প্রতিদিনই সড়কে অকালমৃত্যুর হৃদয়বিদারক সংবাদ পড়ি। সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক ঘটনায় অনেক মানুষ অকালে মারা গেছেন। ঢাকা পোস্ট-এর ১৫ আগস্টের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়—নারায়ণগঞ্জে ২ জন পথচারী, লালমনিরহাটে ট্রাক চাপায় ২ জন অটোরিকশার যাত্রী, গাজীপুরে বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ২জন, সীতাকুণ্ডে মোটর সাইকেল আরোহীর মৃত্যু হয়।
৭ আগস্টও অনেক মানুষের মৃত্যু হয়। সিলেটে ২ বাসের সংঘর্ষে ৯ জন, বগুড়ায় দ্রুতগতির বাস চাপা দিলে ৭ জন শ্রমিক, প্রাইভেট কারের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু হয়। এখানে এ মাসের ২টি শুক্রবারের কয়েকটি সংবাদ উপস্থাপন করলাম। এইরকম চিত্র প্রতিদিনকার। প্রতিদিনই সড়কে মানুষের মৃত্যু হচ্ছে, কেউ আবার পঙ্গুত্বের শিকারও হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে রোড ক্র্যাশের ঘটনা ক্রমশ বাড়ছে। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের হিসাবে শুধু জলাই মাসে ৪১৬ জন মারা গেছে। প্রবণতা দেখে মনে হচ্ছে, আগস্ট মাসে এ সংখ্যা বাড়বে।
গত সপ্তাহে, ‘জামালপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় সিভিল জজ নিহত’ শিরোনামের সংবাদটি চোখে পড়ে। মাত্র ২৭ বছর বয়সী তরুণ বিচারক একেএম সামিউল হক মারা যান। ১ বছরও হয়নি তার চাকরির বয়স, ১৭তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষার মাধ্যমে ডিসেম্বর ২০২৫-এ সহকারী জেলা জজ পদে যোগ দেন এ তরুণ।
বয়স অনুযায়ী, আগামী ৩৩ বছর, রাষ্ট্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ ছিল তার। আদালতে উপস্থাপিত প্রতিবেদন ও যুক্তিতর্কের বয়ান শুনে ন্যায়বিচারের মাধ্যমে অসংখ্য মামলা সমাধান করতে পারতেন। অনেক পরিবার ন্যায়বিচার পেত। সমাজে দুষ্টের দমনে ভূমিকা রাখতে পারতেন। রাষ্ট্র ও নাগরিকদের তিনি ৩৩ বছর অমূল্য সেবা দিতে পারতেন।
তার কর্মক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পদলাভ (জেলা জজ) এবং অবসর নেওয়ার পর তিনি স্বাধীন আইনজীবী হিসেবে বা উচ্চ আদালতে নিয়োগলাভ বা স্বাধীন কোনো কমিশনে সদস্য কি চেয়ারম্যান হতে পারতেন। রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণেও কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখতে পারতেন।
তার উপার্জন পারিবারিক ও জাতীয় আয় এবং জিডিপিতে যুক্ত হতো, পরিবার ও রাষ্ট্র সেটা থেকে বঞ্চিত হলো। তার বন্ধুবান্ধব একজন প্রতিভাবান বন্ধুকে হারালো। বিশেষ করে, তার পরিবারের ভয়াবহ বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ল। এ ক্ষতি কোনো কিছুর বিনিময়ে পূরণ করা সম্ভব নয়।
প্রতিনিয়ত এমন অপূরণীয় ক্ষতির শিকার হচ্ছে দেশের অগণিত পরিবার ও রাষ্ট্র। সামিউল-এর অকালমৃত্যু সড়কে অব্যবস্থাপনার একটি নগণ্য উদাহরণ। বিভিন্ন গণমাধ্যমসূত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহ ও জামালপুর সংযোগ সড়কের লাহিড়ীকান্দা এলাকায় রড পরিবহনকারী একটি ট্রাকের চাকা নষ্ট হওয়ায় চালক ও সহকারী সড়কে গাড়ি থামিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন এবং সড়কে থেমে থাকা ট্রাকে প্রাইভেট কার ধাক্কা দেয়। এতে রডের অংশ গ্লাস ভেদ করে সামিউলের শরীরে ঢুকে পড়লে, তিনি তাৎক্ষণিকভাবে মারা যান। এ ঘটনার পরের ছবি ও ভিডিও দেখে কয়েকটি জরুরি বিষয় মাথায় এসেছে—
