি এখনো বাধ্যতামূলক বা বিধিবদ্ধ নয়। আর এই জটিলতা উন্নয়নশীল দেশগুলোর ক্ষেত্রে আরও প্রকট, যেখানে সীমিত আর্থিক সক্ষমতা, উন্নয়নমূলক চাহিদা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতা একযোগে কাজ করে।

আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিকোণ থেকে রাষ্ট্রের আচরণ নির্ধারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগুলোর একটি হলো ২০১৫ সালের প্যারিস চুক্তি, যা বিশ্বের প্রায় সব দেশকে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে নিয়ে এসেছে। এই চুক্তির অধীনে প্রতিটি দেশকে তাদের জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান প্রণয়ন ও হালনাগাদ করতে হয়, যেখানে জলবায়ু প্রশমন ও অভিযোজন কৌশল উল্লেখ থাকে।

তবে এই চুক্তি একটি ‘bottom-up’ কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে, যেখানে দেশগুলো নিজেরাই নির্ধারণ করে কীভাবে তারা তাদের লক্ষ্য অর্জন করবে এবং কীভাবে অর্থায়নের ব্যবস্থা করবে। যদিও চুক্তিতে বলা হয়েছে যে অর্থ প্রবাহকে কম-কার্বন ও জলবায়ু-সহনশীল উন্নয়নের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে, এই নির্দেশনা অত্যন্ত সাধারণ এবং এটি কোনো বাধ্যতামূলক বাজেট বরাদ্দ নির্ধারণ করে না। অর্থাৎ, কোনো দেশকে নির্দিষ্টভাবে বলা হয় না যে তাদের বাজেটের কত শতাংশ পরিবেশ বা নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বরাদ্দ করতে হবে।

তবে জাতিসংঘের জলবায়ু কাঠামো এবং প্যারিস চুক্তির অধীনে উন্নত দেশগুলোর ওপর উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য অর্থায়নের যে দায়িত্ব রয়েছে, তা মূলত আন্তঃদেশীয় আর্থিক সহায়তার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। এটি নিজ নিজ দেশের অভ্যন্তরীণ বাজেট প্রণয়নে সরাসরি বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি না করলেও উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর এর একটি পরোক্ষ প্রভাব রয়েছে।

কারণ আন্তর্জাতিক জলবায়ু তহবিল পাওয়ার জন্য এসব দেশকে প্রায়ই নিজেদের বাজেট ও নীতিকে পরিবেশবান্ধব হিসেবে উপস্থাপন করতে হয়, যা বাস্তবে তাদের বাজেট পরিকল্পনা ও ব্যয় কাঠামোকে প্রভাবিত করে। মূলত এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই বিশ্বজুড়ে ‘সবুজ বাজেট’ ধারণার বিকাশ ঘটেছে।

সবুজ বাজেট এমন একটি নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক পদ্ধতি, যেখানে বাজেটের প্রতিটি ধাপে পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ও মূল্যায়ন পরিবেশগত প্রভাব বিবেচনায় নেওয়া হয়। এই পদ্ধতি সরকারকে বুঝতে সহায়তা করে যে বাজেট কেবল একটি অর্থনৈতিক হিসাব নয়; বরং এটি একটি শক্তিশালী নীতিনির্ধারণী উপকরণ, যা রাষ্ট্রের বিভিন্ন খাতে পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে উৎসাহিত করে।

আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিকোণ থেকে রাষ্ট্রের আচরণ নির্ধারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগুলোর একটি হলো ২০১৫ সালের প্যারিস চুক্তি, যা বিশ্বের প্রায় সব দেশকে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে নিয়ে এসেছে।

উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এই পদ্ধতির প্রভাব দ্বিমুখী। একদিকে, এটি সীমিত সম্পদের আরও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর ভর্তুকি বিশেষ করে জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক ভর্তুকি চিহ্নিত করে ধীরে ধীরে তা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও টেকসই অবকাঠামোতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা সম্ভব।

একই সঙ্গে, এটি বাজেট ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ায়, যা আন্তর্জাতিক অর্থায়ন প্রাপ্তির ক্ষেত্রেও সহায়ক ভূমিকা পালন করে। বাস্তবে দেখা গেছে, জলবায়ু অভিযোজন ও প্রশমন কার্যক্রমে বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হয়, যার একটি বড় অংশ স্থানীয় বাজেট থেকেই আসতে হয়। এই কারণে সবুজ বাজেট প্রণয়ন উন্নয়নের একটি কার্যকর কৌশল হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে, যা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও পরিবেশগত সুরক্ষাকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নিতে সহায়তা করে।

