আসন সমঝোতা নিয়ে অনিশ্চয়তা, শিগগিরই অবস্থান জানাবে ইসলামী আন্দোলন

নির্বাচনী আসন সমঝোতা ও জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে সৃষ্ট অনিশ্চয়তার মধ্যে নিজেদের চূড়ান্ত অবস্থান স্পষ্ট করতে যাচ্ছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
আগামী দু-এক দিনের মধ্যে দলটি তাদের নির্বাচনী রূপরেখা ও ‘ওয়ান বক্স পলিসি’ বাস্তবায়নের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবে।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুরে দলের কেন্দ্রীয় মজলিশে আমেলার জরুরি বৈঠক শেষে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, ‘আমরা নির্বাচনী পরিস্থিতি ও জোটভুক্ত দলগুলোর আচরণ বিশ্লেষণ করছি। আগামী দু-এক দিনের মধ্যেই আমাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে। আমরা এখনো আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি এবং একটি যৌক্তিক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারব বলে আশা করি।’
গাজী আতাউর রহমান জানান, গত ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতিতে ইসলামপন্থি শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করতে পীর সাহেব চরমোনাই ‘ওয়ান বক্স পলিসি’ বা এক বাক্স নীতি ঘোষণা করেছিলেন। লক্ষ্য ছিল সারা দেশে ইসলামপন্থিদের একক প্রার্থী নিশ্চিত করা। কিন্তু ২৯ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিন পর্যন্ত জোটের শরিকদের মধ্যে একক প্রার্থী নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। এমনকি শরিক দলগুলো একে অপরকে ছাড় দিলেও কোনো আসনেই ইসলামী আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থীদের জন্য ছাড় দেওয়া হয়নি।
উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার রাত ১২টা পর্যন্ত দলের জেলা সভাপতি, সেক্রেটারি, মনোনীত প্রার্থী, মজলিশে শূরা ও উপদেষ্টা পরিষদের সঙ্গে দীর্ঘ সাত ঘণ্টা আলোচনা করেছে ইসলামী আন্দোলন। বর্তমান সংকটের কথা উল্লেখ করে দলটির মুখপাত্র বলেন, ‘সমঝোতা মানে হলো কেউ কারও ওপর ডমিনেট করবে না। কিন্তু আমরা দেখছি, আসন বণ্টন চূড়ান্ত হওয়ার আগেই কিছু দল সারা দেশে নিজেদের প্রার্থী ঘোষণা করে মিষ্টি বিতরণ করছে। সেখানে ইসলামী আন্দোলনের জন্য কোনো আসন রাখা হয়নি। এমন অবহেলা বা অসম্মান আমরা স্বাভাবিকভাবে নিতে পারি না।’
১১ দলীয় জোট থেকে ইসলামী আন্দোলন বেরিয়ে গেছে কি না– এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়া বা কাউকে বের করে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি। তবে আমরা আমাদের আত্মসম্মানবোধ বজায় রেখে রাজনীতি করি। কোনো চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত আমরা মানব না।’
নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন মহলের জনমত জরিপকে ‘বিভ্রান্তিকর’ ও ‘ভাওতাবাজি’ হিসেবে অভিহিত করেন গাজী আতাউর রহমান। তিনি বলেন, ঐক্য রক্ষার চেষ্টা এখনো অব্যাহত আছে, তবে সবকিছুর ঊর্ধ্বে দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে এবং সবার সঙ্গে আলোচনা করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
জেইউ/বিআরইউ