জামায়াত নেতা খুনের ঘটনা প্রমাণ করে নিরাপত্তা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে

ঢাকা মহানগর উত্তরের শের-ই বাংলানগর দক্ষিণ থানা জামায়াতে ইসলামীর পশ্চিম রাজাবাজার ওয়ার্ডের সহ-সভাপতি হোমিও ডাক্তার আনোয়ারুল্লাহকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এক বিবৃতিতে বলেন, গত সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে ঢাকা মহানগর উত্তরের শের-ই-বাংলা নগর দক্ষিণ থানা জামায়াতে ইসলামীর পশ্চিম রাজাবাজার ওয়ার্ডের সহ-সভাপতি হোমিও ডাক্তার আনোয়ারুল্লাহকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনার আমি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, এই বর্বর হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই একটি সাধারণ চুরি বা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি একটি পরিকল্পিত ও ঠান্ডা মাথার হত্যাকাণ্ড। এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রমাণিত হয় জনগণের নিরাপত্তা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। এর দায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিতরা কিছুতেই এড়াতে পারেন না। ভোররাতে একটি আবাসিক এলাকায় গ্রিল কেটে দীর্ঘ সময় ধরে বাসার ভেতরে অবস্থান করে একজন মানুষকে হত্যা করা এবং নির্বিঘ্নে পালিয়ে যাওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও আতঙ্কজনক।
এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, নিহত আনোয়ারুল্লাহ ছিলেন একজন মানবিক হোমিও চিকিৎসক এবং সমাজসেবায় নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তি। তাকে হত্যার আগে হত্যাকারীদের কথোপকথন ও আচরণ থেকে স্পষ্ট হয়, এটি কেবল লুটপাট নয়, বরং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হত্যাকাণ্ড। আমরা আশঙ্কা করছি, এর পেছনে গভীর ষড়যন্ত্র লুকিয়ে থাকতে পারে।
আমি অবিলম্বে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের একটি নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত হত্যাকারী ও পরিকল্পনাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। একইসঙ্গে নিহতের পরিবারসহ দেশবাসীর যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছি।
আমরা মনে করি, রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে কোনো নাগরিকের জীবন নিরাপদ না থাকলে রাষ্ট্র তার মৌলিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হচ্ছে। সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এ ধরনের নির্মম হত্যাকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
জেইউ/এমএন