অন্যদিকে, বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে উন্নয়নশীল দেশগুলো নানা সীমাবদ্ধতার সম্মুখীন হয়। অনেক সময় তাদের কাছে পর্যাপ্ত তথ্য, প্রযুক্তিগত দক্ষতা কিংবা প্রশিক্ষিত মানবসম্পদ থাকে না, যার ফলে বাজেটের বিভিন্ন খাতে পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন করা কঠিন হয়ে পড়ে।

এছাড়া আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের অভাব এবং উপযুক্ত নীতিগত কাঠামোর ঘাটতিও একটি বড় বাধা। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, উন্নয়নশীল দেশগুলোকে প্রায়ই তাৎক্ষণিক উন্নয়ন চাহিদা যেমন দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অবকাঠামো উন্নয়ন ও দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত লক্ষ্যগুলোর মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে হয়। এই বাস্তবতায় সবসময় পরিবেশবান্ধব খাতে অধিক বরাদ্দ দেওয়া রাজনৈতিক বা আর্থিকভাবে সম্ভব হয় না।

এই সীমাবদ্ধতা মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন ধরনের সহায়তা প্রদানের চেষ্টা করছে। অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থা-এর প্যারিস কোলাবোরেটিভ অন গ্রিন বাজেটিং সরকারগুলোকে বাজেট প্রণয়নের প্রাথমিক পর্যায়েই পরিবেশগত বিশ্লেষণ অন্তর্ভুক্ত করতে উৎসাহিত করে।

অন্যদিকে, জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি এমন বিভিন্ন কাঠামো ও নির্দেশিকা তৈরি করেছে, যার মাধ্যমে দেশগুলো তাদের জাতীয় বাজেটকে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা এবং পরিবেশগত চুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে পারে। তবে এসব উদ্যোগ মূলত বাধ্যতামূলক নয়; বরং এগুলো সহায়ক ও পরামর্শমূলক, যা বিভিন্ন দেশের বাস্তবতা ও সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রয়োগ করা যায়।

এই ক্ষেত্রে বাংলাদেশ একেবারে অনভিজ্ঞ নয়। মূলত ২০১৪ সাল থেকে পর্যায়ক্রমে এবং প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ২০১৭-১৮ অর্থবছর থেকে বাংলাদেশ জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থা-এর নির্দেশিকা ও কারিগরি সহায়তার প্রত্যক্ষ সুফল পেতে শুরু করে। এর ফলে দেশের সামগ্রিক সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা-এ পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক দৃষ্টিভঙ্গি ধীরে ধীরে মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত হয়।

এই সহযোগিতার ভিত্তিতে প্রণীত ক্লাইমেট ফিসকাল ফ্রেমওয়ার্ক অনুসরণের মাধ্যমে বর্তমানে সরকারের ২৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বাজেট বরাদ্দের প্রাথমিক স্তরেই পরিবেশগত বিশ্লেষণ বা গ্রিন বাজেট ট্যাগিং করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতি বছর মূল বাজেটের সঙ্গে একটি পৃথক জলবায়ু বাজেট প্রতিবেদন জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হয়।

এর ফলে মোট বাজেটের প্রায় ৭ থেকে ৮ শতাংশ অর্থ পরিবেশবান্ধব খাতে সুনির্দিষ্টভাবে ট্র্যাকিং ও বরাদ্দ করা সম্ভব হচ্ছে, যা রাষ্ট্রীয় ব্যয়ের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করেছে এবং আন্তর্জাতিক জলবায়ু তহবিল যেমন সবুজ জলবায়ু তহবিল থেকে অনুদান ও ঋণ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়িয়েছে।

সর্বোপরি, এই সহায়তামূলক কাঠামো কোনো আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতার কারণে নয়; বরং স্বপ্রণোদিতভাবেই বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ এবং মুজিব ক্লাইমেট প্রসপারিটি প্ল্যান-এর লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে জাতীয় বার্ষিক বাজেটের কার্যকর সমন্বয় সাধনে সহায়তা করেছে।

সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের জলবায়ু ও পরিবেশবান্ধব বাজেট ব্যবস্থাপনার প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো আরও সুদৃঢ় হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় অর্থ মন্ত্রণালয় জাতীয় সংসদে অষ্টম বার্ষিক জলবায়ু বাজেট প্রতিবেদন উপস্থাপন করেছে। বর্তমানে এই বিশেষ বাজেট ট্র্যাকিং ব্যবস্থার আওতায় মোট ২৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মোট বরাদ্দের ১০.০৭ শতাংশ অর্থ যার পরিমাণ প্রায় ৪১,২০৮.৯৭ কোটি টাকা, সুনির্দিষ্টভাবে জলবায়ু ও পরিবেশ-সংবেদনশীল কার্যক্রমে বরাদ্দ করা হয়েছে।

