বিজ্ঞাপন

হিমালয়ের ডেব্রি ফ্লো ও গ্লেসিয়ার লেক আউটবার্স্ট

নেপালে আকস্মিক বন্যা ও দক্ষিণ এশিয়ার প্রলয়ঙ্করী জলবায়ু ঝুঁকি

নেপালে আকস্মিক বন্যা ও দক্ষিণ এশিয়ার প্রলয়ঙ্করী জলবায়ু ঝুঁকি

বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতমালা হিমালয়কে বলা হয় এশিয়ার ‘ওয়াটার টাওয়ার’ বা ‘তৃতীয় মেরু’, যা শত শত বছর ধরে কোটি কোটি মানুষের সুপেয় পানির প্রাথমিক উৎস হিসেবে কাজ করে আসছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে অনিয়ন্ত্রিত বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও চরম বায়ুমণ্ডলীয় পরিবর্তনের কারণে এই প্রাকৃতিক ভারসাম্য দ্রুত বিনষ্ট হচ্ছে।

পার্বত্য অঞ্চলের উচ্চতায় বরফ ও পারমাফ্রস্ট গলে ক্ষয়প্রাপ্ত হওয়ার ফলে আকস্মিক বন্যা, গ্লেসিয়ার লেক আউটবার্স্ট এবং প্রলয়ঙ্করী ‘ডেব্রি ফ্লো’-এর মতো নতুন ও জটিল ভূতাত্ত্বিক দুর্যোগের পরিমাণ বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। হিমালয়ের কোলে অবস্থিত নেপাল এখন এসব জীবনঘাতী প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে, যা ভূ-রাজনৈতিক সীমানা ছাড়িয়ে নিচের ভাটি অঞ্চলগুলোতেও মারাত্মক হুমকির সৃষ্টি করছে।

বর্তমান সময়ে হিমালয় অঞ্চলের পরিবেশগত পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটজনক পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে। নেপালের উত্তর সীমান্তে প্রায় পাঁচ হাজার ২০০ মিটারেরও বেশি উচ্চতায় অবস্থিত হিমবাহগুলোতে জমতে থাকা হিমবাহী মাটি ও বরফ যা ‘পারমাফ্রস্ট’ নামে পরিচিত, তা দ্রুত গলে গিয়ে ভূ-কাঠামোর স্থিতিশীলতা নষ্ট করছে।

এর সাম্প্রতিকতম ও ভয়াবহ উদাহরণ তৈরি হয়েছে ২০২৬ সালের আগস্ট মাসে, যখন নেপাল-চীন সীমান্তের লেন্দে খোলা ও ত্রিশূলী নদী অববাহিকায় প্রায় ৬১০ মিটার চওড়া প্রকাণ্ড এক হিমবাহ ধস ঘটে মহাকর্ষীয় বেগে এক হাজার মিটারেরও বেশি নিচে আছড়ে পড়ে। এর মাধ্যমে তৈরি হওয়া সুবিশাল চূর্ণবিচূর্ণ পাথর, কাদা ও বরফের স্তূপ একটি অস্থায়ী কাদা-পাথরের বাঁধ তৈরি করে এবং পরবর্তীতে প্রলয়ঙ্করী ডেব্রি ফ্লো হিসেবে ১০০ কিলোমিটারেরও বেশি পথ অতিক্রম করে বিশাল ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। এর আগে ২০২৪ সালের আগস্ট মাসেও সোলুখুম্বু জেলার থামে গ্রামে দুটি বরফ হ্রদ পরস্পর ফেটে একইভাবে পুরো গ্রাম ধ্বংস করে দিয়েছিল।

গবেষণা ও উপাত্ত পর্যালোচনা করলে হিমালয় অঞ্চলের গলনের এই দ্রুততা ও তার ভয়াবহ পরিসংখ্যান স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে। আন্তর্জাতিক পার্বত্য গবেষণা সংস্থা ইসিমোড-এর হাই-ম্যাপ প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, ২০১১ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে হিন্দু কুশ-হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহ গলার গতি পূর্ববর্তী দশকের তুলনায় প্রায় ৬৩ শতাংশ বেড়েছে।

