তারেক রহমানের সঙ্গে বাম গণতান্ত্রিক জোটের বৈঠক

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতারা। সোমবার (৫ জানুয়ারি) গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা, অর্থনৈতিক অবস্থা, আসন্ন সংসদ, উগ্রবাদের উত্থান, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন প্রভৃতি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকের পরে বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, প্রধানত বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তার সন্তান হিসেবে এবং পরিবার বর্গকে আমরা সমবেদনা জানাতে গিয়েছি। তারেক রহমান দীর্ঘদিন দেশের বাইরে ছিলেন, আসার পরে মাতৃবিয়োগ শোকাহত পরিবার ও দল সেটাকে আমরা সহমর্মিতা, সমবেদনা এগুলো জানাতে গিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, এর বাইরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, আসন্ন নির্বাচন ইত্যাদি বিষয়ে। এখানে এই যে মৌলবাদ, সাম্প্রদায়িক শক্তি তাদের যে আস্ফালন… এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
‘একাত্তর আমাদের ভিত্তি’
বজলুর রশীদ বলেন, উনি (তারেক রহমান) একটা জিনিস বলছেন, আমি তো ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার পরেই আমি বক্তব্যে যেটা বলছি যে, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ হলো আমাদের ভিত্তি। মুক্তিযুদ্ধকে বাদ দিলে বাংলাদেশের অস্তিত্ব থাকে না। কাজেই সেটা ৯০ এর গণঅভ্যুত্থান এবং ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের যে আকাঙ্ক্ষা সেগুলোকে ধরেই আমাদেরকে অগ্রসর হতে হবে।
এই বামপন্থি নেতা বলেন, উনি যেটা বলছেন, একটা বিশ্বাসী থাকবে, অবিশ্বাসী থাকবে, সংশয়বাদী থাকবে সবাইকে নিয়েই আমাদের এখানে চলতে হবে। আমরা একটি উদার গণতান্ত্রিক কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের পরিকল্পনা আছে। আমরা সেইভাবেই কাজ করতে চাই এবং অতীত থেকে আমরা শিক্ষা নিতে চাই এবং জনগণ আমাদের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু। মানুষের যাতে সুবিধা হয়, সুযোগ সুবিধাগুলো উপভোগ করতে পারে সেটা শুধু পরিকল্পনা না, তা ইমপ্লিমেন্টেশনের দিকেও যেতে চাই।
ফিরোজা রশীদ বলেন, উনি (তারেক রহমান) বলেছেন, আমাদের বিরোধী দল থাকবে। আপনাদের সঙ্গে হয়ত অনেক বিষয় আমাদের মতপার্থক্য আছে, থাকবে কিন্তু আবার দেশের প্রশ্নে জনগণের প্রশ্নে সেগুলো নিশ্চয়ই বিনিময় করব। মাঝে মধ্যে আপনাদের পরামর্শ থাকলে আমাদের দেবেন… আমরা যেটা গ্রহণ করার। এরকম যে একটা সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ গড়ে উঠুক।
‘আমরা বলছি যে একটা পলিটিক্যাল কালচার এখানে গড়ে তোলা দরকার যে, রাজনৈতিক সহনশীলতা, পরমত সহিষ্ণুতা, ফিলোসফিকাল টলারেন্স যেটা গণতন্ত্রের একটা পূর্ব শর্ত এবং সেখানে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সেগুলোর কথা বললাম।’
বজলুর রশীদ বলেন, আমরা বলছি, একাত্তর সালের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী শক্তি স্বাধীনতা বিরোধী, তারা যাতে বাংলাদেশের মধ্যে রাজনীতিতে না করতে পারে। জামায়াতে ইসলামী তারা এসে বললো যে জাতীয় সরকারের থাকবে। উনি (তারেক রহমান) এটা বললেন যে, আমাদের এর সঙ্গে এই বিষয়ে কোনো কথা হয় নাই। বাইরে তারা এটা বলছেন। আমাদের সঙ্গে এখানে এই বিষয় নিয়ে কোনো কথা বলে নাই। শুধু বলছে যে দেশের প্রশ্নে স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সেখানে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে সেটুকু কথা হয়েছে।
‘সমালোচনা অবশ্যই থাকবে’
বজলুর রশীদ বলেন, আমরা বলছি, আজকে আপনাদের সঙ্গে কথা বলছি এটা শোকের পরিবেশ কিন্তু সরকারে যদি আপনারা যান আমরাই হয়ত বেশি সমালোচনা করব আপনাদের। উনি বলেছেন, হ্যাঁ অবশ্যই সমালোচনা তো থাকবেই। সমালোচনা না করলে তাহলে আর গণতন্ত্র হল কেমনে? সমালোচনাও থাকবে আবার আলোচনাও হবে। ভবিষ্যতে আরও কথা হবে দেখা হবে, আলোচনা হবে এটা যাতে অব্যাহত থাকে সবার সঙ্গেই।
এর আগে প্রয়াত খালেদা জিয়ার শ্রদ্ধা জানিয়ে শোক বইতে বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতারা স্বাক্ষর করেন।
বৈঠকে ছিলেন সিপিবির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন, সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল ক্কাফী রতন, বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ, সহকারী সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন, বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, স্থায়ী কমিটির সদস্য মোস্তাক হোসেন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক পার্টির নির্বাহী সভাপতি আব্দুল আলী, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার ও বাসদ (মার্ক্সবাদী) সমন্বয়ক মাসুদ রানা।
এএইচআর/এমএন