‘বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড অ্যাকশন প্ল্যান’ (BCCSAP)-এর বিভিন্ন স্তম্ভের মধ্যে এ অর্থবছরেও সর্বাধিক অগ্রাধিকার পেয়েছে খাদ্য নিরাপত্তা, সামাজিক সুরক্ষা ও স্বাস্থ্য খাত, যেখানে মোট বরাদ্দের প্রায় ৪৩.৩৭ শতাংশ ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় রাষ্ট্রের নীতিগত অঙ্গীকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন।

তৎকালীন সরকারের অনাকাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক পরিণতির কারণে দীর্ঘমেয়াদি ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ এবং মুজিব ক্লাইমেট প্রসপারিটি প্ল্যান ভবিষ্যতে কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হবে, তা এখনো অনিশ্চিত। তবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরেও এ পরিকল্পনাগুলোর ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রচেষ্টা লক্ষ করা গেছে।

বরং নীতিগত ও কৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকে এ অর্থবছরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলো জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি-এর কারিগরি সহায়তায় বাংলাদেশের প্রথম সমন্বিত ন্যাশনাল ক্লাইমেট ফাইন্যান্স স্ট্র্যাটেজি চূড়ান্ত প্রণয়নের শেষ পর্যায়ে পৌঁছানো। এই কৌশলটি প্রচলিত জাতীয় বাজেট কাঠামোর বাইরে গিয়ে বেসরকারি খাত, সবুজ বন্ড এবং আন্তর্জাতিক উৎস থেকে জলবায়ু অর্থায়নের নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারে।

সবুজ বাজেট এমন একটি নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক পদ্ধতি, যেখানে বাজেটের প্রতিটি ধাপে পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ও মূল্যায়ন পরিবেশগত প্রভাব বিবেচনায় নেওয়া হয়। এই পদ্ধতি সরকারকে বুঝতে সহায়তা করে যে বাজেট কেবল একটি অর্থনৈতিক হিসাব নয়; বরং এটি একটি শক্তিশালী নীতিনির্ধারণী উপকরণ, যা রাষ্ট্রের বিভিন্ন খাতে পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে উৎসাহিত করে।

এছাড়া ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখা গেছে, মোট জলবায়ু ব্যয়ের প্রায় ৬৫ শতাংশ সরাসরি মাঠপর্যায়ের উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে বাস্তবায়িত হচ্ছে, যা ২০১৬ সালের প্রায় ৪০ শতাংশের তুলনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি। এটি জলবায়ু-সংবেদনশীল উন্নয়ন কার্যক্রমে অধিক কার্যকারিতা এবং টেকসই প্রকল্প বাস্তবায়নের ইতিবাচক ইঙ্গিত বহন করে।

তবে এই কাঠামোগত অগ্রগতির পাশাপাশি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে কিছু গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক চ্যালেঞ্জ ও সীমাবদ্ধতাও দৃশ্যমান হয়েছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ এবং অভ্যন্তরীণ ঋণ পরিশোধের বাধ্যবাধকতার কারণে পূর্ববর্তী সংশোধিত বাজেটের তুলনায় জলবায়ু-সংশ্লিষ্ট সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বরাদ্দ এবং সামগ্রিক জলবায়ু বাজেট প্রায় ২.৪২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

এছাড়া মোট জলবায়ু বাজেটের মাত্র ২.৬ শতাংশ গবেষণা ও ডেটা ব্যবস্থাপনা খাতে বরাদ্দ করা হয়েছে। অন্যদিকে, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি-এ বিদ্যুৎ খাতের বরাদ্দের বড় অংশ এখনো জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর প্রকল্পের অধীন রয়ে গেছে, যেখানে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত পেয়েছে মাত্র ২.৮৯ শতাংশ বরাদ্দ। এটি স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে যে, নীতিগত ট্র্যাকিং ব্যবস্থা উন্নত হলেও জ্বালানি খাতের বাস্তব রূপান্তরে এখনো উল্লেখযোগ্য ঘাটতি বিদ্যমান।

সার্বিকভাবে বলা যায়, উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য সবুজ বাজেট কোনো বাধ্যতামূলক নিয়ম নয়; বরং এটি একটি কৌশলগত নীতিগত পছন্দ। বাংলাদেশ সেই পথই অনুসরণ করার চেষ্টা করছে। এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক অর্থায়নে আস্থা ও আগ্রহ সৃষ্টি, বাজেট ব্যবস্থাপনার দক্ষতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশগত স্থিতিশীলতা অর্জনের একটি কার্যকর মাধ্যম হতে পারে। তবে এই পথ মোটেই সহজ নয়। এর সফলতা নির্ভর করবে দেশের আর্থিক সক্ষমতা, প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা এবং সর্বোপরি ভবিষ্যৎ সরকারের রাজনৈতিক অগ্রাধিকারের ওপর।

ড. এ কে এম মাহমুদুল হক : অধ্যাপক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়