১। ভঙ্গুর প্রাইভেট কারের ছবি দেখে মনে হয়েছে, চালক দ্রুতগতিতে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। যানবাহনের গতি বেশি হলে সড়কে বিদ্যমান কোনো কিছু দেখার সময় কমে যায়, ফলে প্রয়োজনীয় সময়ে গাড়ি থামানো যায় না। তাছাড়া, গতি যত বেশি হয় থামাতে তত বেশি দূরত্ব দরকার। দ্রুত গতির কারণে রডসম্বলিত ট্রাক দেখার পরও চালক হয়তো থামানোর জন্য পর্যাপ্ত দূরত্ব পাননি।
২। ভোর ৪টায় এ ঘটনা ঘটেছে। এতে চালকের নিদ্রাচ্ছন্ন বা ঝিমুনি থাকাটা স্বাভাবিক। গাড়ি চালানো গভীর মনোসংযোগের বিষয়। সঠিক ঘুম ও বিশ্রাম নিয়ে গতিসীমা মেনে গাড়ি চালালে এ মৃত্যু রোধ করা যেত।
৩। এখন কুয়াশা হয় না, প্রাইভেট কারের আলোতে থেমে থাকা ট্রাক চালকের দেখার কথা। কিন্তু নিদ্রাচ্ছন্ন থাকলে নাও দেখতে পারেন। চালক যখন রডবোঝাই ট্রাক দেখেছেন তখন থামানোর চেষ্টা করেও পারেননি। গাড়ির সমস্যা থাকলে অনেক সময় ব্রেক সময়মতো ও সঠিকভাবে কাজ করে না। এতে দুটো বিষয় প্রতীয়মান, এক. প্রাইভেট কারের গতি বেশি ছিল, চালক থামানোর জন্য পর্যাপ্ত দূরত্ব পাননি – যা আগেই উল্লেখ করেছি। দুই. যানবাহনের ব্রেক ঠিকমতো কাজ করেনি। সড়কের যানবাহন ও চালকদের লাইসেন্স হালনাগাদ থাকা জরুরি।
৪। সড়ক নির্মাণ ও ব্যবস্থাপনা ত্রুটির কারণেও দুটি বিপরীতমুখী যানবাহন বা থামা গাড়ির সঙ্গে চলন্ত গাড়ির সংঘর্ষ হতে পারে। হঠাৎ বাঁকসহ সড়ক নির্মাণ করলে সেখানে বিপরীতমুখী যানবাহন ঠিকভাবে দেখতে পারার কথা নয়। লাহিড়ীকান্দা এলাকায় এমন বাঁক ছিল কিনা, তা অজানা। তবে, ২০১১ সালে তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীর নিহত হওয়ার ঘটনায় মানিকগঞ্জের ওই সড়কে হঠাৎ বাঁক অন্যতম কারণ হিসেবে মনে করা হয়। তাই ঝুঁকিপূর্ণ ও হঠাৎ বাঁক পরিহার করে সড়ক নির্মাণ করতে হবে।
৫। সড়ক ব্যবস্থাপনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, চলমান সড়কে প্রতিবন্ধকতামুক্ত রাখা। সড়কের পাশে গাছের ডালপালা কাটা, বিশেষত বিপরীতমুখী যানবাহন বা দূরে দেখতে অসুবিধা হয় এমন ডালপালা কেটে ফেলতে হবে। ডিজিটাল ও আলো ঝলমলে বিজ্ঞাপন বা দোকানের সাইনবোর্ড থাকলে চালকের দৃষ্টি ও মনোযোগ সেদিকে চলে যায়। তখন সামনে হঠাৎ কোনো গাড়ি বা মানুষ চলে আসলে থামানোর জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যায় না। তাই সড়কের পাশে, মোড় বা বাঁকগুলোয় আলো-ঝলমলে বিজ্ঞাপনের বিলবোর্ড বা দোকান তৈরির ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
৬। রড ট্রাকের পরিবর্তে লরিতে পরিবহন করা যেত। যেকোনো যানবাহনের বডি কাঠামোর বাইরে মালামাল বা পণ্য পরিবহন নিষিদ্ধ থাকার কথা। এটি মানা হলে এমন মৃত্যু দেখতে হতো না।
৭। ট্রাকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে থামা অবস্থায় ছিল, যার পেছনের অংশে রড ছিল। এতে অন্য যানবাহন যেন দেখতে পায় এমন দৃশ্যমান লাইট বা অন্য কোনো ব্যবস্থা রাখা জরুরি ছিল। তাহলে প্রাইভেট কারের চালক দেখতে পারতেন এবং তিনি সতর্ক হয়ে রডের বাহিরের অংশের সঙ্গে সংঘর্ষ এড়াতে পারতেন।
