বিজ্ঞাপন

সামাজিক সুরক্ষা : সুশাসনই টেকসই দারিদ্র্য নিরসনের পথ

সামাজিক সুরক্ষা : সুশাসনই টেকসই দারিদ্র্য নিরসনের পথ

প্রতিবছর বাজেট ঘোষণার পর সাধারণ মানুষের মনে একটি বড় প্রশ্ন থাকে—এবার কোন কোন পণ্যের দাম বাড়বে? নতুন কর বা শুল্কের কারণে সংসারের খরচ আরও বাড়বে কি না? এমন উদ্বেগ ও আশঙ্কা গত দেড় দশকে বাজেটের পর প্রায় নিয়মিতই দেখা গেছে। বাজেট মানেই যেন মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের পকেটে বাড়তি টান— এমন একটি মনস্তাত্ত্বিক ধারণা নিয়েই যেন আমাদের বেড়ে ওঠা! তবে এবারের চিত্রটা কিছুটা ভিন্ন।

প্রস্তাবিত বাজেটে মোট ব্যয়ের পরিমাণ ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ। আগামী অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেটের আকার ছিল ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ১২ দশমিক ৬ শতাংশ। পরে সংশোধিত বাজেটে এর আকার প্রাক্কলন করা হয় ৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা। সে হিসাবে নতুন অর্থবছরের বাজেটের আকার বেড়েছে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা।

আমরা যারা স্বল্প আয়ের মানুষ, আমাদের হিসেবে অর্থনীতির সেই যে জটিল সমীকরণ… তারা এই যে, জিডিপির হিসাব, মূল্যস্ফীতির ওঠানামার সংজ্ঞায়ন, বাজেটের ঘাটতি বা বিদেশি অর্থায়ন… এসব নিয়ে কমই ভাবি। আমাদের মাথায় থাকে, আমার যে আয়, তা দিয়ে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে পারবো কি না। প্রতিবছর এই যে, নতুন ছেলেমেয়ে পড়ালেখা শেষ করে বের হচ্ছে, তাদের চাকরিবাকরির ব্যবস্থা কীভাবে হবে- সেসব। তবে, আশার দিক হলো, এবারের বাজেট ঘোষণার পর নির্ভার থাকতে পেরেছে স্বল্প আয়ের বিশাল এক জনগোষ্ঠী।

নীরস বাস্তবতায় স্বস্তির আবহ

উত্তরাধিকার সূত্রেই বর্তমান সরকার পেয়েছে অর্থনীতির তীব্র চাপ; যেখানে গেল কয়েকবছর ধরেই চোখ রাঙাচ্ছে চড়া মূল্যস্ফীতির পারদ। বেকারত্ব বাড়ছে। নতুন কর্মসংস্থান নেই, বিদেশি বাণিজ্যও যে খুব একটা সুবিধাজনক অবস্থায় আছে, তাও বলা যায় না। এমন অবস্থায় বাজেটে স্বস্তিদায়ক কিছু নিশ্চিত করা সরকারের জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জই ছিলো নিঃসন্দেহে। দীর্ঘ প্রায় দুইদশক ক্ষমতার বাইরে থেকে, মাত্র চারমাসে নতুন বাজেট তৈরির কাজও ছিল কঠিন। কেননা, সরকার প্রধানের চিন্তায় প্রাধান্য পেয়েছে সাধারণ মানুষের স্বস্তি।

অর্থনীতির স্বাভাবিক বিশ্লেষণে তাই উঠে আসে, নতুন বাজেট সাধারণ মানুষের জীবনে নতুন কোনো বোঝা চাপায়নি। বরং অনেক ক্ষেত্রেই স্বস্তির ইঙ্গিত দিয়েছে।

সরকারের আগামী ১২ মাসের ইকোনমিক ফ্রেমিংয়ে সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হলো, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে সরাসরি চাপ তৈরি করবে, এমন কোনো বড় বা নতুন কর আরোপ করা হয়নি। উল্টো বাজারদরের লাগাম টানার পদক্ষেপে গুরুত্ব দিয়েছে সরকার। সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, চিনি, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, আলুসহ প্রায় ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর উৎসে কর কমানোর জোরালো প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর ফলে আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের খরচ কমবে, যা সরাসরি এসব পণ্যের বাজারমূল্য কমার সুযোগ তৈরি করতে পারে। যদিও আমাদের দেশের বাজার বাস্তবতায় শুধু কর কমালেই রাতারাতি দাম কমে যাবে—এমন নিশ্চয়তা দেওয়া কঠিন। কারণ, এর সাথে বাজার মনিটরিং ও সরবরাহ শৃঙ্খলের মতো বিষয়গুলো জড়িত। তবে, অন্তত বাজেটের কারণে নতুন করে মূল্যবৃদ্ধির শঙ্কা তৈরি হয়নি, এটাই এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। চড়া মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য এটিই বড় স্বস্তির জায়গা।