ইন্টারগভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ এবং বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা-এর সতর্কবার্তা নির্দেশ করে যে, বৈশ্বিক তাপমাত্রা যদি শিল্পায়নের পূর্ববর্তী সময়ের চেয়ে ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমাবদ্ধ রাখা সম্ভব হয়, তবুও চলতি শতাব্দী শেষ হওয়ার আগেই হিমালয়ের অন্তত এক-তৃতীয়াংশ হিমবাহ পুরোপুরি বিলীন হয়ে যাবে।

বৈশ্বিক তাপমাত্রা যদি শিল্পায়নের পূর্ববর্তী সময়ের চেয়ে ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমাবদ্ধ রাখা সম্ভব হয়, তবুও চলতি শতাব্দী শেষ হওয়ার আগেই হিমালয়ের অন্তত এক-তৃতীয়াংশ হিমবাহ পুরোপুরি বিলীন হয়ে যাবে।

২০২৬ সালের সাম্প্রতিকতম হিমবাহ ধস ও ডেব্রি ফ্লোতে প্রায় ৫.২ মাত্রার ভূমিকম্পতুল্য যান্ত্রিক শক্তি উৎপন্ন হয় এবং এতে কেবল নেপাতেই অসংখ্য মানুষের প্রাণহানি ঘটে ও হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ হয়, যা কাঠমান্ডুর তথ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রতিনিয়ত উঠে আসছে।

এই আকস্মিক ও ধ্বংসাত্মক বিপর্যয়গুলোর নেপথ্যে মূলত প্রাকৃতিক ও ভূতাত্ত্বিক একাধিক জটিল কারণ সমন্বিতভাবে কাজ করে। যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. খালেকুজ্জামান-এর ভূতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উঁচুতে থাকা ‘পারমাফ্রস্ট’ গলে গেলে ভেতরের আর্দ্র জলীয় উপাদান পিচ্ছিল হয়ে পড়ে। ফলে পাহাড়ের গায়ে হাজার বছর ধরে আটকে থাকা বরফ ও পাথরের বিশাল কাঠামো আলগা হয়ে ভয়াবহ ধসের জন্ম দেয়।

পাহাড় থেকে মহাকর্ষীয় টানে তীব্র গতিতে নেমে আসা বরফ ও পাথর নদী বা উপত্যকাকে সাময়িকভাবে অবরুদ্ধ করে কৃত্রিম হ্রদ বা বাঁধ তৈরি করে। সেই বাঁধের পেছনে হাজার হাজার কোটি ঘনমিটার পানির প্রবল চাপ তৈরি হলে একপর্যায়ে তা বিস্ফোরণের ন্যায় ভেঙে পড়ে এবং বরফ, মাটি, পাথর ও কাদার ঘন তরল মিশ্রণ সৃষ্টি করে। এই ঘন মিশ্রণ নদীর সাধারণ পানির তুলনায় বহুগুণ বেশি ভারী ও ধ্বংসাত্মক শক্তিতে রূপ নেয়, যা ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে নেমে এসে সেতু, জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র ও লোকালয় নিমেষেই ধূলিসাৎ করে দেয়।

নেপালে ঘটা এই পাহাড়ি দুর্যোগ কেবল তাদের নিজস্ব সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং নদীর স্বাভাবিক গতিপথে গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনার ভাটি অঞ্চল হিসেবে বাংলাদেশে মারাত্মক জলবায়ু সংকট তৈরি করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের জলবায়ু ও ভৌগোলিক নিরাপত্তা উজান অঞ্চলের হাইড্রোলজিক্যাল পরিস্থিতির ওপর পুরোপুরি নির্ভর করে।