তরুণ বিচারক মৃত্যুর ঘটনা উপরের যে বিষয়গুলোর আলোকে বিশ্লেষণ করেছি, এসব বিষয়কে বৈজ্ঞানিকভাবে একত্রিত করে সড়ক নিরাপত্তায় ‘safe system approach’ নির্ধারণ করেছে। যেখানে নিরাপদ গতি, সড়ক, যানবাহন ও সড়ক ব্যবহারকারী বিষয়গুলো পর্যায়ক্রমিকভাবে তুলে ধরা হয়েছে। কোনো দেশ যদি ‘সেফ সিস্টেম’ পদ্ধতি গ্রহণ করে তবে সড়কে অকালমৃত্যু কমাতে সফল হবে।
পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সম্ভাবনাময় শিশুকিশোর ও কর্মক্ষম তরুণ মানুষই সড়কে বেশি মারা যাচ্ছে, এসব অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু অনেকাংশ কমানো সম্ভব হবে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০ জুলাই ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায় , বিশ্বব্যাপী সড়কে মারা যায় প্রায় ১২ লাখ মানুষ এবং ৫-২৯ বছর বয়সীদের অকালমৃত্যুর প্রধান কারণ রোড ক্র্যাশ। এছাড়া, রোড ক্র্যাশে মারাত্মক আহত ও পঙ্গুত্বের শিকার হয় ৫০ লক্ষাধিক মানুষ, এদেরও অধিকাংশ অল্পবয়সী ও কর্মক্ষম তরুণ। বাংলাদেশে গত সাড়ে ৬ বছরে মোটর সাইকেলে প্রায় ১৬ হাজার মানুষ মারা যায়, তাদের ৫৮%-এর বয়স ১৩ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে।
রোড ক্র্যাশে বিপুল পরিমাণ মানুষের মৃত্যু ও পঙ্গুত্বের ঘটনা বিশ্বে অন্যতম জনস্বাস্থ্য সমস্যা, পারিবারিক ও রাষ্ট্রের জাতীয় আয়/অর্থনীতির ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করে, উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত বা বিলম্বিত করে। জাতিসংঘ ‘টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট’ (এসডিজি )-তে সড়ক নিরাপত্তা অন্তর্ভুক্ত করে একাধিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ এবং ২০২০ সালে ১০ বছরে সড়কে অকালমৃত্যু অর্ধেক কমানোর লক্ষ্যে ‘ডিকেড অব অ্যাকশন ফর রোড সেফটি ২০২১-২০৩০’ গ্রহণ করে।
এ বছর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, ২০১১ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী সড়কে মৃত্যুহার ২১% কমেছে, যা আশাব্যঞ্জক হলেও এসডিজি লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক নয়। তাছাড়া, সব অঞ্চল বা দেশে কমার প্রবণতা একইরকম নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ইউরোপিয়ান অঞ্চলে সড়কে অকালমৃত্যু ৩৬%, প্যাসিফিক অঞ্চলে ১৫% ও দক্ষিণ-এশিয়ান অঞ্চলে মাত্র ২% কমেছে।
আরও পড়ুন
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাউথ-ইস্ট এশিয়া রিজিওনাল স্ট্যাটাস অন রোড সেফটি ২০২৪ - এ বলা হয়েছে, প্রতি ১ লাখ মানুষের মধ্যে রোড ক্র্যাশে মৃত্যু নেপাল (২৮.২), থাইল্যান্ড (২৫.৪), মিয়ানমার (১৯.৩), বাংলাদেশ (১৮.৬) ও ভারতে (১৫.৪) বৈশ্বিক মৃত্যুহারের (বিশ্বে ১৫ জন) চাইতে বেশি।
মোট ৬৬% অকালমৃত্যুর শিকার পথচারী, বাইসাইকেল- মোটর সাইকেল ও তিন চাকার যানবাহন ব্যবহারকারী। ভুটান, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, মালদ্বীপ, মায়ানমার, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড ও পূর্ব-তিমুরে ২০১০-এর চেয়ে ২০২১ সালে সড়কে মৃত্যুহার কমলেও বাংলাদেশ ও নেপালে বেড়েছে। দেশগুলোতে রোড ক্র্যাশ ও এ কারণে মৃত্যুসংখ্যার তথ্য সংগ্রহ প্রক্রিয়ায় ঘাটতি থাকার কারণে বিভিন্ন সংস্থার তথ্যে তারতম্য লক্ষ্য করা যায়।
