প্রশাসন একপেশে হলে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয় : জামায়াত

প্রশাসন যদি একপেশে আচরণ করে তাহলে এদেশে কখনই গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
দলটি বলছে, আসন্ন নির্বাচনকেন্দ্রিক দেশে এখনও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হয়নি। প্রশাসন নিরপেক্ষ না থাকলে, সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে কার্যকর অভিযান না চালালে এবং সব দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত না হলে, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন সম্ভব নয়।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি মাওলানা এটিএম মা’ছুম। বৈঠক পরিচালনা করেন সদস্যসচিব মাওলানা আবদুল হালিম। কমিটির সদস্যবৃন্দ সভায় উপস্থিত ছিলেন।
মাওলানা আ ফ ম আবদুস সাত্তারের পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে বৈঠক শুরু হয়। শুরুতেই উদ্বোধনী বক্তব্য দেন মাওলানা এটিএম মা’ছুম। তিনি বলেন, নির্বাচনী কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করতে সংগঠনকে প্রস্তুত রাখার বিকল্প নেই। সেই লক্ষ্যেই বৈঠক থেকে একাধিক সাব-কমিটি গঠন, দায়িত্ব বণ্টন এবং কমিটিতে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়েছে।
বৈঠকে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বিচারহীনতা ও প্রশাসনিক পক্ষপাতের প্রশ্ন গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে। নেতারা বলেন, সাম্প্রতিক প্রশাসনিক ভূমিকা ও আচরণে একপেশে ঝোঁকের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, যা নির্বাচনী পরিবেশের জন্য অশনিসংকেত। তারা আরও বলেন, সব রাজনৈতিক দলের জন্য ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ এখনো নিশ্চিত হয়নি। এই বাস্তবতায় অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের শর্ত পূরণ হচ্ছে না।
সভায় ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার না পাওয়ার প্রসঙ্গও সামনে আনা হয়। নেতারা বলেন, দেশবাসী এখনো সেই হত্যার ন্যায়বিচার পায়নি। সন্ত্রাস দমনে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। মানুষ হত্যার ঘটনা ঘটছে, অথচ চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। একই সঙ্গে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে উল্লেখযোগ্য সাফল্য না থাকার অভিযোগ তুলে বলা হয়, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ফাঁক থেকে যাচ্ছে।
জামায়াতের নেতারা বলেন, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিতের পূর্বশর্ত প্রশাসনের পূর্ণ নিরপেক্ষতা, চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে দৃশ্যমান ও ধারাবাহিক অভিযান। কিন্তু এখন পর্যন্ত এসব ক্ষেত্রে কার্যকর তৎপরতা জনগণের সামনে দৃশ্যমান হয়নি।
তারা আরও বলেন, প্রশাসনের পক্ষপাত বন্ধ না হলে এবং নিরাপত্তা ব্যর্থতার ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে নির্বাচন নিয়ে জনআস্থা গড়ে উঠবে না। আর জনআস্থা ছাড়া নির্বাচন, কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা; গ্রহণযোগ্যতা নয়।
বৈঠক শেষে কমিটির পক্ষ থেকে কয়েকটি দাবি পুনর্ব্যক্ত করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা, চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তার, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান জোরদার করা এবং সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগের পরিবেশ তৈরি করা।
নেতারা বলেন, এখনো সময় আছে পরিস্থিতি সংশোধনের। কিন্তু সেই সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। নির্বাচনী ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষা করা না গেলে, রাজনৈতিক সংকট আরও তীব্র ও গভীর হবে।
টিআই/এমএসএ