বিজ্ঞাপন

চরমোনাই পীরের হুঁশিয়ারি

জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি না দিলে জনগণ সম্মিলিতভাবে প্রতিহত করবে

জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি না দিলে জনগণ সম্মিলিতভাবে প্রতিহত করবে

জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত না করে নির্বাচন আয়োজন করলে জনগণ তা সম্মিলিতভাবে প্রতিহত করবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করিম (চরমোনাই পীর)।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫৩ বছর পরও দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার, ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদা পূর্ণ হয়নি এবং এজন্য অবিলম্বে পরিবর্তন প্রয়োজন।

শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বাড্ডা ইউলুপ সংলগ্ন মেইন রোডে পাঁচ দফা দাবিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আয়োজিত গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ইসলামী আন্দোলনের আমির।

গণসমাবেশের শুরুতে সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করিম দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা ও স্বাধীনতার পর চলমান ব্যর্থতার কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, স্বাধীনতা অর্জনের সময় আমাদের সামনে তিনটি মৌলিক স্লোগান ছিল– সাম্য, মানবিক মর্যাদা, ন্যায়বিচার। কিন্তু বাস্তবে যেই শক্তি দেশের ক্ষমতা নিয়েছে, তারা একটিও পূর্ণ করতে পারেনি। ৫৩ বছর ধরে যারা দেশ পরিচালনা করছে, তারা মানুষের প্রত্যাশা বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছে।

dhakapost

চরমোনাই পীর বলেন, চব্বিশের ৫ আগস্টের অভ্যুত্থানের পর যে রাজনৈতিক ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে, তা এখন ইসলামের পক্ষের। দেশের মানুষ উপলব্ধি করেছে, আগের শক্তি আবার ক্ষমতায় এলে তারা আবার কী ‘মধু’ খাওয়াবে, তা কোনোদিন মানুষের কল্যাণে পরিণত হবে না।

তিনি আরও বলেন, এই পরিবর্তনের জন্যই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জনগণের কাছে এক সুস্পষ্ট নীতি-আদর্শ উপস্থাপন করেছে। আমাদের নীতি-আদর্শ সর্বশ্রেণির মানুষের অধিকার নিশ্চিত করে–মা, বোন, শ্রমজীবী, ব্যবসায়ী–সবাই যাতে ন্যায়, মর্যাদা ও সাম্যের অধিকার পায়। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের জন্য যেই নীতি-আদর্শ রেখেছেন, তার বাইরে কেউ শান্তি বা মুক্তি কখনো পাবে না। এ কারণেই আমাদের আন্দোলন শুধু রাজনৈতিক নয়, বরং নৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের আন্দোলন।

সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করিম বলেন, আমরা চাই দেশের প্রতিটি নাগরিক যেন তাদের অধিকার বুঝতে পারে। যারা দেশের ক্ষমতা দখল করেছে, তারা জনগণের আশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। এখন পরিবর্তন সময়ের দাবি। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এই পরিবর্তন বাস্তবায়নের জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। আমাদের লক্ষ্য শুধু রাজনৈতিক ক্ষমতা নয়, দেশের প্রতিটি মানুষের ন্যায় ও মর্যাদা নিশ্চিত করা।

সমাবেশে তিনি দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা, নাগরিক অধিকার, নির্বাচনের সুষ্ঠু আয়োজন এবং নৈতিক নেতৃত্বের গুরুত্বকে বিশেষভাবে তুলে ধরেন। তিনি জানান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঐক্যবদ্ধভাবে নীতি-আদর্শের পথে জনগণের অধিকার রক্ষা ও দেশের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য কাজ করে যাবে।

টিআই/এসএসএইচ