স্বল্প আয়ের বড় জনগোষ্ঠীর জন্য স্বস্তি

বাজেটে খাতভিত্তিক বরাদ্দের ক্ষেত্রেও বেশ কিছু ইতিবাচক ও কল্যাণমুখী দিক রয়েছে। যা আগের বছরের তুলনায় সুনির্দিষ্টভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। যেমন- সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীতে বড় একটা পরিবর্তন এসেছে। পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী, বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধীদের সুরক্ষায় সামাজিক নিরাপত্তা ও সমাজকল্যাণ খাতে বরাদ্দ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বাড়ানো হয়েছে।

একটি কল্যাণকামী রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি দাঁড়িয়ে থাকে তার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুরক্ষার ওপর। রাষ্ট্র যখন তার সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে এসে দাঁড়ায়, তখনই কেবল প্রকৃত উন্নয়নের রূপরেখা স্পষ্ট হয়। এবারের বাজেটে লক্ষ্য, প্রান্তিক ও ঝুঁকিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্য হ্রাস এবং সামাজিক বৈষম্য কমানোর যে অঙ্গীকার দেখা গেছে, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। বিশেষ করে, জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সুবিধাভোগীর সংখ্যা এবং মাথাপিছু বরাদ্দ বৃদ্ধিতে যে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে, তা বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় অত্যন্ত সময়োপযোগী।

প্রথমবারের মতো আটটি নতুন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে এবারের বাজেটে। এর মধ্যে দূরদর্শী উদ্যোগ হলো ‘ফ্যামিলি কার্ড’। নারীপ্রধান পরিবারগুলোর অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করতে প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগামী অর্থবছরে ৪১ লাখ এবং আগামী পাঁচ বছরে ১ কোটি ৬১ লাখ পরিবারকে এই সুবিধার আওতায় আনার যে বিশাল পরিকল্পনা, তা গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট (র‍্যাপিড) বলছে, সরকারঘোষিত ৪১ লাখ দরিদ্র পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হলে দারিদ্র্যের হার এক ধাক্কায় ১৩ দশমিক ৮ শতাংশে নামবে। এজন্য রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক প্রভাবমুক্ত হয়ে এই কার্ড দিতে হবে। আর দেশের সব দরিদ্র পরিবারকে যদি এই কার্ডের আওতায় আনা সম্ভব হয়, তাহলে দারিদ্র্যের হার ১১ দশমিক ৩ শতাংশে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাব অনুসারে, ২০২২ সালে দারিদ্র্যের হার ছিল ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ। পরের বছরগুলোতে মূল্যস্ফীতিসহ অন্যান্য বিবেচনায় দারিদ্র্যের হার বেড়েছে বলে বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গবেষণায় উঠে এসেছে। তবে, কাগজে-কলমে এই ফ্যামিলি কার্ড অত্যন্ত সময়োপযোগী হলেও এর মূল চ্যালেঞ্জ হবে সঠিকভাবে উপকারভোগী নির্বাচন ও বিতরণপ্রক্রিয়া। কারণ, অতীতে অনেক সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে স্বজনপ্রীতি ও অপচয়ের নজির রয়েছে। এদিক থেকে সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে।

কোভিডের সময় দেশের আর্থসামাজিক অবস্থা নিয়ে বিশ্লেষণ করেছিল বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো-বিবিএস। তাদের সে সময়ের পর্যবেক্ষণ ছিল, দেশের প্রায় ২৫ শতাংশ মানুষ অরক্ষিত। তারা যেকোনো ধাক্কায় হঠাৎ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যেতে পারে, কোভিডের সময় যা দেখা গেল। সে জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় একটি বড় অংশকে আনা প্রয়োজন। আবার, এটা চরম সত্য যে, মধ্যবিত্তের আয় সীমিত। দুর্যোগ বা উচ্চ মূল্যস্ফীতির সময় এই মানুষেরা সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, দুর্যোগের সময় তারা কারও কাছে হাত পাততে পারে না, আবার লাইনে দাঁড়িয়ে স্বল্পমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতেও তাদের আত্মসম্মানে লাগে। ফলে তাদের কষ্ট কারও চোখে পড়ে না। তাই সামাজিক সুরক্ষাখাতের মাধ্যমে একটি পরিবারকে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। যা দিয়ে পরিবারের বাচ্চারা লেখাপড়া শিখতে পারবে। তারা যদি সুষ্ঠুভাবে পড়ালেখা শেষ করে উপার্জনশীল হয়ে উঠতে পারে, তবে একটি পরিবার দাঁড়িয়ে গেলো।

