কদমতলীতে গণসংযোগকালে জামায়াত নেত্রীকে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ

ঢাকা-৪ সংসদীয় আসনে গণসংযোগকালে জামায়াত নেত্রীকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে যুবদল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতে ইসলামী।
জামায়াত নেতাকর্মীরা অভিযোগ করে বলেন, ঢাকা-৪ সংসদীয় আসনে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী সৈয়দ জয়নুল আবেদীনের পক্ষে প্রচারণার সময় জামায়াত নেত্রী কাজী মারিয়া ইসলাম বেবিকে রামদা দিয়ে কুপিয়ে জখম করে যুবদলের নেতাকর্মীরা।
বুধবার(২৮ জানুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে কদমতলী ৫২নং ওয়ার্ডের ডিপটির গলির কাইল্লা পট্টিতে এ ঘটনা ঘটে।
জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা-৪ আসনের জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন।
যৌথ বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, নির্বাচনী প্রচারণায় এক প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের ওপর অন্য প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের হামলা চালানোর ঘটনা নির্বাচনকে বানচাল করার ষড়যন্ত্রের অংশ। যারা ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ভরাডুবির পর শাকসু নির্বাচন বন্ধ করতে নির্বাচন কমিশন ঘেরাও করেছে, তারাই সংসদ নির্বাচনে পরাজয়ের ভয়ে নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছে। তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না বলেই বিরোধী দলমত সহ্য করতে পারে না। তারা একটি প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় যেতে চায়। সেজন্য তারা নির্বাচনে প্রতিপক্ষকে দমন করার চেষ্টা করছে এবং প্রতিপক্ষের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা চালিয়ে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ধ্বংস করতে চাইছে।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, সর্বস্তরের সব দল ও প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ-সুবিধা বা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত না থাকায় সারাদেশে একটি দলের নেতাকর্মীরা জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য দলের প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। প্রশাসনের নীরব ভূমিকায় জনমনে সংশয় সৃষ্টি হচ্ছে। প্রশাসন নিরপেক্ষতা হারালে জনগণ রাজপথে নেমে আসতে বাধ্য হবে।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই যে দলের নেতাকর্মীদের কাছে মা-বোনেরা নিরাপদ নন, তারা ক্ষমতায় গেলে মানুষের জান-মালের কোনো নিরাপত্তা থাকবে না। নির্বাচনী প্রচারণায় প্রতিপক্ষের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলার ঘটনায় নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘিত হলেও কমিশন ও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিতে না পারায় নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, যদি কমিশন ও প্রশাসন কোনো দলের পক্ষপাতিত্ব করে, তবে জামায়াতে ইসলামী জনগণের স্বার্থে অবস্থান নিতে বাধ্য হবে।
এই অমানবিক ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্ত্রাসীদের অনতিবিলম্বে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করতে হবে।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সহকারী মিডিয়া সম্পাদক আশরাফুল আলম ইমন জানান, বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকা-৪ সংসদীয় এলাকার ৫২নং ওয়ার্ডে মুরাদনগরের ডিপটির গলির কাইল্লা পট্টিতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে গণসংযোগ করার সময় জামায়াত নেত্রী কাজী মারিয়া ইসলাম বেবির (৫২) ওপর ঢাকা-৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী তানভীর আহমেদ রবিনের চাচাতো ভাই ও যুবদল নেতা রমজানের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা রামদাসহ ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা করে।
সন্ত্রাসীরা রামদা দিয়ে তার মাথায় আঘাত (কোপ) করলে তিনি ঘটনাস্থলে অচেতন হয়ে পড়েন এবং স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে তার মাথায় চারটি সেলাই করতে হয়। তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ডিএমপির ওয়ারী বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী ঢাকা পোস্টকে বলেন, আজ দুপুরে নির্বাচনী গণসংযোগকালে পেছন থেকে এক নারীর মাথায় বটি ও দা দিয়ে আঘাতের ঘটনা ঘটেছে। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে— ওই নারী তাদের দলীয় নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়েছিলেন। অভিযোগের বিষয়টি আমলে নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি। ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।
জেইউ/এমজে