বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ২৫ বৈশাখ ১২৬৮ বঙ্গাব্দ। তার জন্মের প্রায় চার দশক পরে ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ বঙ্গাব্দে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম জন্মগ্রহণ করেন। বয়সের ব্যবধান ৩৮ বছর হলেও বাংলা সাহিত্য ও সংগীতের ইতিহাসে রবীন্দ্রনাথ এবং নজরুল দুই উজ্জ্বল নক্ষত্র। বাংলা সংস্কৃতির এমন কোনো শাখা নেই যেখানে তাদের বিচরণ নেই।
বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী হিসেবে তারা ছিলেন সমানভাবে সক্রিয়। হাজারও গান, কবিতা ও সাহিত্যকর্মের অসামান্য অবদানের মাধ্যমে তারা বাঙালির হৃদয়ে চিরজীবন্ত। দুইজনেই গান লিখেছেন, সুর সৃষ্টি করেছেন, অভিনয় করেছেন, পত্রিকা সম্পাদনা করেছেন এবং সমাজ ও মানুষের কল্যাণ নিয়ে নিরন্তর চিন্তা করেছেন। অনেকে দুইজনের মধ্যে তুলনা করেন, কিন্তু তাদের মধ্যে তুলনা চলে না, তারা নিজগুণে স্বীয়।
ইউরোপের বাইরে রবীন্দ্রনাথই সর্বপ্রথম কোনো কবি যিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন। রবীন্দ্রনাথ ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হয়ে যখন বিশ্ব দরবারে প্রতিষ্ঠিত তখন নজরুলের বয়স মাত্র ১৪ বছর, তারও ছয় বছর পরে ১৯১৯-২০ সালের দিকে সাহিত্য জগতে নজরুলের আগমন।
রবীন্দ্রনাথের গানের সংখ্যার কথা বলতে গিয়ে অধ্যাপিকা সন্জীদা খাতুন তার ‘রবীন্দ্রসংগীতের ভাবসম্পদ’ গ্রন্থে লিখেছেন “গীতবিতানের সূচিপত্রে উল্লিখিত গানের প্রথম পঙ্ক্তি গণনা ক’রে ২২১১টি গানের নাম পাওয়া যায়।” গীতবিতান আর্কাইভ-২-এ ডা. পূর্ণেন্দু বিকাশ সরকার উল্লেখ করেছেন যে, রবীন্দ্রনাথ ২২১৩টি গান রচনা করেছেন। ইন্টারনেট খুঁজলে দেখা যায় যে বহু জায়গায় রবীন্দ্রনাথের ২২৩০টি গানের কথা বলা হয়েছে।
নজরুলের গানের সংখ্যা প্রসঙ্গে সদ্য প্রকাশিত ‘নজরুল এবং জয় শ্রীচরণ ভরসা’ লেখায় অরিজিৎ চৌধুরী উল্লেখ করেছেন, ‘নজরুলের প্রকৃত গানের সংখ্যা নিয়ে গবেষকদের মধ্যে কিছুটা মতভেদ থাকলেও, বর্তমানে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য সংখ্যাটি হলো ৩,১১৭টি। বিগত কয়েক দশক ধরে বিভিন্ন সংকলন ও গবেষণার পর এইচএমভি এবং নজরুল ইন্সটিটিউট এই সংখ্যাটি নিশ্চিত করেছে। তবে অনেকে মনে করেন যে, তার অনেক গান হারিয়ে গেছে বা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি, যার ফলে মোট গানের সংখ্যা অবশ্যই ৪,০০০-এর বেশি হবে।’
