বিজ্ঞাপন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস : দীর্ঘ ইতিহাস, চ্যালেঞ্জ ও প্রত্যাশা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস : দীর্ঘ ইতিহাস, চ্যালেঞ্জ ও প্রত্যাশা

প্রতি বছর ১ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আমাদের শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের বয়স গণনার উপলক্ষ দেয় না; বরং জাতি হিসেবে নিজেদেরও নতুন করে মূল্যায়নের সুযোগ এনে দেয়। কারণ একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃত পরিচয় তার প্রতিষ্ঠাবর্ষে নয়, বরং তার জ্ঞানচর্চা, নৈতিক নেতৃত্ব, গবেষণার সক্ষমতা এবং সমাজকে আলোকিত করার ক্ষমতায় নিহিত।

গ্রিক দার্শনিক হেরাক্লিটাস বলেছিলেন, ‘জ্ঞান জন্মগত নয়; তা নিরন্তর অনুশীলনের মাধ্যমে অর্জিত হয়।’ ঠিক তেমনি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার আত্মপরিচয় নির্মাণ করে ইট-পাথরের স্থাপত্যে নয়, বরং মুক্তচিন্তা, বৌদ্ধিক সাহস, মানবিক মূল্যবোধ এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার ভিতের ওপর।

২০২৬ সালে, যখন বাংলাদেশ একটি নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা, নতুন প্রত্যাশা এবং নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পদার্পণ করেছে তার ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে। এই দীর্ঘ যাত্রাপথে বিশ্ববিদ্যালয়টি যেমন একটি গৌরবময় অতীতের ধারক, তেমনি ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের দিকনির্দেশনা নির্ধারণের অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠানও।

একটি আধুনিক রাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয় কেবল দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করে না; এটি রাষ্ট্রের নৈতিক বোধ, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি, বৈজ্ঞানিক মনন এবং নাগরিক চেতনার ভিত্তিও নির্মাণ করে। তাই বিশ্ববিদ্যালয় দিবস কেবল স্মৃতিচারণের দিন নয়; এটি আত্মসমালোচনা, আত্মমূল্যায়ন এবং নতুন অঙ্গীকারেরও দিন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস মূলত বাংলাদেশের ইতিহাসেরই আরেকটি নাম। ১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই বিশ্ববিদ্যালয় বাঙালির আত্মপরিচয়, ভাষা, সংস্কৃতি, গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা এবং জাতীয় চেতনাকে বিকশিত করার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বলা হয়, ‘একটি জাতি তার ভাষার মধ্যেই বেঁচে থাকে।’ ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালি জাতি যে আত্মপরিচয়ের সন্ধান পেয়েছিল, তার অন্যতম প্রাণকেন্দ্র ছিল এই বিশ্ববিদ্যালয়।

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ঐতিহাসিক ছয় দফা, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ—বাংলাদেশের প্রতিটি ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গবেষকেরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

ইতিহাসের প্রতিটি বাঁকে এই বিশ্ববিদ্যালয় কেবল ঘটনার সাক্ষী নয়; অনেক ক্ষেত্রেই পরিবর্তনের নেতৃত্বও দিয়েছে। এ কারণেই বহু গবেষক যথার্থই বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসের সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত।

এই উত্তরাধিকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে শুধু একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়, বরং বাঙালি জাতির আত্মবিশ্বাস, মুক্তচিন্তা, গণতান্ত্রিক চেতনা এবং স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। কিন্তু ইতিহাসের গৌরব কেবল স্মৃতির বিষয় হতে পারে; ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা নয়। প্রতিটি প্রজন্মকেই নিজেদের সময়ে সেই গৌরব নতুনভাবে নির্মাণ করতে হয়।

এই কারণেই আজ, ১০৫ বছরে এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো সে কি কেবল তার ঐতিহাসিক মর্যাদার ওপর নির্ভর করে থাকবে, নাকি নতুন জ্ঞান সৃষ্টি, গবেষণায় উৎকর্ষ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, আন্তর্জাতিকীকরণ এবং মানবিক নেতৃত্বের মাধ্যমে ভবিষ্যতের বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হবে?

ইমানুয়েল কান্ট মনে করতেন, মানুষের মুক্তির প্রথম শর্ত হলো স্বাধীনভাবে চিন্তা করার সক্ষমতা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শক্তিও বরাবরই ছিল সেই মুক্তবুদ্ধির চর্চা। বর্তমান সময়ে, যখন বিশ্বজুড়ে জ্ঞান, প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা উচ্চশিক্ষার চরিত্রকে দ্রুত বদলে দিচ্ছে, তখন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সবচেয়ে জরুরি কাজ হলো মুক্তচিন্তা, বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান এবং সমালোচনামূলক বুদ্ধিবৃত্তিক পরিবেশকে আরও শক্তিশালী করা। কারণ যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশ্ন করতে শেখায় না, সে কখনোই একটি জাতিকে নেতৃত্ব দিতে পারে না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গুণগত মান এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় তার অবস্থান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে। ইতিবাচক দিক হলো, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বিশ্ববিদ্যালয়টি আন্তর্জাতিক র‌্যাঙ্কিংয়ে ধারাবাহিক অগ্রগতি অর্জন করেছে। ২০২৬ সালের কিউএস (QS) বিশ্ব বিশ্ববিদ্যালয় র‌্যাঙ্কিংয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ৫৮৪তম অবস্থানে উঠে এসেছে, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি।

একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের দশটি বিষয়ভিত্তিক বিভাগ কিউএস র‌্যাঙ্কিংয়ে স্থান পেয়েছে যা বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। এই অগ্রগতি প্রমাণ করে যে সীমিত সম্পদ নিয়েও শিক্ষক ও গবেষকদের একাংশ আন্তর্জাতিক মানের কাজ করে যাচ্ছেন।

তবে এই সাফল্যের মধ্যেও বাস্তবতার আরেকটি দিক রয়েছে। বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখন শুধু শিক্ষা দেয় না; তারা নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করে, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের নেতৃত্ব দেয় এবং রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সেই তুলনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে এখনও দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতে হবে।

এর অন্যতম কারণ হলো গবেষণায় অপর্যাপ্ত বিনিয়োগ, প্রশাসনিক জটিলতা এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক পরিকল্পনার অভাব। যে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃত শক্তি কেবল তার ঐতিহ্যে নয়; বরং তার সুশাসন, জবাবদিহিতা এবং উদ্ভাবনী সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে।

গবেষণার ক্ষেত্রেও একই বাস্তবতা স্পষ্ট। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট বাজেট ছিল ১,০৩৫ কোটি টাকা, কিন্তু গবেষণা কেন্দ্রগুলোর জন্য বরাদ্দ ছিল মাত্র ২১.৫৭ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের মাত্র ২.০৮ শতাংশ। আন্তর্জাতিক মানের গবেষণাভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় এটি অত্যন্ত সীমিত।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৬টি গবেষণা কেন্দ্রের অনেকগুলোই পর্যাপ্ত অর্থায়ন, আধুনিক গবেষণা সরঞ্জাম, দক্ষ জনবল এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার অভাবে প্রত্যাশিত ভূমিকা রাখতে পারছে না। ফলে গবেষণার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও তার পূর্ণ বিকাশ ঘটছে না। অন্যদিকে, আবাসন সংকট শিক্ষার্থীদের জন্য একটি দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বর্তমানে ২০টি আবাসিক হল ও ৩টি হোস্টেলে প্রায় ২৫ হাজার শিক্ষার্থী বসবাস করলেও চাহিদার তুলনায় আসনসংখ্যা এখনো অনেক কম। এর ফলে অনেক শিক্ষার্থীকে অনানুষ্ঠানিক বা অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করতে হয়, যা একটি আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য কাম্য নয়।

নারী শিক্ষার্থী, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী এবং দূরবর্তী অঞ্চল থেকে আগত শিক্ষার্থীদের জন্য আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও নিরাপদ আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। কারণ একটি নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও বৈষম্যহীন ক্যাম্পাসই সৃজনশীল শিক্ষা ও গবেষণার ভিত্তি।

প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের প্রশ্নেও আত্মসমালোচনার সুযোগ রয়েছে। ১৯৭৩ সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করার একটি ঐতিহাসিক ভিত্তি হলেও, সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এর বিভিন্ন দিক পুনর্মূল্যায়নের দাবি উঠেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ, পদোন্নতি, গবেষণা মূল্যায়ন এবং প্রশাসনিক নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড, গবেষণা সক্ষমতা, একাডেমিক নেতৃত্ব এবং জবাবদিহিতাকে আরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে শিক্ষক সমাজের মধ্যে সহযোগিতামূলক গবেষণা, আন্তঃবিভাগীয় কাজ এবং আন্তর্জাতিক প্রকাশনার সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী করতে হবে।

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনও বিশ্ববিদ্যালয়কে নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শক্তি তার বহুমতের সহাবস্থান, মুক্ত বিতর্ক এবং স্বাধীন জ্ঞানচর্চায়। তাই ক্যাম্পাসে এমন পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি, যেখানে কোনো শিক্ষক বা শিক্ষার্থী রাজনৈতিক মত, বিশ্বাস বা পরিচয়ের কারণে হয়রানি, বৈষম্য বা ভয়ের শিকার হবেন না।