যৌথ নদী কমিশনের অফিশিয়াল তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশের মোট ৫৭টি আন্তঃসীমান্ত নদীর মধ্যে ৫৪টি ভারত এবং ৩টি মিয়ানমার থেকে এসেছে এবং দেশের উপরিভাগের মোট পানির প্রায় ৯২ শতাংশই সীমান্ত অতিক্রম করে ভেতরে ঢোকে।

বিশ্বব্যাংকের ‘ক্লাইমেট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট রিপোর্ট’-এর তথ্যেও দেখা যায়, নেপাল বা উজানের পার্বত্য এলাকায় যখন ডেব্রি ফ্লো বা বরফ হ্রদ ফেটে আকস্মিক বন্যা হয়, তখন অতিদ্রুত প্লাবন তৈরি হয়ে তিস্তা, গঙ্গা ও সুরমা-কুশিয়ারা নদীর মাধ্যমে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে বাংলাদেশের সিলেট, সুনামগঞ্জ, ফেনী ও তিস্তা অববাহিকার মতো অঞ্চলগুলোকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। একই নদীগুলো আবার শুষ্ক মৌসুমে পানি প্রত্যাহার ও অনাবৃষ্টির ফলে শুকিয়ে বালুচরে পরিণত হয়, যা দেশের সামগ্রিক খাদ্য ও ভৌত নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

এই অভূতপূর্ব সংকট মোকাবিলায় প্রথাগত অবকাঠামোগত বা ভারী নদী শাসনের চিন্তাধারা পরিবর্তন করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নদীতে ঢালাওভাবে কংক্রিটের বাঁধ নির্মাণ বা নদী বাঁধানোর মতো ভারী প্রকৌশল থেকে সরে এসে প্রকৃতিভিত্তিক সমাধান গ্রহণ করা প্রয়োজন, যাতে নদী তার নিজস্ব স্বাভাবিক গতিতে প্রবাহিত হতে পারে।

সরকার ও জলবায়ু নীতি নির্ধারকদের উদ্যোগ হিসেবে বাংলাদেশের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ কর্তৃক প্রণীত পঞ্চবার্ষিক কৌশলগত কাঠামো (২০২৬-২০৩১), ডেল্টা প্ল্যান ২১০০, এবং এনডিসি ৩.০-এ জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামো তৈরি ও নদী পুনরুদ্ধারের কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে।

তাছাড়া সংবিধানের ১৮-ক এর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ ও পরিবেশ রক্ষা করা রাষ্ট্রীয় অঙ্গীকার হিসেবে বিবেচিত। তবে একক কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ পদক্ষেপ উজানের এই দুর্যোগ ঠেকাতে যথেষ্ট নয়।

বাংলাদেশকে এই ধরনের আকস্মিক বন্যার হাত থেকে বাঁচাতে চারটি সমন্বিত কৌশলগত পদক্ষেপ দ্রুত বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত জরুরি।

প্রথমত, উজান-ভাটির তথ্য বিনিময় ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার মাধ্যমে হিমালয়ের হিমবাহ, হিমবাহ-হ্রদ, তুষার, বৃষ্টিপাত ও নদীর পানির হাইড্রোলজিক্যাল ডেটা দ্রুত বাংলাদেশসহ ভাটির দেশগুলোর কাছে পৌঁছানোর কার্যকরী ব্যবস্থা নিতে হবে।

দ্বিতীয়ত, স্যাটেলাইট প্রযুক্তি, রিমোট সেন্সিং এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক আধুনিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ হিমবাহ-হ্রদ ও ভূমিধসপ্রবণ অঞ্চলগুলো নিয়মিত নজরদারিতে রাখা আবশ্যক।