এ অঞ্চলের দেশগুলোতে প্রয়োজনীয় দক্ষতা, অর্থ ও জনবলের ঘাটতি এবং শক্তিশালী সংস্থা না থাকার কারণে সড়ক নিরাপত্তার জন্য পূর্ণাঙ্গ উদ্যোগ, শক্তিশালী নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন এবং সুস্পষ্ট কার্যক্রমের অভাব রয়েছে। তাই রাষ্ট্রসমূহে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো শক্তিশালী করা, সড়ক অবকাঠামোর ডিজাইন ও নির্মাণ নিরাপদ করা, যানবাহনের মান মনিটর করা, চালকদের দক্ষতা সঠিকভাবে যাচাই করা, সংশ্লিষ্ট আইনের বাস্তবায়ন ও রোড ক্র্যাশ পরবর্তী আহতদের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ সড়ক ব্যবহার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি ইত্যাদি সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে।
বাংলাদেশে বিচ্ছিন্নভাবে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ আইন নীতি গ্রহণ করছে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) একজন পরিচালকের মাধ্যমে সড়ক নিরাপত্তার কয়েকটি কার্যক্রম তদারকি করছে। মূলত যানবাহন ও চালকদের নিবন্ধন প্রদান ও নবায়ন, ফিটনেস সার্টিকিফেট প্রদান, সড়ক পরিবহন ব্যবস্থাপনা ও এ সংক্রান্ত আইন বাস্তবায়নেই বিআরটিএ’র কার্যক্রম সীমিত। যানবাহন ও চালকের লাইসেন্স প্রদান প্রক্রিয়া স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও দুর্নীতিমুক্ত করা গেলে রোড ক্র্যাশের ঝুঁকি ও মৃত্যু অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) সারাদেশে মহাসড়ক ও জেলা সড়ক, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল সংস্থা (এলজিইডি) গ্রামীণ সড়ক এবং বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ সেতু ও সংশ্লিষ্ট সড়ক নির্মাণ করে। নির্মাণের সময় সড়ক নিরাপত্তার বিষয়গুলো সঠিকভাবে দেখা হয় না। নির্মাণত্রুটির কারণে অনেক সড়ক যান চলাচলে অনিরাপদ হয়ে উঠে। শহরের যাতায়াত ব্যবস্থার সমন্বয় করার জন্য ঢাকা ট্রান্সপোর্ট কোঅর্ডিনেশন অথরিটি (ডিটিসিএ) প্রতিষ্ঠা করলেও শহরের যানবাহন সমন্বয় করা যায়নি। এটি করা সম্ভব হলে মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নতি হতো, যা পরোক্ষভাবে যাতায়াত ব্যবস্থাকে নিরাপদ করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখত।
মহাসড়কের ক্ষেত্রে হাইওয়ে পুলিশ এবং শহরের ক্ষেত্রে মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ সড়ক চালক ও যানবাহনের লাইসেন্স, যানবাহনের ফিটনেস, গতি নিয়ন্ত্রণসহ বিদ্যমান আইন বাস্তবায়নের মাধ্যমে সড়কে শৃঙ্খলা রক্ষায়ও ভূমিকা রাখছে।
সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদসমূহ নিজ নিজ এলাকায় সড়ক নিরাপত্তায় ভূমিকা রাখতে পারে। শহরে ফুটপাত/সড়ক নির্মাণ ও মেরামত, ট্রাফিক সিগনাল সিস্টেম উন্নত, জেব্রা ক্রসিং অঙ্কন/নির্মাণসহ পথচারীদের সড়ক পারাপার নিরাপদ করার কাজ করে সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভা।
সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে ঢাকায় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এবং বিভাগীয় শহরে অনুরূপ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের এই বিষয়ে সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই। তবে সড়ক ও ফুটপাতে কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে না, নির্মাণসামগ্রী (রড, বালু, সিমেন্ট, ইট, সুরকি) ও সহায়ক সামগ্রী (বাঁশ, কাঠ ইত্যাদি) পথচারী ও গাড়ি চলাচলের পথে রাখবে না–ভবন নির্মাণের অনুমোদন প্রদানের শর্তাবলীতে এমন বিষয়গুলো যুক্ত করতে পারে।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর কন্যা ব্যারিস্টার জায়মা রহমান বাংলাদেশের সড়ক অব্যবস্থাপনা নিয়ে একটি দীর্ঘ পোস্ট তার ভেরিফায়েড পেজে শেয়ার করেছেন। যুক্তরাজ্যে দীর্ঘদিন থাকার সুবাদে তিনি সেখান সড়ক ব্যবস্থাপনা প্রত্যক্ষ করেছেন। সে অভিজ্ঞতা থেকে তিনি কিছু মৌলিক সমস্যা চিহ্নিত করেছেন, এগুলো ধরে সরকার যদি কাজ শুরু করে তবে সড়কসমূহ নিরাপদ করার কাজে অগ্রগতি সাধিত হবে।
বাংলাদেশে সড়কসমূহ নিরাপদ করার ক্ষেত্রে অনেক সমস্যা রয়েছে। তথ্যের ঘাটতি ও সঠিক তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে সমস্যার সমাধান, সড়ক ডিজাইন ও নির্মাণ নিরাপদ করা, যান ও চালকের লাইসেন্স ও নবায়ন সঠিকভাবে যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রদান, মানহীন যান অপসারণ, যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ, সড়কে মোটর সাইকেল ও তিন চাকার ব্যাটারি রিকশা নিয়ন্ত্রণ, মোটর সাইকেলে মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার, সড়ক নিরাপত্তায় স্বতন্ত্র আইন প্রণয়ন, গতিসীমা নিয়ন্ত্রণ নির্দেশিকা বাস্তবায়ন, সব সরকারি সংস্থার সমন্বয় নিশ্চিত করা গেলে সড়কে অকালমৃত্যু অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহ কোনো বিষয়েই নিজ প্রতিষ্ঠানের কর্তৃত্ব ছাড়তে চায় না, অন্য প্রতিষ্ঠানের কর্তৃত্ব মানতে চায় না। তাই যে কোনো বিষয়ে সমন্বয় একটি বড় প্রতিবন্ধকতা। এখন দেখা যাক, সরকার কিভাবে সড়ক নিরাপত্তার কাজগুলো সমন্বয় করে।
তথ্যঋণ:
১। https://www.dhakapost.com/country/475141
২। https://www.dhakapost.com/country/475143
৩। https://www.dhakapost.com/country/475161
৪। https://www.dhakapost.com/national/475067
৫। https://www.dhakapost.com/country/473024
৬। https://www.dhakapost.com/country/473029
৭। https://www.dhakapost.com/country/473089
৮। https://www.dhakapost.com/country/473696
৯। https://toolkit.irap.org/management/safe-system-approach/
১০। https://www.who.int/news/item/20-07-2026-road-deaths-fall-by-21--globally-but-stronger-action-is-needed-to-save-lives
১১। https://www.dhakapost.com/national/473199
১২। https://sdgs.un.org/goals
১৩। https://www.who.int/publications/m/item/global-plan-for-the-decade-of-action-for-road-safety-2021-2030
১৪। https://www.who.int/publications/i/item/9789290211730
আমিনুল ইসলাম সুজন : ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক ও নীতি বিশ্লেষক; কোষাধ্যক্ষ, পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন
[email protected]