বিশ্ববিদ্যালয়কে রাষ্ট্রের রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র নয়; বরং যুক্তি, সহনশীলতা এবং গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির অনুশীলনের ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

একই সঙ্গে বহুত্ববাদ, সহিষ্ণুতা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ প্রতিটি জাতীয় আন্দোলনে এই বিশ্ববিদ্যালয় বৈচিত্র্য ও মুক্তচিন্তার পক্ষে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান প্রজন্মের কাছেও সেই ঐতিহ্য পৌঁছে দেওয়া জরুরি। কারণ ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা, সমালোচনামূলক চিন্তা এবং যুক্তিনির্ভর বিতর্ক ছাড়া কোনো বিশ্ববিদ্যালয় কখনো বিশ্বমানের হতে পারে না।

বিশ্বায়নের যুগে আন্তর্জাতিকীকরণ আর বিলাসিতা নয়; এটি একটি অপরিহার্য শর্ত। হার্ভার্ড, অক্সফোর্ড, কেমব্রিজ কিংবা এমআইটির মতো বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কেবল গবেষণায় নয়, বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব, শিক্ষার্থী ও শিক্ষক বিনিময় এবং আন্তর্জাতিক গবেষণা তহবিল ব্যবহারের ক্ষেত্রেও অগ্রণী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কেও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, যৌথ গবেষণা, দ্বৈত ডিগ্রি কর্মসূচি, বিদেশি শিক্ষার্থী আকর্ষণ এবং বৈশ্বিক একাডেমিক নেটওয়ার্কে আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত হতে হবে।

ভবিষ্যতের রূপরেখা

১০৫ বছরের এই ঐতিহ্যকে আগামী শতাব্দীর শক্তিতে রূপান্তর করতে হলে এখন কয়েকটি বাস্তবধর্মী পদক্ষেপ অপরিহার্য।

প্রথমত, গবেষণাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অগ্রাধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। গবেষণা তহবিল বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশনার জন্য প্রণোদনা, আধুনিক গবেষণাগার, উন্নত ডিজিটাল ডাটাবেজ এবং বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথ গবেষণা সহজ করার উদ্যোগ নিতে হবে।

দ্বিতীয়ত, শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে আবাসন সম্প্রসারণ, প্রতিবন্ধীবান্ধব অবকাঠামো, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, ডিজিটাল প্রশাসন এবং নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করতে হবে। ডাকসুকে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক, সাংস্কৃতিক ও কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের কার্যকর প্রতিনিধি প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা প্রয়োজন।

তৃতীয়ত, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সংস্কারকে সময়োপযোগী করতে হবে। শিক্ষক নিয়োগ, পদোন্নতি এবং প্রশাসনিক নেতৃত্ব নির্বাচনে একাডেমিক উৎকর্ষ, গবেষণা, নেতৃত্বের দক্ষতা এবং নৈতিকতাকে প্রধান মানদণ্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। একই সঙ্গে প্রশাসনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।

চতুর্থত, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের মধ্যে একটি কার্যকর সেতুবন্ধন গড়ে তুলতে হবে। শিল্প-অ্যাকাডেমিয়া সহযোগিতা, গবেষণাভিত্তিক উদ্যোক্তা কার্যক্রম, ইন্টার্নশিপ, ক্যারিয়ার কাউন্সিলিং এবং শক্তিশালী অ্যালামনাই নেটওয়ার্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

পঞ্চমত, বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিকীকরণের নতুন পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে। বিদেশি শিক্ষক ও শিক্ষার্থী আকর্ষণ, যৌথ ডিগ্রি কর্মসূচি, আন্তর্জাতিক গবেষণা অনুদান এবং বৈশ্বিক অংশীদারিত্বকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে। একটি বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় তার অবস্থান শুধু র‌্যাঙ্কিং দিয়ে নয়, বরং জ্ঞান সৃষ্টি, উদ্ভাবন এবং মানবকল্যাণে অবদানের মাধ্যমে অর্জন করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫ বছরের ইতিহাস আমাদের গর্বের, কিন্তু ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে আজকের সিদ্ধান্তের ওপর। অ্যারিস্টটল যথার্থই বলেছিলেন, ‘শ্রেষ্ঠত্ব কোনো একদিনের অর্জন নয়; এটি ধারাবাহিক অনুশীলনের ফল।’

তাই অতীতের গৌরবকে সম্মান জানিয়ে বর্তমানের সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করাই হওয়া উচিত আমাদের অঙ্গীকার। সরকার, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং নাগরিক সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আবারও দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শ্রেষ্ঠ জ্ঞানকেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের এটাই হোক আমাদের নতুন প্রত্যয়।

ড. মো. রফিকুল ইসলাম : অধ্যাপক, শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়