একইসঙ্গে জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার এবং আহত ব্যক্তিদের মাসিক সম্মানী ভাতা চালুর সিদ্ধান্তটি কেবল একটি আর্থিক সহায়তা নয়, এটি রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব ও কৃতজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ। শহীদ পরিবার এবং গুরুতর আহতদের ক্যাটাগরি অনুযায়ী ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা মাসিক ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্তটি মানবিক। এছাড়া দেশের সাড়ে ৪২ লাখ কৃষকের জন্য বার্ষিক কৃষক কার্ডের আওতা বাড়ানো এবং কর্মহীন দুস্থ শ্রমিকদের জন্য সর্বোচ্চ তিন মাস পাঁচ হাজার টাকা করে ভাতার ব্যবস্থা করা শ্রমজীবী মানুষের প্রতি রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতার প্রকাশ। প্রথমবারের মতো অন্তর্ভুক্তিমূলক উদ্যোগ হলো মসজিদ, মন্দির ও বিহারের ইমাম, মুয়াজ্জিন, পুরোহিত ও খাদেমদের মাসিক সম্মানী এবং উৎসব ভাতার আওতায় আনা। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের এসব নীরব সেবকদের পাশে রাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে দাঁড়াচ্ছে, এটি একটি সম্প্রীতির বার্তা বহন করে। অন্যদিকে, দরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে সামাজিক নিরাপত্তার সম্প্রসারিত কাঠামোর মধ্যে ফেলা হয়েছে, যা এক ঢিলে দুই পাখি মারার মতো—পরিবেশের সুরক্ষা এবং দরিদ্রের আয় বৃদ্ধি।

নতুন কর্মসূচির পাশাপাশি বিদ্যমান ভাতার হার ও উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্তও ইতিবাচক। দীর্ঘদিন ধরে দাবি ছিল, মূল্যস্ফীতির বাজারে সামান্য টাকা দিয়ে সংসার চলে না। সেই প্রেক্ষাপটে বয়স্ক ও বিধবা ভাতা ৬৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০০ টাকা এবং প্রতিবন্ধী ভাতা ৯০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার টাকা করা হয়েছে। টাকার অঙ্কে এই বৃদ্ধি খুব বেশি মনে না হলেও, বিশাল জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে সামগ্রিক বাজেট বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি বৃদ্ধি এবং ক্যানসার, কিডনি বা থ্যালাসেমিয়ার মতো জটিল রোগীদের এককালীন সহায়তা ৫০ হাজার টাকা থেকে দ্বিগুণ করে এক লাখ টাকা করার সিদ্ধান্তটি বহু অসহায় পরিবারের জন্য জীবন রক্ষাকারী ঢাল হিসেবে কাজ করবে। খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী পাঁচ হাজার টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্তটিও ইতিবাচক।

টেকসই দারিদ্র্য নিরসনের পথ

সামাজিক সুরক্ষা খাতের সঠিক ও বৈষম্যহীন বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে পারলে দেশের দারিদ্র্য বিমোচনে বড় অগ্রগতি সম্ভব। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড বা বয়স্ক ভাতার মতো কর্মসূচিগুলো প্রান্তিক ও অসহায় মানুষের হাতে সরাসরি আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দিয়ে তাদের তাৎক্ষণিক অর্থনৈতিক ধাক্কা সামলাতে সাহায্য করে। তবে কেবল ভাতা দিয়ে দীর্ঘমেয়াদে দারিদ্র্য দূর করা সম্ভব নয়; এর জন্য প্রকৃত উপকারভোগীদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করা এবং বরাদ্দকৃত অর্থের স্বচ্ছ বণ্টন নিশ্চিত করা জরুরি।

সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সাফল্য কেবল বরাদ্দের অঙ্কে নির্ভর করে না; নির্ভর করে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ওপর। প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে সুবিধা পৌঁছানো, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত তালিকা প্রণয়ন এবং ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অপচয় ও দুর্নীতি কমানো গেলে এসব কর্মসূচি শুধু সাময়িক সহায়তা নয়, দারিদ্র্য বিমোচনের কার্যকর হাতিয়ার হয়ে উঠবে। তাই এবারের বাজেটে সামাজিক সুরক্ষার যে বিস্তৃত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তার প্রকৃত সফলতা নির্ভর করবে বাস্তবায়নের মানের ওপর। সুশাসন নিশ্চিত করা গেলে এই খাতই হতে পারে বৈষম্য হ্রাস ও টেকসই উন্নয়নের অন্যতম প্রধান ভিত্তি।

লেখক : ইনচার্জ, বিজনেস ডেস্ক, চ্যানেল টোয়েন্টিফোর