সংখ্যা বিচারে নজরুলের গান বেশি। এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে যে, নজরুল সাহিত্য চর্চা করতে পেরেছিলেন মাত্র ২৩ বছর, যা রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য চর্চার সময়ের প্রায় তিন ভাগের একভাগ এবং এই অল্প সময়েও নজরুল যে অবদান রেখে গেছেন তা স্মরণে থাকবে যুগ যুগ ধরে। এখানে উল্লেখ্য, রবীন্দ্রনাথ তার রচিত সব গানের সুর নিজে করেছেন, কিন্তু নজরুলের সব গানের সুর তিনি নিজে করেননি। বিভিন্ন লেখায় পাওয়া যায় যে, কমল দাশগুপ্ত একাই নজরুলের ৪০০ গানের সুর করেছেন।
রবীন্দ্রনাথ তার লেখা গানগুলো বিভিন্ন পর্যায়ে ভাগ করেছেন, যেমন পূজা, স্বদেশ, প্রেম, প্রকৃতি, বিচিত্র, আনুষ্ঠানিক। কিন্তু নজরুল তেমন কোনো পর্যায় ভিত্তিক বিভাগ করেছেন মর্মে কোথাও উল্লেখ পাওয়া যায়নি। তবে অরিজিৎ চৌধুরী লিখেছেন, ‘প্রাপ্ত তথ্যাদির ভিত্তিতে নজরুলের গানগুলোকে সংখ্যাভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাস করলে মোটামুটিভাবে এরকম একটি চিত্র পাওয়া যায় (যদিও তা নিয়ে মতভেদ থাকতে পারে): প্রায় ১,৬০০টি ইসলামী ও সনাতনী ভক্তিগীতি; প্রায় ৮০০টি প্রেম ও বিরহের গজল; রাগপ্রধান প্রায় ৩০০টি; প্রায় ৪০০টি প্রকৃতি ও দেশাত্মবোধক এবং অন্যান্য।’
মৌলিক পার্থক্য বিবেচনায় আবদুল আযীয আল আমান ‘নজরুল সংগীত: পটভূমি ও পরিচয়’-তে লিখেছেন ‘রবীন্দ্র সংগীতে সুর নয় কথাই মুখ্য, নজরুল সংগীতে সুর প্রধান কথা গৌণ।’ ভিন্নভাবনায় অধ্যাপিকা সন্জীদা খাতুন তার ‘রবীন্দ্রসংগীতের ভাবসম্পদ’ গ্রন্থে রবীন্দ্রসংগীতের ‘বাণীপ্রধান গান’ ও ‘সুরপ্রধান গান’ নিয়ে দুটি অধ্যায় লিখেছেন।
আবদুল আযীয আল আমান আরও লিখেছেন, “সুরসৃষ্টি এবং সুরসংগ্রহের ব্যাপারে উভয় কবির মৌলিক পার্থক্যটি সহজেই চোখে পড়ে। রবীন্দ্রনাথের সুরের মূলভিত্তিভূমি হ’ল ধ্রুপদ, নজরুলের হ’ল খেয়াল-ঠুংরী ইত্যাদি।”
এখানে উল্লেখ্য, রবীন্দ্রনাথ তার সৃষ্ট গানের জন্য সাতটি প্রধান নতুন তাল সৃষ্টি করেছিলেন, যেমন ষষ্ঠী (মম চিত্তে নিতি নৃত্যে), রূপকড়া (জীবনে যত পূজা হল না সারা)। অন্যদিকে নজরুল সৃষ্টি করেছিলেন ১৮/১৯টি নতুন রাগ, যেমন শিব-সরস্বতী, অরুণ ভৈরব, পটমঞ্জরি ইত্যাদি। আবার তার সৃষ্ট ১১টি তালের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো প্রিয়াছন্দ, নবনন্দন, মনিমালা ইত্যাদি।
নজরুলসৃষ্ট রাগের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গান হলো ‘জয় ব্রহ্ম বিদ্যা শিব-সরস্বতী’ গানটির রাগ ‘শিব-সরস্বতী’, ‘জাগো অরুণ ভৈরব জাগো হে শিব-ধ্যানী’ গানটি ‘অরুণ ভৈরব’ রাগে। আর নজরুলসৃষ্ট প্রিয়াছন্দ তালে তার ‘মহুয়া বনে দোলে পাপিয়া’ ভীষণ জনপ্রিয়।