নেপালের হিমবাহ গলন, আকস্মিক বন্যা কিংবা ডেব্রি ফ্লো কোনো একক দেশের আঞ্চলিক দুর্যোগ নয়, বরং এটি সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার জন্য বড় ধরনের জলবায়ু সংকেত। বৈশ্বিক উষ্ণায়নের গতি ত্বরান্বিত হওয়ার এই সময়ে প্রথাগত একক সীমানাভিত্তিক চিন্তা ত্যাগ করে বিজ্ঞানভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই কেবল হিমালয় অববাহিকার লাখ লাখ মানুষের জীবন ও অর্থনীতি রক্ষা করা সম্ভব।

তৃতীয়ত, এই আগাম সতর্কবার্তাকে কেবল কেন্দ্রীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ না রেখে বাংলাদেশের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মোবাইল ফোন, স্থানীয় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, মাইক, কমিউনিটি নেটওয়ার্ক ও স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে প্রান্তিক পর্যায়ে দ্রুত ছড়িয়ে দেওয়ার মেকানিজম তৈরি করতে হবে।

সর্বোপরি, নদীকে একক দেশের সম্পদ হিসেবে বিবেচনা না করে পুরো অববাহিকাকে একটি সমন্বিত ব্যবস্থার অংশ হিসেবে দেখতে হবে; কারণ সমন্বিত পর্বত উন্নয়নের আন্তর্জাতিক সংস্থা-এর গবেষণাও স্পষ্ট করেছে যে উজানের ভূমি ও পানি ব্যবস্থাপনার সরাসরি প্রভাব বাংলাদেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর পড়ে এবং বন্যা, ভূমিধস বা খরার মতো ভয়াবহ পরিবেশগত ঝুঁকিগুলো কোনো রাজনৈতিক সীমানা মেনে চলে না।

পরিস্থিতি টেকসই রাখতে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বেশকিছু সুপারিশ দ্রুত বাস্তবায়ন করা উচিত। প্রথাগত ও পুরোনো গাণিতিক গড়ের ওপর নির্ভর না করে হিমালয় অঞ্চলের দেশগুলো যৌথভাবে স্যাটেলাইট ডেটা, ড্রোন মনিটরিং এবং পাহাড়ি নদীগুলোয় রিয়েল-টাইম সেন্সর ও পূর্বাভাস ব্যবস্থা চালুর আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে।

সেই সাথে ১৯৯৭ সালের ‘জাতিসংঘ আন্তর্জাতিক নদী অববাহিকা সনদ’-এর ৪ ও ৭ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী উজানের কোনো দেশ যেন ভাটির রাষ্ট্রের ক্ষতি করে এমন পদক্ষেপ গ্রহণ না করে, তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক হাইড্রো-ডিপ্লোমেসি জোরদার করতে হবে। ইউরোপের রাইন বা দানিউব নদীর সমন্বিত যৌথ ব্যবস্থাপনার মতো দক্ষিণ এশিয়াতেও তথ্য আদান-প্রদানের জন্য একটি একক আঞ্চলিক হাইড্রোলজিক্যাল তথ্য প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা একান্ত আবশ্যক।

পরিশেষে বলা যায়, নেপালের হিমবাহ গলন, আকস্মিক বন্যা কিংবা ডেব্রি ফ্লো কোনো একক দেশের আঞ্চলিক দুর্যোগ নয়, বরং এটি সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার জন্য বড় ধরনের জলবায়ু সংকেত। বৈশ্বিক উষ্ণায়নের গতি ত্বরান্বিত হওয়ার এই সময়ে প্রথাগত একক সীমানাভিত্তিক চিন্তা ত্যাগ করে বিজ্ঞানভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই কেবল হিমালয় অববাহিকার লাখ লাখ মানুষের জীবন ও অর্থনীতি রক্ষা করা সম্ভব।

ড. আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার : ডিন, বিজ্ঞান অনুষদ; অধ্যাপক, পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ, স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ; যুগ্ম সম্পাদক, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) এবং চেয়ারম্যান, বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস)