এখনো আশাবাদী জামায়াত, এক বক্স নীতিতে ফিরবে ইসলামী আন্দোলন

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জোট বর্জনের সিদ্ধান্তকে মূল্যায়ন করে শেষ সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
জামায়াত আমিরের নির্বাচনী সফর এবং পরবর্তী দলীয় করণীয় নির্ধারণে জরুরি বৈঠকে বসেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় রাজধানীর মগবাজারে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠক শুরু হয়। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী বৈঠক এখনো চলছে বলে জানা গেছে।
বৈঠকের বিরতিতে দুপুরে ব্রিফকালে এক বক্স নীতিতে ইসলামী আন্দোলনের ফেরার অপেক্ষার কথা বলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
বৈঠকে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের অন্য সদস্যরা উপস্থিত রয়েছেন।
১১ দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে গেছে ইসলামী আন্দোলন। এজন্য তিনটি অভিযোগ জামায়াতের বিরুদ্ধে তুলেছে তারা। সে ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা ১১ দল এখন ১০ দল। উনাদের (ইসলামী আন্দোলন) জন্য তো আমরা আসন রেখেছি, আমরা চেয়ারও রেখেছিলাম। আসনও আমরা ঘোষণা দিয়েছিলাম যে এতটা আসন আছে। বাক্স তো একটা এখনো আছে, এখনো সময় আছে। সেই সময় এখনো শেষ হয়ে যায়নি।
ইসলামী আন্দোলন বলছে, যে আকাঙ্ক্ষা ছিল সেই আকাঙ্ক্ষা বা ওয়ান বক্স পলিসি, সেখান থেকে জামায়াত সরে গেছে। আপনারা কি দূরে সরে গেছেন? এক বক্স নীতিতে কি জামায়াত আন্তরিক– জানতে চাইলে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, এখনো তো আমরা এক বক্স নীতিতে আছি। সবাই আমরা এক বাক্সেই ভোট দেব। সেই নীতিতে আমরা এখনো আছি।
ইসলামী আন্দোলনের জন্য ফাঁকা রাখা ৪৭ আসনের ব্যাপারে কী সিদ্ধান্ত হচ্ছে– জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের আন্দোলনরত যে ১০টি দল নির্বাচনী ঐক্য প্রক্রিয়ায় আছে তার একটা লিয়াজোঁ কমিটি আছে। সেই লিয়াজোঁ কমিটি এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত। উনারা আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্তগুলো বা তাদের প্রস্তাবনাগুলো শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে জানাবেন, তারপরে সিদ্ধান্ত হবে।
নির্বাহী পরিষদের বৈঠক সম্পর্কে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, সকাল থেকে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের একটি অধিবেশন আরম্ভ হয়েছে। এই অধিবেশনটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বাংলাদেশে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ নির্বাচন এবং এর পাশাপাশি গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। আজকের এই মিটিং আমাদের দিনব্যাপী চলবে, অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা রয়েছে। এর মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পর্কিত প্রস্তুতির বিষয় আছে। অনেকগুলো মৌলিক সিদ্ধান্ত আজকের অধিবেশনে নেওয়া হবে। একইসঙ্গে আগামী ২২ তারিখ থেকে নির্বাচনী কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে আরম্ভ হচ্ছে। ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ হবে। এরপর থেকেই কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ দেশব্যাপী সফর করবেন। এই সফরসূচি আমাদের আজকে এখানে ফাইনাল হবে।
আজকের নির্বাহী পরিষদের বৈঠকেই জামায়াতে ইসলামীর ম্যানিফেস্টো চূড়ান্ত করা হবে বলে জানান তিনি। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, আমাদের সবগুলো কমিটি রিপোর্ট জমা দিয়েছে। আজ সেই ম্যানিফেস্টো এখানে অনুমোদন হবে।
এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, আমাদের গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি মিটিং আছে আগামী ২০ জানুয়ারি। সেখানে আমরা আমাদের পলিসি পেপার প্রেজেন্টেশন করব। আজ প্রায় ১৯টি মৌলিক বিষয়ে আমাদের পলিসি পেপার প্রেজেন্টেশন হচ্ছে। আমাদের নির্বাহী কমিটির সদস্যদের পাশাপাশি আমরা আমাদের এক্সপার্টদেরকে এখানে দাওয়াত দিয়েছি। বিভিন্ন টিম, তারা যে পলিসি পেপার তৈরি করেছে, সেটা আজ এখানে তারা প্রেজেন্টেশন করছে। যেটা ফাইনালি আমরা আগামী ২০ জানুয়ারি আপনাদের সামনে প্রেজেন্ট করব ইনশাআল্লাহ। এছাড়াও আমাদের আরও কিছু সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের বিষয় আছে।
নির্বাচনী সফর সম্পর্কে তিনি বলেন, ২২ জানুয়ারি থেকে দেশব্যাপী সফর আরম্ভ হবে। সে বিষয়ে আমরা গতকাল বলেছি যে, ২২ জানুয়ারি ঢাকা মহানগরে সময় দেবেন এবং নির্বাচনী কার্যক্রম আরম্ভ করবেন। ২৩ ও ২৪ তারিখ– এই দুই দিন উত্তরবঙ্গ সফর করবেন। তার একটা খসড়া আমরা এখানে দিয়েছি। এ ছাড়া বাকি যে সমস্ত সফরের খসড়া প্রস্তাব তৈরি হয়েছে, আজ এটা চূড়ান্ত হয়ে গেলে আমরা আপনাদেরকে সেটাও অবহিত করব।
জামায়াতের এ নেতা বলেন, আমাদের ম্যানিফেস্টো প্রকাশেরও একটা সম্ভাব্য সময় আমরা ঠিক করেছি। ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম দিকেই… সম্ভাব্য তারিখ হচ্ছে ১ তারিখ। আমরা আজ এটা বৈঠকে উপস্থাপন করব। সিদ্ধান্ত হবে কখন কোথায় উপস্থাপন করব, সেটা আপনাদের জানাব। প্রাথমিকভাবে যে বিষয়গুলো প্রস্তাব আকারে এসেছে আজকের বৈঠকে চূড়ান্ত হলে আপনাদের বাকিটা অবহিত করা হবে।
জেইউ/এসএসএইচ