শ্রী অমল মুখোপাধ্যায় ‘রবীন্দ্র সংগীত পরিক্রমা’ গ্রন্থের ‘রবীন্দ্রসংগীতে ঋতু-প্রকৃতি’ অধ্যায়ে লিখেছেন যে, রবীন্দ্রনাথের প্রথম ৪০ বছরে রচিত ঋতুসংগীতের সংখ্যা খুবই কম যদিও এই সময়ই শিলাইদহ-শাহাজাদপুর-পতিসরে প্রকৃতির সাথে তার প্রথম অন্তরের যোগ স্থাপিত হয়েছিল। কিন্তু তার জীবনের শেষ ৪০ বছরে শান্তিনিকেতনের প্রাকৃতিক পরিবেশে তিনি অধিকাংশ ঋতুসংগীতগুলো রচনা করেন।
নজরুল সাহিত্য চর্চা করতে পেরেছিলেন মাত্র ২৩ বছর, যা রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য চর্চার সময়ের প্রায় তিন ভাগের একভাগ এবং এই অল্প সময়েও নজরুল যে অবদান রেখে গেছেন তা স্মরণে থাকবে যুগ যুগ ধরে। এখানে উল্লেখ্য, রবীন্দ্রনাথ তার রচিত সব গানের সুর নিজে করেছেন, কিন্তু নজরুলের সব গানের সুর তিনি নিজে করেননি। বিভিন্ন লেখায় পাওয়া যায় যে, কমল দাশগুপ্ত একাই নজরুলের ৪০০ গানের সুর করেছেন।
তার রচিত প্রকৃতি-সংগীতের সংখ্যা ২৮৩টি এবং কোনো ঋতুই তার রচনা থেকে বাদ পড়েনি। তবে অধিকাংশ কবির মত হলো, তারও প্রিয় ঋতু ছিল বর্ষা। তিনি বর্ষা ঋতুতে সর্বাধিক ১১৫টি রচনা করেন যার ১১০টি শান্তিনিকেতনের প্রাকৃতিক পরিবেশে থাকার সময় রচিত হয়।
রবীন্দ্রনাথের রচিত ঋতুসংগীতের প্রায় চারভাগের তিনভাগই বর্ষা ও বসন্ত ঋতুর গান। রিমঝিম শব্দ শুনে কবি বর্ষাকে স্বাগতম জানাতে লিখলেন ‘আবার এসেছে আষাঢ়’। আষাঢ়ের মেঘমেদুর আকাশে বিদ্যুতের দীপ্ত ঝলক কবির মনে জাগিয়ে তুলল সেই অমর পঙ্ক্তি, ‘বজ্রমানিক দিয়ে গাঁথা আষাঢ় তোমার মালা’। ঋতুরাজের আগমনে প্রকৃতি নতুন সাজে সেজে উঠলে কবি লিখলেন ‘আজি বসন্ত জাগ্রত দ্বারে।”
রবীন্দ্রনাথের কাছে প্রেম শুধু দুটি মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তার অনেক গানে মানবপ্রেম, ঈশ্বরপ্রেম এবং প্রকৃতিপ্রেম মিলেমিশে একাকার হয়ে আছে। আবার প্রেমের গানে প্রেম ও প্রকৃতি একে অপরের পরিপূরক হয়ে উঠেছে, প্রকৃতি ও ঋতু যেন প্রেমেরই সহচর। তার ‘প্রেম ও প্রকৃতি’ পর্যায়ের গানগুলো প্রকৃতি ও মানুষকে এক ও অভিন্ন সত্তা হিসাবে দেখা যায়, যেমন ‘দুজনে দেখা হল মধুযামিনী রে’ (এই পর্যায়ে রয়েছে ১০১টি গান)।
‘প্রেম’ পর্যায়ের ৩৯৫টি গানের কোথাও রয়েছে প্রথম প্রেমের আকুলতা—‘আমি নিশিদিন তোমায় ভালোবাসি’, কোথাও বিরহ ও বেদনার গভীর সুর—‘দিবস রজনী আমি যেন কার আশায় আশায় থাকি’, আবার কোথাও মিলন ও আনন্দের উচ্ছ্বাস—‘বনে এমন ফুল ফুটেছে’।
প্রেমের বহুমাত্রিক অনুভূতি রবীন্দ্রনাথের গানে এভাবেই বিচিত্র রূপে ধরা দিয়েছে। রবীন্দ্রনাথের কিছু গানে একই সাথে ঈশ্বর ও মানব প্রেমের অনুভূতি প্রকাশিত হয়েছে, যেমন ‘তোমারেই করিয়াছি জীবনের ধ্রুবতারা’।
নজরুল বিদ্রোহী কবি হিসেবে পরিচিতি লাভ করলেও তার হৃদয়ের গভীরে যে প্রকৃতি ও প্রেমের ধারা প্রবাহিত হতো, তা তার সাহিত্য ও গানে প্রতিফলিত হয়েছে। তার সৃষ্টিতে গাছ, ফুল, পাখী, ঋতু কিছুই বাদ পড়েনি। আমাদের চারপাশের চেনা ফুল দিয়ে তিনি গেঁথেছেন তার অনেক কবিতা ও গানের মালা।
নজরুল যে সংখ্যক ফুলের নাম ব্যবহার করেছেন তা অন্য কোনো কবি বা সাহিত্যিক করেছেন বলে মনে হয় না। প্রকৃতির ঋতু পরিবর্তন মানুষের মনেও পরিবর্তনের যে ছাপ ফেলে, নজরুল তার গানে তা সুন্দর ভাবে প্রকাশ করেছেন। তার গানে ছয় ঋতুর কোনোটিই বাদ পড়েনি।
তবে নজরুলের বর্ষা ও বসন্তের গান বাংলা সংগীতে এক অনন্য মাত্রা যোগ করেছে। তার বর্ষার গানে মেঘের গর্জন, বৃষ্টির উচ্ছ্বাস ও বিরহের সুর যেমন মূর্ত হয়ে উঠেছে (মেঘ মেদুর বরষায় কোথা তুমি), তেমনি বসন্তের গানে ফুটে উঠেছে ফুলের সৌরভ, নবজাগরণের আনন্দ এবং প্রেমের উচ্ছল বন্দনা (আসে বসন্ত ফুলবনে সাজে বনভূমি সুন্দরী)।
করুণাময় গোস্বামী তার ‘নজরুলগীতি প্রসঙ্গ’ গ্রন্থের ‘প্রকৃতি বিষয়ক গান’ অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন যে, নজরুল বিপুল সংখ্যক বর্ষার গান রচনা করেছেন, যা শুধু সংখ্যায় নয়, বিষয়বৈচিত্র্য, রাগ ও সুরের দিক থেকেও অত্যন্ত সমৃদ্ধ। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্ষার মতো বসন্ত ঋতু নিয়েও নজরুল অসংখ্য স্মরণীয় গান রচনা করেছেন, যা বাংলা সংগীতে একটি স্বতন্ত্র ভাণ্ডার সৃষ্টি করেছে।
নজরুল বিদ্রোহী কবি হিসেবে পরিচিতি লাভ করলেও তার হৃদয়ের গভীরে যে প্রকৃতি ও প্রেমের ধারা প্রবাহিত হতো, তা তার সাহিত্য ও গানে প্রতিফলিত হয়েছে। তার সৃষ্টিতে গাছ, ফুল, পাখী, ঋতু কিছুই বাদ পড়েনি। আমাদের চারপাশের চেনা ফুল দিয়ে তিনি গেঁথেছেন তার অনেক কবিতা ও গানের মালা।
নজরুলের গানে প্রেম, প্রকৃতি বিদ্রোহ সব মিশে একাকার হয়ে আছে। তাই বিদ্রোহী কবিতার ‘মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আর হাতে রণতূর্য’ পঙ্ক্তিতে আমরা তার প্রেমিক ও বিদ্রোহী সত্তাকে একই সঙ্গে দেখতে পাই। তার জীবনে প্রেম এসেছে অনেকবার, এজন্য তার গানে আমরা দেখতে পাই বিরহ-বেদনা-আনন্দের সুর।
বিচ্ছেদের ষোল বছর পর প্রথম স্ত্রী নার্গিসের চিঠির উত্তরে কবি লিখেছিলেন, ‘যারে হাত দিয়ে মালা দিতে পার নাই, কেন মনে রাখ তারে।’ তার গানে সমর্পিত প্রেমিকের মতো প্রথম প্রেমের গভীর আকুলতাও প্রকাশ পেয়েছে ‘তোমারেই আমি বাসিয়াছি ভালো শতরূপে শতবার’ গানে। তার ‘মনে পড়ে আজ সে কোন জনমে বিদায় সন্ধ্যাবেলা’ অথবা ‘আমার আপনার চেয়ে আপন যে জন’ এরকম অনেক গানে বিরহ সুগভীর মাত্রা পেয়েছে।
নজরুলের গানে ঈশ্বরপ্রেম ধর্মীয় গণ্ডি অতিক্রম করে মানবপ্রেম ও স্রষ্টার প্রতি গভীর আত্মসমর্পণের রূপ লাভ করেছে। তার ইসলামি গান ‘তৌহিদেরি মুর্শিদ আমার মোহাম্মদের নাম’ এবং সুফি গান ‘খোদার প্রেমের শরাব পিয়ে’ এগুলোয় স্রষ্টার প্রতি নিঃশর্ত ভালোবাসা ও আত্মনিবেদনের প্রকাশ ঘটেছে।
একইভাবে তিনি মাতৃভক্তিতে অসংখ্য শ্যামাসংগীত রচনা করেছেন, যেমন ‘আমার শ্যামা মায়ের কোলে’। নজরুলের দৃষ্টিতে স্রষ্টা সর্বধর্মের ঊর্ধ্বে এক সর্বজনীন মহাশক্তি, তাই তিনি গেয়েছেন, ‘মন্দিরে মসজিদে গির্জায়, পূজিলে ব্রহ্মে সমশ্রদ্ধায়’। এই বাণীর মধ্য দিয়ে তার অসাম্প্রদায়িক, মানবতাবাদী ও সর্বজনীন ধর্মচেতনার পরিচয় সুস্পষ্টভাবে প্রকাশিত হয়েছে।
পরিসমাপ্তিতে অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর লেখার একটি উক্তি দিয়ে এই ক্ষুদ্র প্রয়াসের সমাপ্তি টানছি, ‘প্রাণ ও গানের কথা রবীন্দ্রনাথ বারবার বলেছেন, বলেছেন নজরুলও; গান না থাকলে বুঝতে হবে প্রাণ নেই। আজকের পৃথিবীতে ধ্বনি আছে বহু, আছে হুঙ্কার ও আর্তনাদ, অভাব গানের। গানের ফেরত আসা চাই; কিন্তু সে তো আসবে না প্রাণ যদি শক্তিশালী না হয়।’
জয়তু রবি-নজরুল। বাংলা সাহিত্য, সংগীত ও চেতনার দুই মহান দিকপালের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা। তাদের সৃষ্টি, মানবতা, সাম্য ও প্রেমের বাণী যুগে যুগে আমাদের জন্য পাথেয়।
তথ্যঋণ:
১। অমল মুখোপাধ্যায় (১৯৮১), রবীন্দ্র সংগীত পরিক্রমা, করুণা প্রকাশনী, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত;
২। আবদুল আযীয আল আমান (১৯৮১), নজরুল-গীতিঃ অখণ্ড, হরফ প্রকাশনী এ-১২৬ কলেজ স্ট্রীট মার্কেট, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত;
৩। অরিজিৎ চৌধুরী (২০২৬), নজরুল এবং জয় শ্রীচরণ ভরসা, সাতকাহনবিডি.কম, মে ২৩, ২০২৬;
৪। করুণাময় গোস্বামী (১৯৭৮), নজরুল গীতি প্রসঙ্গ, বাংলা একাডেমী , ঢাকা, বাংলাদেশ;
৫। পূর্ণেন্দু বিকাশ সরকার (২০০৬), গীতবিতান আর্কাইভ-২, সারেগামা, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত;
৬। সন্জীদা খাতুন(১৯৮১), রবীন্দ্রসংগীতের ভাবসম্পদ, মুক্তধারা, ঢাকা, বাংলাদেশ;
৭। সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী (২০১৯ ), রবীন্দ্র-নজরুল সম্পর্ক এবং তার পরে, কালি ও কলম, অনলাইন;
৮। ইন্টারনেট
ড. গোপাল কৃষ্ণ বোস : সংগীতশিল্পী ও গবেষক
